জ্বলছে সুন্দরবন : বাতাসে বাড়ছে আগুন

sundorbon firপূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ১৫ একর এলাকা জুড়ে এখনো বিক্ষিপ্তভাবে আগুন জ্বলছে। বাতাসের কারণে এ আগুন কিছু কিছু অংশে বাড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস ও বনকর্মীরা। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাদঁপাই রেঞ্জের গুলিশাখালী ও আমুরবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের মাঝামাঝি এলাকার গহীন অরণ্যের বাইশেরছিলায় বুধবার বিকালে লাগা আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি, বরং তা আশপাশের বনে ছড়িয়ে পড়ছে।
বুধবার রাত থেকে মোড়েলগঞ্জ দমকল বাহিনী ও বনবিভাগের শতাধিক লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছেন। তবে এখনো সুন্দরবনের ভেতর থেকে আগুন বিক্ষিপ্তভাবে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে মাটি কেটে নালা তৈরি করে ফায়ার লাইন বানিয়ে তাতে পানি ভরে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সামান্য বাতাসেই আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে বৃহস্পতিবার বিকালে সুন্দরবনে আগুন নিয়ন্ত্রণ কাজে নিয়োজিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তবে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও আমির হোসাইন চৌধুরী আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
বিকাল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে আগুন নিভানোর কাজে নিয়োজিত মোড়েলগঞ্জ দমকল বাহিনীর স্টেশন কর্মকর্তা আরিফুল হক মোবাইল ফোনে নতুন বার্তা প্রতিবেদককে জানান, আগুনে সুন্দরবনের আট/নয় একর জমি পুড়ে গেছে। এখন জমির উপরে দৃশ্যমান আগুন দেখা না গেলেও কিছুক্ষণ পর পর ধোয়ার কুণ্ডুলি পাকিয়ে আগুন বিভিন্ন জায়গায় জ্বলে উঠছে। তাই গাছের নিচে শিকড়ে লাগা আগুন নেভাতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, আগুন পুরোপুরি নেভাতে আরো সময় লাগবে।
তবে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের যে অংশে আগুন লেগেছিল তা সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন বাড়তি সর্তকতা হিসেবে দমকল বাহিনীর একটি দল আগুন লাগা অংশের আশপাশের এলাকাগুলো পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে এবং লাইন অব ফায়ার (নালা) কেটে দিচ্ছে যেন পরে আগুন আরো ছড়িয়ে না পরে।
ডিএফও আরো জানান, আগুন যেন বনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সাড়ে তিন একর এলাকা জুড়ে ফায়ার লেন কেটে দেয়া হয়েছে। প্রায় একশ’ গজ দূরে একটি নালা থেকে পানি নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগের ৬০ সদস্যের একটি দল বুধবার বিকাল থেকে আগুন নেভানোর  জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগুনে এরই মধ্যে প্রায় তিন একর বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনে বনের ওই এলাকার কিছু বলা গাছও পুড়ে গেছে বলেও ডিএফও স্বীকার করেন।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- ঢাংমারী স্টেশন অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম ও জিউধরা স্টেশন অফিসার সুলতান মাহমুদ। কমিটিকে আগামী সাতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিয়ে ১৭ বার এই বিভাগের আওতাধীন বনের গভীরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ বুধবার বিকালে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাদঁপাই রেঞ্জের গুলিশাখালী ও আমুরবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের মাঝামাঝি বাইশেরছিলা এলাকার গহীন অরণ্যে বনজীবীরা আগুন দেখতে পান। পরে তারা সুন্দরবনের গাছপালায় করে আগুন জ্বলতে দেখে বন বিভাগকে খবর দেন।
কোন বনজীবীর ফেলে আসা আগুন, বিড়ি-সিগারেটের আগুন কিংবা রান্নার আগুন অথবা মৌয়ালদের অসাবধানতার কারণে এই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আরিফুল হক। মুঠোফোনে তিনি জানান, ইতিমধ্যে বনের আট-নয় একর জমি ও এর গাছপালা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s