News (খবর)

বিদ্যুৎ-সংকট নিয়ে মহাজোট এমপিদের ক্ষোভ


shongshadদেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় স্থানীয় জনগণের রোষানলে পড়তে হচ্ছে বলে  উল্লেখ করেন তারা।
জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক বলেছেন, ‘পরিস্থিতি একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে খাম্বা ও লাইন ছিল। বিদ্যুৎ ছিল না। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।’
সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ নিয়ে ক্ষোভ জানান আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য আবদুল মান্নান, শহীদুজ্জামান সরকার, হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ মজুমদার, জয়নাল আবেদীন ও মো. শফিকুল ইসলাম।
তারা বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় এলাকায় জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। আগামী নির্বাচনে এর বিরুপ প্রভাব পড়বে। তারা এই খাতে আগামী বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দও দাবি করেন।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছেন, বিদ্যুতের সিস্টেম লসের কারণে বছরে প্রায় ৩৪২ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এ পর্যন্ত তিন হাজার ৮৪৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৪টি বিদ্যুত কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে। আর দেশে দুই লাখ ৮২ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন চালু রয়েছে।
এইচএম গোলাম রেজার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুতের সিস্টেম লস শতকরা ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এরমধ্যে বিতরণের ক্ষেত্রে লসের পরিমাণ ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অবশিষ্ট ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ লস হচ্ছে সঞ্চালনে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদ্যুত বিভাগের সক্ষমতা ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে উৎপাদন করা যায় ৬ হাজার ৫৮০ মেগাওয়াট। আর ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১৮শ মেগাওয়াট পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।
শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর যে ঘোষণা ছিল ২০১১ সালের মধ্যেই ৫ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০১৩ সালে ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। যে ঘোষণার বাস্তবায়ন করতে পেরেছি আমরা। এখনও দেশের ৪৩ শতাংশ লোকের বিদ্যুৎ নেই। এর জন্য সময় লাগবে। আমরাও ভুক্তভোগী। আমাদের এলাকাতেই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। মন্ত্রণালয় সব সময় চেষ্টা করছে।
মন্ত্রী বলেন, “সব কিছুই মন্ত্রণালয়ের হাতে নয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ১৮ লাখ গ্রাহককে সংযোগ দেয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত এক হাজার ৬৬২ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে ১৮ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে।”
অপু উকিলের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, কৃষিকাজসহ দেশে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিন হাজার ৮৪৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আট হাজার ৫২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ হাজার ৪৩৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।
বিএনপির অনুপস্থিত সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুতের বিক্রির মূল্য ও সরবরাহ ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্যের কারণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত অর্থ বছরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে ছয় হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে এর পরিমাণ হবে পাঁচ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s