International (আন্তর্জাতিক)

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার দ্বিমুখী আচরণ করছে


BurmaRohingyaRefugees rohinaমিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উগ্র বৌদ্ধদের হামলার শিকার হয়ে শরণার্থীতে পরিণত হওয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানের জন্য সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে।
বৌদ্ধ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যাদের ওপর রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রকৃত অবস্থা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই কমিটিও গতকাল (সোমবার) এক বিবৃতিতে যতদ্রুত সম্ভব ঘরবাড়ি হারা হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে। এ ছাড়া, মুসলমানদের ওপর উগ্র বৌদ্ধদের হামলা ঠেকানোর জন্য সহিংসতা কবলিত এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও আহবান জানানো হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।
এদিকে, মিয়ানমার সরকার মুসলমানদের ওপর উগ্র বৌদ্ধদের সহিংসতা ঠেকানোর জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা জানিয়েছে। এ অবস্থায়  তদন্ত কমিটি অস্থায়ীভাবে মুসলিম এলাকাগুলোকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার পদক্ষেপ নিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন যাতে রাখাইন প্রদেশে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ও নব গঠিত বৌদ্ধ মুসলিম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে অভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে।
গত মাসে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের আদালতে সাতজন মুসলমানের বিচার চলছে। অথচ উগ্র বৌদ্ধরা যে শত শত মুসলমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে সরকার সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে এবং একজন বৌদ্ধকেও এ পর্যন্ত বিচারের সম্মুখীন করা হয়নি। এ থেকেই মুসলমানদের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের দ্বিমুখী আচরণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং প্রমাণিত হয়েছে সরকার ন্যায়বিচার করছে না।
মিয়ানমার সরকার দশ লাখ  অধ্যুষিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিক অধিকার ও তাদেরকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তারা যারা কিছুদিন আগেও ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন তারা এখন ইউরোপ ও আমেরিকার কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার জন্য পাশ্চাত্যের দিকে হাত বাড়িয়েছে এবং নিজেদেরকে পাশ্চাত্যপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কিছুদিন আগেও যারা নিজেদেরকে চীনপন্থী হিসেবে প্রচার চালাতো তারা এখন নিজেদেরকে মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে যাতে পাশ্চাত্যের আনুকূল্য পাওয়া যায়।
মিয়ানমার বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় সহযোগিতা সংস্থা আসিয়ানের সদস্য এবং এ জোটের বাইরে নিজ ইচ্ছামত তারা চলতে পারবে না। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাই মিয়ানমার সরকারের সাম্প্রতিক নীতি অবস্থান এরই আলোকে মূল্যায়ন করা যায়।  জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সর্ববৃহত মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বাম বাং মিয়ানমারে মুসলিম বিরোধী সহিংসতা অব্যাহত থাকার পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। আসিয়ানের অন্যতম প্রভাবশালী এ দেশটির হুমকি দেয়া থেকে বোঝা যায় মিয়ানমার সরকার মুসলমানদের ব্যাপারে দ্বিমুখী নীতি বেশিদিন বজায় রাখতে পারবে না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s