হিজড়া কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?


hizra1 নারীও নয় আবার পুরুষও নয়- এধরনের একটি শ্রেণীকে আমরা প্রায়ই রাস্তাঘাটে কিংবা দোকানপাটে বিভিন্নরকম অঙ্গভঙ্গি করে চাঁদা তুলতে দেখি। আমরা যারা সভ্যসমাজের মানুষ, তারা এই অবহেলিত শ্রেণীটিকে ‘হিজড়া’ বলে ডাকি। হিজড়া নারী আর পুরুষের মত নয়, হিজড়াদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হিজড়া শব্দকে তারা অভিশাপ বা গালি হিসেবে মনে করেন। আসলে তারা হচ্ছেন, ট্রানজেন্ডার। প্রকৃতির নিয়তিতেই এরা স্বাভাবিক মানুষের পরিবর্তে হিজড়ায় রূপান্তরিত হয়। ঠিক যেমনটি ঘটে থাকে একজন প্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, প্রতিবন্ধীদের জন্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে এবং তাদেরকে সমাজের মূলস্রোতের অন্তর্ভূক্ত করতে নানারকম সরকারি-বেসরকারি আন্দোলন ও পদক্ষেপ দৃষ্টিগোচর হলেও হিজড়াদের কল্যাণে এরকম কোনো কর্মসূচি চোখে পড়ে না আমাদের দেশে। সভ্যসমাজ থেকে একপ্রকার নির্বাসিত এই শ্রেণীটি তাই বিকৃত মানসিকতা নিয়ে গড়ে ওঠে। পেটের তাগিদে জড়িয়ে পড়ে নানারকম অপরাধমূলক কার্যক্রমে। অথচ ‘মানুষ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এসব হিজড়াদের সামাজিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে পারলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
‘কোথা কবে রই ঘর জন ছেড়ে ঘুরি পথ পানে। খুঁজে ফিরি ধুঁকে ধুঁকে জীবনের মানে। তোমাদের মত আমরা যদিও নই, তবুও মানুষ। এই কথাগুলো হিজড়াদের মুখের ভাষা।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৃথিবীতে দুই ধরনের হিজড়া রয়েছে। পুরুষের মতো শারীরিক গঠন আর মানসিকভাবে নারীর স্বভাব, তাদেরকে অকুয়া বলা হয়। এছাড়া, অন্য প্রকৃতির যারা তাদেরকে জেনেনা বলা হয়। অকুয়া ও জেনেনা জাতির হিজড়া হচ্ছে প্রকৃতির সৃষ্টি।
gender logo-041 (hizra)চিকিৎসকরা জানান, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ডিম্বাণূু ও শুক্রাণু এক্স-এক্স প্যাট্ার্নে কণ্যা শিশু আর এক্স-ওয়াই প্যাটার্নে পুত্র শিশুর জন্ম গ্রহণ করে। জরায়ূতে ভ্রুনের বিকাশ হওয়ার সময় মায়েদের বিভিন্ন প্রকার শারীরিক ও মানুষিক সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। আর এক্স- এক্স- ওয়াই, আবার এক্স-ওয়াই-ওয়াই এর প্যার্টার্নে ছেলে বা মেয়ে হয়ে থাকে। এরপর জেনেটিক পরির্বতনের কারণে হিজড়ায় পরিণত হয়।
হিজড়া এর প্রকারভেদ :
শারীরিক ও মানসিক গঠনের উপর নির্ভর করে এদেরকে ৬ ভাগে ভাগ করা যায়। শারীরিক ভাবে পুরুষ কিন্তু মানষিক ভাবে নারী বৈশীষ্ট্য এর অধীকারী হিজড়াদের বলা হয় অকুয়া, অন্য হিজড়াদের ভরা হয় জেনানা, আর মানুষের হাতে সৃষ্ট বা ক্যাসট্রেড পুরুষদের বলা হয় চিন্নি।

হিজড়ার বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা : এক্স এক্স প্যাটার্ন ডিম্বানুর সমন্বয়ে কন্যা শিশু আর এক্স ওয়াই প্যাটার্ন থেকে সৃষ্ট হয় ছেলে শিশু। ভ্রুনের পূর্ণতার স্তর গুলোতে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে ছেলে শিশুর মধ্যে অন্ডকোষ আর কন্যা শিশুর মধ্য ডিম্ব কোষ জন্ম নেয়। অন্ডকোষ থেকে নিসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্ব কোষ থেকে নিসৃত হয় এস্ট্রোজেন। ভ্রুনের বিকাশকালে নিষিক্তকরন ও বিভাজনের ফলে বেশকিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সৃষ্টি হয় যেমন এক্স এক্স ওয়াই অথবা এক্স ওয়াই ওয়াই। এর ফলে বিভিন্ন গঠনের হিজড়া শিশুর জন্ম হয়।
অধিকাংশই হিজড়াই স্বাভাবিক পরিবারের সাথে সংসার করতে পারবে। অনেকের স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও চিকিৎসার মাধ্যমে শারীরিক গঠন পরিবর্তন করে সমাজে হিজড়া হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছে। এ পরিচয়ের সুবাধে অনেকেই চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী ও অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত হচ্ছে।

ঢাকার হিজড়া সম্প্রদায়: সারা বিশ্বেই হিজড়ারা একটি কমিউনিটি মেইনটেইন করে এবং নকণ কমিউনিটি এর মধ্য তারা আবার যোগাযোগ রক্ষা করে। ঢাকাতেও তার বিকল্প নয়। ঢাকাতে হিজড়ারা মূলত পাঁচটি দলে বিভক্ত এক দলের হিজড়ারা অন্য দলের এলাকায় গিযে তোলা তুলতে পারবে না। তাদের এই পাঁচটি দলের প্রত্যেকটিতে আছে একজন করে গুরু। এসব এলাকা আর তাদের গুরু হচ্ছে।
* ১. শ্যামপুর, ডেমড়া ও ফতুল্লা, গুরু- লায়লা হিজড়া।
* ২. শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুরু- হামিদা হিজড়া।
* ৩. সাভার, ধামরাই, গুরু- মনু হিজড়া।
* ৪. নয়াবাজার ও কোতোয়ালী, গুরু- সাধু হিজড়া।
* ৫. পুরোনো ঢাকা,গুরু- দিপালী হিজড়া।

হিজড়া কথাটার শাব্দিক অর্থ ওসঢ়ড়:বহপব- অর্থাৎ একজন অক্ষম ক্লীব, নপুংশক বা ধ্বজভঙ্গ। বাংলাদেশ তথা বিভিন্ন দেশের হিজড়াদের মতে তারা জন্মগতভাবেই একাধারে স্ত্রী ও পুংলিঙ্গ সংবলিত (বা উভয় লিঙ্গ) প্রাণী। তবে প্রতিটি লিঙ্গেই অস্পষ্ট ও অনির্দিষ্ট। এদের ভেতর কেউ কেউ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্ত্রী অথবা পুরুষ রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এভাবে আমাদের দেশের অনেকেই স্ত্রী অথবা পুরুষ লিঙ্গ ধারণ করে বসবাস করছে।

একটি চক্র সরল সুন্দর সপ্তম-অষ্টম শ্রেণীর বারো-তেরো বছরের ছেলেদের ফুসলিয়ে প্রতারণায় ফেলে নিয়ে যায়। হাসপাতাল ক্লিনিকে শিক্ষিত ডিগ্রিধারী ডাক্তারের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ কেটে, ওষুধ খাইয়ে আকৃতি বিকৃত করে, ইনজেকশন দিয়ে বা অপারেশন করে স্তন বড় করে এদের হিজড়ার খাতায় নাম লেখায়। পরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত হয় এরা। ইচ্ছে করলেও বাড়ি ঘরে ফিরে যেতে পারে না। ফ্যামিলি এবং সমাজ থেকে দূরে থেকে যাচ্ছেতাই করে বেড়ায়। সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হিজড়াদের দাবি সাধারণ মানুষের মতো কবর না দিয়ে পানিতে ভাসিয়ে বা মাটির গর্তে পুঁতে রাখা হয় তাদের। কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োগ পায় না তারা।

hizra2

হিজড়াদের সম্পর্কে কি বলে ইসলাম:

শান্তি এবং মানবতার ধর্ম ইসলাম সব মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। এ সময়ের সচেতন ও বিচক্ষণ আলেম, বেশক’টি মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ও বাংলাদেশ কওমি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুস সামাদ। হিজড়াদের ইসলামে কীভাবে দেখা হয়? জানতে চাইলে বলেন, ‘ইসলাম হিজড়াদের ওপর অবিচার করেনি। অন্যসব মানুষের মতো একজন মানুষ হিসেবে দেখেছে হিজড়াদের। পুরুষ হলে পুরুষের, নারী হলে নারীর বিধান মেনে চলতে হবে তাদের। একজন নারীর যেমন নামাজ, রোজা ও পর্দাসহ ইসলামের সব বিধান মানতে হয়, একজন নারী হিজড়াকেও এগুলো মেনে চলতে হয়। এভাবে পুরুষের মতো পুরুষ হিজড়াকেও। মৃত সাধারণ মানুষের মতো তাদেরও কাফন, দাফন ও জানাজা দিয়ে কবর দেয়ার হুকুম। তারা এগুলো মানে না বলেই তো তাদের এ করুণ অবস্থা।’ একটি চক্র সুস্থ মানুষের অঙ্গহানি করে হিজড়া বানিয়ে ফেলছে। কেউ নিজের আগ্রহে হিজড়া হচ্ছে। এদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? উত্তরে তিনি বলেন, ‘অঙ্গহানি নাজায়েজ। মারাত্মক অপরাধ। কারও জটিল দুরারোগ্য ব্যথা হলেও ধার্মিক অভিজ্ঞ ডাক্টারের পরামর্শ ছাড়া অঙ্গ কাটার কোন সুযোগ ইসলাম
দেয়নি। এ ছাড়া একজন সুস্থ মানুষের অঙ্গহানি করে অসুস্থ বানানো, সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা অমার্জনীয় অপরাধ। কঠোর হস্তে দমন করা উচিত।’ চাঁদাবাজি, মাদক ও পতিতাবৃত্তির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত দেখা যায় হিজড়াদের, এর কারণ কী? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হিজড়া বানানো বা হওয়ার লক্ষ্য কিন্তু ইনকাম। হিজড়াদের কোন আইনি জটিলতা না থাকায় তারা অবাধে অপরাধ বিস্তার করে যাচ্ছে।’ হিজড়াদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কী করা উচিত? এমন প্রশ্নে মাওলানা সামাদ বলেন, ‘প্রথমত হিজড়াপ্রজনন কেন্দ্র বন্ধ এবং এর কারিগর ডিগ্রিধারী ডাক্টারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে এগুলো দমন করতে হবে। বিভিন্ন পত্রিকায় এদের চিহ্নিতও করা হয়েছে। তাতে হিজড়া উৎপাদন বন্ধ হবে। এরপর সামাজিকভাবে আড়চোখে না দেখে একজন মানুষের মতো সুবিধা দিতে হবে। এছাড়া মৌলিক হিজড়াদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্থায়ী ব্যবস্থা নিলে হিজড়ারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবে বলে আশা করা যায়।’ পুরুষাঙ্গ কেটে সুস্থ মানুষকে হিজড়া বানানো হয় একথা শুনে আঁতকে উঠলেন দেশ মাটি হাউজিং লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান, অত্যন্ত ধার্মিক ব্যক্তি আলহাজ মোহাম্মদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘অভাব এবং অসচেতনতাই এ কাজকে ত্বরান্বিত করেছে। মানুষের সম্মানের ভয় হিজড়াদের অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়েছে। তারা যেখানে সেখানে কাপড় উদাম করে ফেলে। হিজড়া, অসহায় এবং অভাবীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে অপরাধপ্রবণতা কমবে। তারা স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবন লাভে ধন্য হবে।’

Advertisements

About Emani

I am a professional Graphic designers create visual concepts, by hand or using computer software, to communicate ideas that inspire, inform, or captivate consumers. I can develop overall layout and production design for advertisements, brochures, magazines, and corporate reports.
This entry was posted in Artikel/Data (প্রবন্ধ). Bookmark the permalink.

2 Responses to হিজড়া কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?

  1. সোকত says:

    acca amader moto oder lingo ace

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s