International (আন্তর্জাতিক)

চীন-জাপান সম্পর্কে চিড়


China-Japan flagইংরিজিতে নাম এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন বা আডিজ। পূর্ব চীন সাগরের একটি বড় এলাকা জুড়ে এই জোন। চীন ও জাপানের মধ্যে বিতর্কিত কিছু দ্বীপও এর মধ্যে পড়েছে। রোবববার চীন এই জোন স্থাপনের ঘোষণা দেয়। এরফলে চিড় ধরেছে চীন-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কে।
চীন ঘোষণা দেয়ার পর জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীনের এই একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। অপরদিকে জাপান ও তাইওয়ানের বিভিন্ন বিমান পরিবহণ সংস্থা জানিয়েছে যে, তারা চীনের  ‘বায়ু প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ এলাকা’  সংক্রান্ত নতুন নিয়মাবলী মেনে চলছে।
কোরিয়ান এয়ার ও দক্ষিণ কোরিয়ার এশিয়ানা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে যে, তারা পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নতুন নীতিমালার অপেক্ষায় রয়েছে।
চীনের স্বঘোষিত নিয়মাবলী অনুযায়ী ‘বায়ু প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ এলাকা’ দিয়ে যাওয়ার আগে প্রতিটি বিমানকে তাদের ফ্লাইট প্ল্যান জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে জাতীয়তার স্পষ্ট পরিচয় রাখতে হবে এবং দ্বিপাক্ষিক বেতার যোগাযোগ রেখে চলতে হবে যাতে তারা চীনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শনাক্তকরণের প্রশ্নের ‘সময়মতো এবং যথার্থ জবাব দিতে পারে’।
বিশ্বের অধিকাংশ সরকারের কাছেই চীনের এই একতরফা পদক্ষেপ অকার্যকরী এবং গ্রহণযোগ্য না। কিন্তু বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলোর চীনের মতো শক্তির বিরোধিতা করার সামর্থ কিংবা প্রবৃত্তি কোনোটাই নেই। তাই জ্যাপানিজ এয়ারলাইন্স এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (আনা) জানিয়েছে যে, তারা চীনের দাবি মেনে চলছে ও চলবে।
তাইওয়ানের বেসামরিক বিমান প্রশাসন সিএএ’র এক মুখপাত্র জানান, তাইওয়ানের বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলি চীনের নিয়মাবলী মেনে চলবে। সিএএ নিজেই তাদের ফ্লাইট প্ল্যানগুলি চীনের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়ান এয়ার এবং এসিয়ানা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে যে, তাদের বিমানগুলি চীনের ‘বায়ু প্রতিরক্ষা সনাক্তকরণ এলাকা’ দিয়ে যাবার আগে চীনের কাছে খবর পাঠাচ্ছে না। বরং তারা পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নতুন নীতিমালা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সরকারি তরফ থেকে চীনের সমালোচনার কোনো কমতি নেই। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলিয়া বিশপ বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়া পূর্ব চীন সাগরের স্থিতি পরিবর্তনের যেকোনো বলপূর্বক বা একতরফা পদক্ষেপের প্রতি তার বিরোধিতা স্পষ্ট করে দিয়েছে।”
মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের মুখপাত্র চীনের ‘বলপূর্বক এবং একতরফাভাবে’ সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থিতি পরিবর্তনের প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছেন।
ইতিপূর্বে আমেরিকা স্পষ্ট করে দেয় যে, সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ আমেরিকা-জাপান নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় পড়ে যা সম্ভবত চীনের প্রতি সবচেয়ে জোরালো সংকেত হিসেবে গণ্য। জার্মান সরকারও জানিয়েছে, চীনের এই পদক্ষেপ চীন ও জাপানের মধ্যে একটি সশস্ত্র ‘ঘটনার’ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সূত্র: ডিডব্লিউ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s