Artikel/Data (প্রবন্ধ)

আজ পয়লা ফাল্গুন বসন্ত ঋতুর প্রথম দিন


1 falgun (boshonto)ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ পয়লা ফাল্গুন, বসন্ত ঋতুর প্রথম দিন। ফুল ফুটবার পুলকিত এই দিনে বন-বনান্তে কাননে কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে ওঠে চারদিক। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতই বাঙালির মনে লাগে দোলা। হৃদয় হয় উচাটন। পাতার আড়ালে আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহুকুহু ডাক দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নুপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন এ বসন্তেই। বসন্ত মানেই পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে, মানুষকে করে আনমনা।
শুধু মিলনই তো নয়, প্রেমের সঙ্গে জড়িয়েথাকে নানা রকম সঙ্খা-সন্দেহও। তাই এমনও মধুর দিনে এমন শঙ্খাও কি জাগে নাঅধীর প্রতিক্ষায় থাকা কোন মনে। তাই কবি বলেছেন- সে কিআমায় নেবে চিনে/ এই নব ফাল্গুনের দিনে-জানিনে..শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে এখন প্রকৃতি।
গাছে গাছে নতুন পাতা, মুগ্ধসবুজ কচি পাতার ধীর গতিতে বাতাসে সঙ্গে বয়ে চলা জানান দিচ্ছে নতুন কিছুর। শীতে খোলসে ঢুকে থাকা বনবনানী যেন এখন অলোকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগছে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলছে মধুর বসন্তে সাব বাজ রব।
আরএ সাজে মন রাঙিয়ে গুন গুন করে অনেকেই আজ গেয়ে উঠবেন-”মনেতে ফাগুন এলো,। তবে বাস্তবতার পাথর চাপা হৃদয়ে সবুজ বিবর্ণ হওয়া চোখে প্রকৃতি দেখার সুযোগ পান না নগরবাসী। কোকিলের ডাক, রঙিন কৃষ্ণচুড়া, আর আমের মুকুলের কথা বইয়ের পাতায় পড়ে এলেও একালের তরুণ তরুণীরা বসে থাকতে রাজি নন।গায়ে হলুদ আর বাসন্তি শাড়ি জড়িয়ে হাতে হাত রেখে বেড়িয়ে পড়েন তাঁরা।
পাঞ্জাবী পড়া তরুণরাও একদিন নিজেদের রঙিন সাজে সাজতে কম যান না।বসন্ত তারুন্যের তারুণ্যেরই ঋতু, তাই সবাই মনে বেজে ওঠে,কবির এ বাণী- বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, পয়লা ফাল্গুন আনন্দের দিনে।এক দিন পরেই ভালবাসা দবিস এ যেন সোনার সোহাগা।
আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কবিতা’র রূপরদেস ওপার ভর করে প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে। প্রকৃতি প্রেমিক মানুষরা তাই বসন্ত বরণে এখন উদগ্রীব। আজ বসন্তের প্রথমদিনে তাই নানা আয়োজনে নতুন পোষাক আর বাহারি সাজসজ্জায় তারণ্য এখন ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার সারা প্রান্তরে।
বিভিন্ন চ্যানেল বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। এর ডেউ শুধু রাজধাণীতেই নয় প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। উত্‍সবের মধ্যে থাকছে, ট্রীতি বন্ধনী বিনিময়, বসন্ত কথন পর্ব বসন্ত শোভাযাত্রা, বসন্তের বিশেষ উপহার কার্ড বিনিময় ও আবির উতসব।
আমাদের দেশে বসন্ত নিয়ে নানা কবিতা গান ছড়া রয়েছে। যা যুগযুগ ধরে আমাদের ঐহিত্যকে সমৃদ্ধ করছে। এমনি একটা গানের কলি যা দীর্ঘ দিন ধরে বসন্ত উতসবে গীত হয়ে থাকে।বাংলা গানের দরাজ কণ্ঠের অধিকারীহেমন্ত মুখোপাধ্যায় যখন গেয়ে ওঠেন- একটিও ফুল ফুটলো না তুমি বললে বসন্ত এসেছে এসেছে/একটিও পাখি গাইল না তুমি বললে সবন্ত এসেছে এসেছে-আবার যখন/কবিরকণ্ঠে ধবনিত হয় ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত…।
বসন্তকে নিয়ে আরো যেসব গীত বাংলার মানুষকে মোহিত করেছে তার মধ্যে রয়েছে- আসল ফাগুন/লাগল আগুন কৃষ্ণচুরার ডালে ডালে সবশেষে বাংলার কবি সম্রাট তথা বিশ্বকবি যখন লেখেন-আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে এতো বাশি বাজে। এভাবে বাঙালি তার চিরায়িত ভাললাগা ভালবাসা আর হৃদয়েরঅর্ঘ্য দিয়ে বরণ করে বসন্তকে তাই বসন্ত ঋতুরাজ আর তার প্রথম মাস হচ্ছে ফাল্গুন-সংক্ষপে ফাগুন।
এভাবে বাঙালি তার চিরায়িত ভাললাগা ভালবাসা আর হৃদয়েরঅর্ঘ্য দিয়ে বরণ করে বসন্তকে তাই বসন্ত ঋতুরাজ আর তার প্রথম মাস হচ্ছে ফাল্গুন-সংক্ষপে ফাগুন।
তাইতো জানায়—-
বসন্তের সব ফুলের শুভেচ্ছা….

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s