food-higঅনকের শরীরের তাপমাত্রা খুবই কম। মনে হয়, শরীর সব সময় শীতল থাকে। হাত,পা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশে তাপমাত্রা হয়তো স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এখন, প্রশ্ন হচ্ছে, কি ভাবে শরীরের তাপমাত্রা বাড়াবো?
প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে তাপের পরিবহন এবং পরিচলন। আপনি যখন ঠাণ্ডা ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আছেন, তখন তার সংস্পর্শে আপনার পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া হলো পরিবহন। আবার ঠাণ্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আপনার নাকের ডগা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়াটা হলো পরিচলন। এবার দেখুন এই দুইটি জিনিস বুঝে কীভাবে নিজেকে দিব্যি গরম রাখতে পারবেন কনকনে শীতের রাতেও।
কয়েক স্তরে কাপড় পরুন একটা মোটা চাদর বা জ্যাকেট পরার চাইতে দুটো অপেক্ষাকৃত পাতলা সোয়েটার পরলে শীত কম লাগবে। কারণ এসব স্তর সরাসরি আপনার শরীর থেকে বাইরে তাপ পরিবহন ও পরিচলনে বাধা দেবে। এছাড়া এই দুটি স্তরের মাঝে আটকে থাকা বাতাস ইনসুলেটরের কাজ করে তাপ ধরে রাখবে আপনার শরীরে। কাঁপুনি থামান কাঁপুনি শুরু হওয়া মানেই হলো আশেপাশে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা যা আপনার শরীর মোটেই সহ্য করতে পারছে না। আপনার উচিত হবে দ্রুত কোনো গরম জায়গায় চলে যাওয়া। ঠাণ্ডায় আমাদের শরীরে কাঁপুনি দেখা দেয় কারণ এর মাধ্যমে শরীর নিজেকে গরম করার চেষ্টা করে। পেশিগুলো কাঁপুনির মাধ্যমে ক্যালোরি ক্ষয় করে এবং তাপ উৎপাদন করে। কাঁপুনি থেমে যাবার জন্য অপেক্ষা করবেন না মোটেই। কারণ হাইপোথার্মিয়ার মধ্যবর্তী পর্যায়ে মানুষের শরীর কাঁপুনি থামিয়ে দেয়। এ পর্যায়ে কাঁপুনিতেও শরীর নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। ভালোভাবে খাওয়া দাওয়া করুন শরীর যেন নিজেকে গরম রাখতে পারে তার জন্য একে জ্বালানী সরবরাহ করুন অর্থাৎ খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে মনোযোগী হন। এতে আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ ঠিক থাকবে আর শরীর থাকবে গরম। এছাড়াও প্রয়োজনমতো পানি পানেও মনোযোগী থাকুন। অভ্যাস করে ফেলুন বাসার বাইরে শীতের মাঝে অনেকটা সময় কাটাতে হয়? ঠাণ্ডার প্রতি অভ্যস্ত হয়ে যান। শরীরকে ঠাণ্ডা সহ্য করতে শেখান। শরীর ফিট রাখাটা এ জন্য জরুরি। কিন্তু বেশী শুকনো গড়ন হলে আবার সমস্যা। কারণ শরীরে যথেষ্ট ফ্যাট না থাকলে শীতের মোকাবেলা করা যায় না।
শরীর গরম রাখাতে খেতে পারেন-
আদা: আদা শরীরের উচ্চ মাত্রার কোলেস্ট্রেরল নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। আদার ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী উপাদান শীতের ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা ও কাশি প্রতিরোধ করে। আদা ইচ্ছে করলে আপনি চুষে খেতে পারেন। স্যুপ বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গেও আদা খেতে পারেন।
মধু: শীতের প্রধান সমস্যা ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, কাশির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মধু। যদি এর স্বাদ মিষ্টি, তবে এটি শরীরে ক্যালোরি বৃদ্ধি করে না। শরীর উষ্ণ রাখতে মধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাদাম: বিভিন্ন প্রকারের বাদাম যেমন- চীনা বাদাম, আখরোট, কাজু বাদাম শরীরের জন্য উপকারী কোলেস্টেরল, ভিটামিন, আঁশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। বাদামে শরীর গরম রাখার প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে।
দারুচিনি: দারুচিনি একটি চমৎকার মশলা যা আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। বিভিন্ন ধরনের খাবার, স্যুপ এবং সালাদের স্বাদ বাড়ায় দারুচিনি। তাছাড়া, চায়ের সঙ্গে দারুচিনি মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।
রসুন: রসুনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী উপাদান ঠান্ডা, কাশি এবং গলার প্রদাহজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করে। শরীরের কোলেস্টেরলের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে রসুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন ব্যক্তির প্রতিদিন তিন থেকে চারটি রসুনের কোয়া খাওয়া উচিত।
টক ফল: উজ্জ্বল বর্ণের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল কমলা, জাম্বুরা জাতীয় ত্বক ফল গুলো থেকে ফ্ল্যাভোনয়েড এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এগুলো ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এসব ফল শীতকালে দেহের উষ্ণতা বাড়াতে সাহায্য করে।
টক দই: যদি দুধ বা দইয়ে অ্যালার্জি না থাকে তাহলে প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এই প্রাকৃতিক খাবারটি বর্জন করার কোনো কারনই নেই। প্রোবায়োটিক হচ্ছে একটি স্বাস্থ্য বান্ধব ব্যাকটেরিয়া। দই অনেকের মিউকাস মেমব্রেনে কিছুটা অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু সাধারণ সব মানুষদের জন্য শীতকালের জন্য উষ্ণতাদায়ক একটি খাবার হচ্ছে এই দই।
শস্যদানা, চর্বিহীন মাংস, মরিচ, যব, মিষ্টি আলু শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং শীতে আপনার শরীরে উষ্ণতা জোগাবে। তাছাড়া, স্যুপ, গরম চা, কফি, গরম চকোলেট শীতে প্রশান্তি যোগাবে।