Hasib_Grameen_phone_1দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার নামে রিজার্ভ ভেঙে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি কমিশন এ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ২৯ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে এ অনুসন্ধানের তদারকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগে বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার নামে রিজার্ভ ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি গ্রামীণফোন। টানা ছয় বছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এক্ষেত্রে বাকি টাকা কোম্পানির রিজার্ভ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আর এ প্রক্রিয়ায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে মূল কোম্পানি টেলিনর। অপরদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন মাত্র ৩২০ কোটি টাকা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির রিজার্ভের পরিমাণ ছিল প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে তা এক হাজার এক কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ২০১৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করেছে সাত টাকা ৭৬ পয়সা। কিন্তু ওই বছরে লভ্যাংশ দিয়েছে ১২ টাকা। ২০১১ সালে ইপিএস ১৩ টাকা ৯৯ পয়সা, লভ্যাংশ দিয়েছে ২০ টাকা ৫০ পয়সা। ২০১২ সালে ইপিএস ১২ টাকা ৯৬ পয়সা, লভ্যাংশ দিয়েছে ১৪ টাকা। ২০১৩ সালে ইপিএস ১০ টাকা ৮৯ পয়সা, লভ্যাংশ ১৪ টাকা, ২০১৪ সালে ইপিএস ১৪ টাকা ৬৭ পয়সা, লভ্যাংশ ১৬ টাকা এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ইপিএস ছিল সাত টাকা ৭৬ পয়সা এবং লভ্যাংশ দিয়েছে আট টাকা। ফলে মূল কোম্পানি শুধু টেলিনরই ২০১০ সালে নিয়েছে ৮৯১ কোটি টাকা, ২০১১ সালে এক হাজার ৫২২ কোটি টাকা, ২০১২ সালে এক হাজার ৩৯ কোটি, ২০১৩ সালে এক হাজার ৩৯ কোটি, ২০১৪ সালে এক হাজার ১৮৮ কোটি এবং ২০১৫ সালে ৬০২ কোটি টাকা লভ্যাংশ নিয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত টেলিনর লভ্যাংশ নিয়েছে সাত হাজার কোটি টাকা ও গ্রামীণ টেলিকম নিয়েছে চার হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। আর এ সময়ে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন এক হাজার ২২৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন মাত্র ৩২০ কোটি টাকা।
অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদারের নেতৃত্বে অনুসন্ধান টিমের অপর সদস্যরা হলেন— সহকারী পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত ও উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। যে কোনো আইনসিদ্ধ অনুসন্ধানের বিষয়ে গ্রামীণফোন শ্রদ্ধাশীল এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’