istema 2016গাজীপুরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৫০তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। বয়ান শুরু করেন ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান। বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মো. আব্দুল মতিন। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষায় এ বয়ান তরজমা করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিতব্য জুমার নামাজে ইমামতি করবেন বাংলাদেশের কারী মো. জুবায়ের। অনুষ্ঠিত হয় বৃহত্তম জুমার নামাজ। এতে টঙ্গী ও আশেপাশের এলাকাসহ দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নেন। গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহত্তম সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমা।

পুলিশের ব্রিফিং: 
ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে এক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, ইজতেমায় কোনো নাশকতার আশঙ্কা নেই, তবে নাশকতারোধে পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিদেশি নিবাসে আর্চওয়ে নির্মাণ, সিসিটিভিতে পর্যবেক্ষণ ও আশেপাশে সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করছে। তবে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না জানিয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান জানান, নিরাপত্তার ছক সাজাতে সব সময় খারাপ দিকটি চিন্তা করেই করা হয়। আর এ লক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

৩ মুসল্লির মৃত্য
এবার ইজতেমা শুরুর আগেই তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ইজতেমা ময়দানে দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়। তারা হলেন—সিলেটের গোলাপগঞ্জের জয়নাল আবেদিন (৫৫) ও কুড়িগ্রামের নূর ইসলাম (৭২)। ফজরের নামাজের পর দু’জন মুসল্লির জানাজা আদায় করেন মুসল্লিরা। এর আগে সন্ধ্যায় ফরিদউদ্দিন (৬৫) নামে নাটোরের এক মুসল্লির মৃত্যু হয়। তার জানাজা এশার নামাজের পর হয়।
সরেজমিনে শুক্রবার সকালে দেখা গেছে, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণায় শিল্প শহর টঙ্গী এখন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা জামাতবদ্ধ হয়ে এখনও ইজতেমাস্থলে আসছেন।
তাবলীগের মুরব্বি মো. গিয়াসউদ্দিন দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রথম পর্বের ইজতেমায় ১৬টি জেলার মুসল্লিরা ২৭টি খিত্তায় অবস্থান করছেন। জেলাগুলো হলো-ঢাকা, শেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, নীলফামারী, সিলেট, গাইবান্ধা, নাটোর, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, মাগুরা, ঝালকাঠি ও পঞ্চগড়।
তিনি আরও জানান, বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের শুরা সদস্য ও বুজর্গরা বয়ান পেশ করবেন। মূল বয়ান উর্দুতে হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করা হয়। ইজতেমায় বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন করে মুরুব্বী মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনান।
টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে জানান, ইজতেমা ময়দানে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫ শতাধিক সদস্য মুসল্লিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ইজতেমা শুরুর দিন শুক্রবার হওয়ায় ইজতেমা মাঠে জুম্মার নামেজে অংশ নিতে অনেক মুসল্লি আগেই ইজতেমাস্থলে এসেছেন। ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জু’মার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে আসছেন।
পুলিশ-র‌্যাবের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমা এবারও দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১০ জানুয়ারি রবিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি এবং একইভাবে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ১৭ জানুয়ারি শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।