essential--blood-testsএকটি গাড়ির মোবিলের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করলে যেমন তার ইঞ্জিনের ভেতরকার অবস্থা বোঝা যায়, ঠিক তেমনি মানুষের শরীরের রক্তের বৈশিষ্ট্য দিয়ে তার ভেতরের অনেক খবরাখবর মেলে। যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রক্তে ঠিকমতো আছে কিনা তা অবশ্যই আমাদের জানতে হবে।

সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট)
পেনিসেলভেনিয়ার ডাক্তার ডেভিট পারকিংস এর মতে, ‘আপনার বয়স যদি ৩০ বছর হয় তবে আমি আপনাকে নির্দেশ দেব অবশ্যই আপনার সিবিসি করাবেন।’
সিবিসি টেস্টের মাধ্যমে বুঝতে পারা সম্ভব লোহিত ও শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ সম্পর্কে। সেই সাথে জানা যায় কি পরিমাণে অক্সিজেন রক্ত বহন করছে। পরীক্ষার ফলাফল নেতিবাচক অ্যানিমিয়া বা রক্ত শূন্যতার লক্ষণ।

রক্তে চিনির পরিমাণ জানা
বর্তমানে একটি সাধারণ রোগ হিসেবে ধরা হয় ডায়াবেটিসকে। ডায়াবেটিস নির্ণয়ের রাডার হিসেবে কাজ করে চিনির পরিমাণ পরীক্ষা করা। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব একে।

চর্বির পরিমাণ জানা
একজন সাধারণ মানুষের এইচডিএল কোলেস্টোরেলের মাত্রা ৪৫-৫০ mg/dl, এলডিএল কোলেস্টোরেলের মাত্রা ১৩০ mg/dl এবং ট্রাইগ্লিসারাইড ১৫০ এর কম থাকা উচিৎ। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত এর পরীক্ষা করা জরুরী।

সি-রেক্টিভ প্রোটিন
এটা এমন একটা প্রোটিন যা লিভার থেকে উৎপন্ন হয়ে রক্তে মিশে যায়। এর মাত্রা বেড়ে যায় নিজ থেকেই যখন শরীরে কোথাও প্রদাহ দেখা দেয়। এটা শারীরিক একটি প্রক্রিয়া। তবে ধূমপানমুক্ত থাকলে সাধারণ মাত্রার চেয়ে খুব একটা তারতম্য ঘটে না।

থাইরয়েড চেকআপ
থাইরয়েড পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই সমস্যা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যারা খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন এবং ঘুম কম। কার্যক্ষম থাইরয়েড অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে গলগণ্ডের দেখা দেয়। এছাড়া হাইপারথাইরয়েডিসম নামের রোগও হয়। যা হলে হার্ট-রেট বেড়ে যায়, চিন্তা বাড়া, ঘুমে সমস্যা এবং ওজন কম, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।