Ballon_drলিওনেল মেসির পঞ্চম? নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চতুর্থ? নাকি নেইমার দ্য সিলভার প্রথম? কার হাতে উঠতে যাচ্ছে মর্যাদাকর ফিফা ব্যালন ডি’অর তথা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার? সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আজ সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত। সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জুরিখে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেসি, রোনালদো কিংবা নেইমারের হাতে তুলে দেওয়া হবে ২০১৫ সালের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার খ্যাত ফিফা ব্যালন ডি’অর। এই অনুষ্ঠান জুরিখ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস-৪।
২০০৯ থেকে ২০১২, টানা চারবার ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসি (২০১০ থেকে এর নাম হয় ফিফা ব্যালন ডি’অর)। রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ২০০৮ সালের (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন) পর ২০১৩ ও ২০১৪, মোট তিনবার জিতেছেন এই পুরস্কার। বলা যায়, পুরস্কারটা মেসি ও রোনালদো নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন। ঘুরেফিরে তাদের হাতেই উঠছে এই পুরস্কারটি।
২০১৫ সালের ফিফা ব্যালন ডি’অর তথা বর্ষসেরা পুরস্কারের চূড়ান্ত তিনজনের তালিকায়ও আছেন তারা দুজন। তাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। কার হাতে শোভা পাবে সোনালী রংয়ের এই সোনার ‘হরিণ’? চলুন দেখি পরিসংখ্যান কী বলে।

লিওনেল মেসি
পারফরম্যান্স ও দলীয় সাফল্য বিবেচনায় ফিফা ব্যালন ডি’অরের জন্য এবার ফেভারিট ভাবা হচ্ছে মেসিকেই। কারণ, ২০১৪-১৫ মৌসুমটা অসাধারণ কেটেছে তার। বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৪৩) মেসি। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের ২৩টি গোলেও অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের আভা ছড়িয়ে বার্সাকে একে একে জিতিয়েছেন লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, কোপা ডেল রে, উয়েফা সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা।
জাতীয় দলের জার্সি গায়েও সফল ছিলেন তিনি। শিরোপা জেতাতে না পারলেও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেছেন কোপা আমেরিকার ফাইনাল পর্যন্ত। ইনজুরির কারণে বেশ কিছু ম্যাচে খেলতে না পারলেও চলতি মৌসুমে বার্সার হয়ে ২২টি গোল করেছেন। সবকিছু বিবেচনায় এবার ফিফা ব্যালন ডি’অর জেতার ক্ষেত্রে হট ফেভারিট মেসিই।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০১৫ সালটা অবশ্য মন্দ কাটেনি রোনালদোরও। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে স্বমহিমায় মেসির চেয়েও উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। রিয়ালের জার্সি গায়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় গেল মৌসুমে করেছেন সর্বোচ্চ ৪৮টি গোল। তবে তার ক্লাবকে কোনো শিরোপা জেতাতে পারেননি পর্তুগালের এই যুবরাজ।
চলতি মৌসুমেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ২৫টি গোল করেছেন। তবে পারফরম্যান্স ও দলীয় সাফল্য বিচারে মেসির চেয়ে বেশ পিছিয়ে তিনি। ফলে আজ মেসির কাছে হাতছাড়া হতে পারে গেল বছর তার জেতা ব্যালন ডি’অরের ট্রফিটি। তবে সবকিছু মিলিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারেন রিয়াল তারকা রোনালদো। তেমনটাই ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা।

নেইমার দ্য সিলভা
২০১৫ সালে ৫২ ম্যাচে নেইমার করেছেন ৩৯টি গোল। আর গোলে সহায়তা করেছেন ১৪টি। নিজ ক্লাব বার্সেলোনাকে পাঁচ-পাঁচটি শিরোপা জেতাতে মেসি-সুয়ারেজের পাশাপাশি তার অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও দলীয় সফলতা বিচারে নেইমার এবার ব্যালন ডি’অর না জিতলেও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার ক্ষেত্রে রোনালদোর সঙ্গে লড়াই করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত কী হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।