abdul hamidআপনাদের সঙ্গে কাছাকাছি বসে প্রাণখুলে কথাবার্তা বলা সম্ভব হয় না, আসলে মনটা চায়। বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় দুই হাজার সদস্য ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি সবাই চলে যেত, আমি যদি আগের মতো একা একা থেকে যেতাম বাড়িতে, এভাবে থাকতে পারলে খুব লাগতো। বুধবার ১৩ জানুয়ারি দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক কলেজ পরিদর্শনের সময় ছাত্র-ছাত্রী ও উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি হাস্যরস করে বলেন, বাড়িতে একা থাকতে দেবে বলে মনে হয় না।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, আজকে আমি বক্তৃতা দিতে আসিনি, এসেছি আপনাদের দেখতে ও মিঠামইন দেখতে। সেনাবাহিনীর ভাইয়েরা, পুলিশ ভাইয়েরা, র‌্যাবের ভাইয়েরা এবং আরো বিভিন্ন বাহিনীর ভাইয়েরা মিলে প্রায় ২ হাজার হয়ে যাবে। এ অবস্থার মধ্যে আমি আসতে পারি না, আসলে কি হবে?
আগে যখন মিঠামইনে আসতাম, কামালপুর, মিঠামইন বাজার, কুইল্লাপাড়া, গিরিশপুর, বড়হাটি বিভিন্ন পাড়া বা গ্রামে হাঁটতাম একা একা। বঙ্গভবনে প্রহরার মধ্যে থাকি, এখানে আমি প্রহরার মধ্যেই আছি।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, হাওরে এখন কাজের সময় বোরো ক্ষেত লাগানো হচ্ছে। এ সময়ে কাজের কথা ভেবে আমি বলেছি, জনসভার কোনো দরকার নাই, কোনো জনসভা করব না। কারণ কাজের সময় মানুষ কষ্ট করে দূর-দূরান্ত থেকে আসার কোনো প্রয়োজন নাই, তাই জনসভার আয়োজনের প্রয়োজন নাই। এখানে (হাওর এলাকায়) বর্ষাকালে জনসভা হলে মানুষ সহজে আসতে পারে এবং কাজের ক্ষতি হয় না। বর্ষাকালে জনসভা করা ভালো।
তিনি বলেন, গত বর্ষার সময় আসার ইচ্ছে থাকলেও, এখানে (মিঠামইনে) নামার অসুবিধা। কারণ স্থায়ী হেলিপ্যাড ছিল না, তাই আসা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে স্থায়ী হেলিপ্যাড হয়েছে, অনেক বড়, সুন্দর হেলিপ্যাড হয়েছে। এই হেলিপ্যাডের সবদিকেই স্থাপনা হবে। তবে বিশেষ করে হেলিপ্যাডের দক্ষিণ দিকে বাড়িঘর না করার আহবান জানান রাষ্ট্রপতি।
নবনির্মিত হেলিপ্যাড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি বলেন, যে হেলিপ্যাড নির্মিত হয়েছে তা (হেলিপ্যাড) দুইটা খেলার মাঠ হয়ে যাবে। কারণ আমি যখন রাষ্ট্রপতি থাকব না তখন এখানে হেলিকপ্টার আসার তেমন প্রয়োজন পড়বে না। এমনো হতে পারে ৫, ৭, ১০ বছরেও আসবে না। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে হয়তো হেলিকপ্টার আসবে। অন্য সময় এ হেলিপ্যাড খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
মিঠামইনের উন্নয়নের কাজ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি বলেন, মিঠামইনে যে কাজ-কাম হচ্ছে তা দেখার সুযোগ আমার খুব কম। আপনারা যারা বঙ্গভবনে আমার সাথে দেখা করেন তাদের কাছ থেকে জানতে পারি। নিজের চোখে আগের মতো দেখা সম্ভব হচ্ছে না।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, কালনী-কুশিয়ারা নদী খনন হচ্ছে, মিঠামইনের কাটখাল থেকে অষ্টগ্রামের কলমা পর্যন্ত। মিঠামইন বাজার ঘাটেও খননের ব্যবস্থা চলছে।
ঘাগড়া ইউনিয়নের হাটুরিয়া নদীর খনন কাজ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি বলেন, হাটুরিয়া নদীতে একটি ড্রেজার খনন কাজ করছে। কিন্তু দুঃসংবাদ হলো এ ড্রেজার প্রায় সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অন্য কোথায়ও ড্রেজার পাওয়া যাচ্ছে না, যদি ড্রেজার আনতে হয় অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমরা চাই তো তাড়াতাড়ি, কিন্তু সরকারের কাজ অর্ডার হতে, টেবিল থেকে টেবিল, দপ্তর থেকে দপ্তর, এসব করতে করতে সময় নিয়ে যায় অনেক বেশি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সারা বাংলাদেশের নদী শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। শুকিয়ে যাওয়া নদীতে ড্রেজারের মাধ্যমে খননের ব্যবস্থা না হলে  জমিতে যে পানি দেবে সে ব্যবস্থা থাকবে না। বাংলাদেশে যে পরিমাণ ড্রেজার আছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এসব ড্রেজারেই একদিক থেকে অন্যদিকে নিয়ে যায়। বেশি জরুরি যেখানে সেখানে ড্রেজার আগে নেওয়ার ব্যবস্থা হয়।
হাওরের তিন উপজেলার আভুরা রাস্তা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইটনা উপজেলা থেকে মিঠামইন উপজেলা হয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলায় আভুরা রাস্তা এ বছরেই কাজ শুরু হবে বলে আমি আশা করি। এ আভুরা রাস্তার মধ্যে প্রায় ২০-২৫টি কালভার্ট আছে, ৩টি বড় ব্রিজ আছে এগুলোর কাজও শুরু হবে।
দুপুর ২টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে কিশোরগঞ্জের জেলার হাওর উপজেলা মিঠামইনে (নিজ জন্মস্থান) পৌঁছেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ।
নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে মিঠামইন ডাক বাংলোর সামনে বিশ্রাম নিয়ে মিঠামইন উপজেলা সদরের কামালপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে রাত্রিযাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।