istema jumar namajকঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশ গ্রহণে তিন দিনব্যাপী মুসলমান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুক্রবার বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী রোববার ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটবে ৫০তম এই বিশ্ব ইজতেমার।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশ গ্রহণে টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে জুমার নামাজ আদায় করেন লাখ লাখ মুসল্লি। এতে ইজতেমা প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয়া ১৬ জেলার তাবলিগ জামাতের সাথী ছাড়াও ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জুমার নামাজের খুৎবা শুরু হয় এবং জামাত শুরু হয় ১টা ৪০ মিনিটে, শেষ হয় ১টা ৪৮ মিনিটে। খুৎবা ও নামাজে ইমামতি করেন কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরব্বি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের।
এদিকে, শুক্রবার ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সব স্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ ও পলিথিন বিছিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং কামারপাড়া আশুলিয়া সড়কে বেশ কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নামাজ শেষে একজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সারা বাংলাদেশকে চার ভাগে ভাগ করে এবারই প্রথমবারের মতো মোট ৩২টি জেলা নিয়ে ইজতেমার দুই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। গত ৮ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে ঢাকার একাংশসহ ১৭টি জেলা অংশ নিয়েছিল। চারদিন বিরতির পর ১৬ জেলার মুসল্লিদের নিয়ে আজ দ্বিতীয় পর্ব শরু হয়েছে। আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমা বাকি ৩২ জেলা নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মুসল্লিদের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। বয়ান করেন হিন্দিতে বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আবদুর রহমান। তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকেই ময়দানে ঈমান, আমল ও আখলাকসহ তাবলিগের ছয় উসুল সম্পর্কে অনানুষ্ঠানিক বয়ান শুরু হয়। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে দেশের ১৬ জেলার মুসল্লিরা দুইদিন আগে থেকে ইজতেমা ময়দানে আসা শরু করেন। মুসল্লিদের আসা এখনও অব্যাহত আছে। বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চ, বাস, ট্রাক, পিকআপ, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মুসল্লিরা ইজতেমাস্থলে আসছেন। পাশাপাশি ভারত, পাকিস্থানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরাও ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন। ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের পদচারণায় টঙ্গী এখন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে ইজতেমার মাঠ।
এদিকে ইজতেমার প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় আজ দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ইজতেমা ময়দানে। এতে প্রায় ৫ লাখ মুসল্লির একসঙ্গে জামাতে শরিক হয়ে জুমার নামাজ আদায় করবেন বলে ধারণা করছেন ইজতেমার মুরব্বীরা। রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলা এবং আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এ বৃহৎ এ জুম্মার নামাজে শরিক হবেন।
ইজতেমা ময়দানে কথা হয় ঢাকার দোহার থানার ঝানকি এলাকার বাসিন্ধা মো. নূরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা এলাকা থেকে ৪০ জনের একটি জামাত এসেছে। তাদের সঙ্গে গতকালই (বৃহস্পতিার) এসেছি।’ ফরিদপুরের নগরকান্দা থানা ফুলসুতি এলাকার বাসিন্ধা ইদ্রিস আলী জানান, তিনিও বৃহস্পতিার এসেছেন।
ইজতেমার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ইজতেমার দ্বিতীয় দফায় অংশ নিতে ইতোমধ্যেই লাখো মুসল্লি সেখানে সমবেত হয়েছেন। বিভিন্ন জেলার কিশোর, যুবক, বয়োজ্যেষ্ঠ সব শ্রেণির মানুষ ইজতেমায় এসেছেন। অনেকে দীর্ঘ চল্লিশ বা ১২০ দিন ইসলামের দাওয়াত শেষ করে ইজতেমায় শরিক হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ইজতেমা শেষে দেশ-বিদেশ ঘুরে ইসলামের দাওয়াত দিতে ৪০ বা ১২০ দিনের জন্য বেরিয়ে পড়বেন। ধনী, দরিদ্র সবাই এখানে এক সামিয়ানার নিচে একসঙ্গে অবস্থান করছেন।
দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় ১৬টি জেলা অংশ নিয়েছে। এজন্য জেলাওয়ারি পুরো প্যান্ডেলকে ২৯টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। খিত্তা অনুয়ায়ী এসব জেলা হচ্ছে- ১নং থেকে ৭ নং খিত্তায় ঢাকা জেলার বাকি এলাকা, ৮নং খিত্তায় ঝিনাইদহ, ৯ ও ১১ নং খিত্তায় জামালপুর, ১০ নং খিত্তায় ফরিদপুর, ১২ ও ১৩ নং খিত্তায় নেত্রকোনা, ১৪ ও ১৫ নং খিত্তায় নরসিংদী, ১৬ ও ১৮ নং খিত্তায় কুমিল্লা, ১৭ নং খিত্তায় কুড়িগ্রাম, ১৯ ও ২০ নং খিত্তায় রাজশাহী, ২১ নং খিত্তায় ফেনী, ২২ নং খিত্তায় ঠাকুরগাঁও, ২৩ নং খিত্তায় সুনামগঞ্জ, ২৪ ও ২৫ নং খিত্তায় বগুড়া, ২৬ ও ২৭ নং খিত্তায় খুলনা, ২৮ নং খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা এবং ২৯ নং খিত্তায় পিরোজপুর জেলার মুসুল্লিগণ অবস্থান নেবেন।
ইজতেমাস্থল ঘিরে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব। এ ছাড়া মাঠের চারদিকে পুলিশ, র‍্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মোতায়েন রয়েছে। আগামী রোববার জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে।