দ্বিতীয় ম্যাচেও জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে টাইগারদের দাপুটে জয়ে


bangladesh-zimbabueটি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ৪২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চার ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০তে এগিয়ে গেল লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। প্রথম ম্যাচের চেয়ে ব্যাটে-বলে গোছানো খেলা খেলল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়টাও তাই এল অনায়াসে।
প্রথম ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও অর্ধশত করতে পারেনি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান। তবে বেশ কয়েক জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাগতিকরা তুলতে পারে ৩ উইকেটে ১৬৭ রান। শুরুটা ভালো হলেও পরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিম্বাবুয়ে করতে পারে ৮ উইকেটে ১২৫ রান।
প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার সাব্বির রহমান এবার জয়ের নায়ক ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে। ৩০ বলে ৪৩ রানের দারুণ অপরাজিত ইনিংসের পর বল হাতে নিয়েছেন ৩ উইকেট!
ব্যাটিং উইকেটে ১৬৮ রানের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টিতে খুব দুরূহ নয়। তবে দু:সময়ের বৃত্তে থাকা জিম্বাবুয়ের মনোবল যে একদমই তলানিতে! রান তাড়ায়ও পড়ল সেটিরই প্রতিফলন।
শুরুটা যদিও ছিল ভালো। আগের ম্যাচে শতরানের উদ্বোধনী জুটির পর এবার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ভুসি সিবান্দার জুটি ৫০ রানের। এর পর যথারীতি পথ হারানোর গল্প।
আগের ম্যাচে বল হাতে ব্যর্থ মাশরাফি বিন মুর্তজা এবার দলকে এনে দেন প্রথম ব্রেক থ্রু। ২১ রান করে বাংলাদেশ অধিনায়কের বলে প্লেড অন সিবান্দা।
মাশরাফি অবশ্য উইকেট পেতে পারতেন আরও আগেই। তার এক ওভারেই দুবার জীবন পান মাসাকাদজা। কাভারে ক্যাচ ফেলেন ইমরুল কায়েস। দুই বল পর মিড উইকেটে বলে ক্যাচ নিতে পারেননি শুভাগত হোম। মাসাকাদজার রান তখন ছিল ২৪।
এই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দেন মাসাকাদজাই, টসের সময় জানান, বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে নিয়মিত অধিনায়ক এ্ল্টন চিগুম্বুরাকে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ব্যাট হাতে বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন আবারও। কিন্তু সাব্বিরকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন সীমানায় (৩০)।
সাব্বির পরে ফিরিয়েছেন রিচমন্ড মুতুম্বামিকে (৭)। স্পিনে জিম্বাবুয়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামসকে (৭) ফিরিয়েছেন শুভাগত হোম। অর্ধশত রানের উদ্বোধনী জুটির পর জিম্বাবুয়ে হয়ে গেছে তখন ৪ উইকেটে ৬৮!
এরপর থেকেই জিম্বাবুয়ের লড়াইটা ছিল মূলত ব্যবধান কমানোর। মুস্তাফিজ-সাব্বিরদের দারুণ বোলিংয়ে সেটিও পারেনি তারা। ধুঁকতে ধুঁকতে শেষ করে ২০ ওভার।
জোড়া উইকেট নেওয়াকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলা মুস্তাফিজ আবারও এক ওভারে উড়িয়েছেন দুই ব্যাটসম্যানের বেলস। শেষ বলটা করার আগে অবশ্য হাতে চোট পেয়ে ছেড়েছেন মাঠ।
সেই শেষ বলে উইকেট নিয়েছেন সাব্বির। আগের দুই উইকেট মিলিয়ে ১১ রানে ৩ উইকেট! একটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি, আল আমিন ও শুভাগত।
এর আগে বাংলাদেশকে বড় স্কোরের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। জিম্বাবুয়ের বোলারদের বাজে বোলিংকে কাজে লাগিয়ে দুই ওপেনার মাঠের চারপাশে আছড়ে ফেলেন বল। শুরুতে রান হতে পারত আরও বেশি, যদি সিঙ্গেল নেওয়ায় আরেকটু মনোযোগী হতেন দুজন। প্রথম ৬ ওভারে দুই বাঁহাতি ৬টি চার ও দুটি ছক্কা মারলেও ডট বল ছিল ২০টি। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ তোলে ৪৬ রান।
১৭ বলে ২৩ রান করে তামিম আউট হয়েছেন টাওরাই মুজারাবানির স্লোয়ারে ল্যাপ সুইপ করতে গিয়ে। সৌম্য ছাড়িয়ে যান টি-টোয়েন্টিতে নিজের আগের সেরা স্কোর (৩৭)। তবে ইনিংসটা বড় করতে পারেননি তিনিও। গ্রায়েম ক্রেমারকে ডাউন দা উইকেটে খেলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন চারটি চার ও ৩ ছক্কায় ৩৩ বলে ৪৩ করে।
গত ম্যাচে যেখানে থেমেছিলেন, সাব্বির শুরু করেছিলেন যেন সেখান থেকেই। প্রথম থেকেই ছিলেন সপ্রতিভ। চারে নেমে মাহমুদউল্লাহ ফিরেছেন ১ রান করেই। তবে মুশফিকুর রহিম খেলেছেন নিজের মতোই।
চতুর্থ উইকেটে দারুণ গতিতে রান তুলছিলেন সাব্বির ও মুশফিক। হঠাৎ ছন্দপতন মুশফিকের চোটে। ১৬তম ওভারের শেষ বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে মুশফিকের; বাধ্য হন উইকেট ছাড়তে (২০ বলে ২৪)।
শেষ ৪ ওভারে সাকিব ও সাব্বির তোলেন ৩৯ রান। ৩০ বলে ৩ ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির। শেষ ওভারে একটি ছক্কাসহ ১৭ বলে অপরাজিত ২৭ করেন সাকিব।
বাংলাদেশের ১৬৭ রান পরে জেতার জন্য হয়ে উঠে যথেষ্ট।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s