taiwan 1st Nari presidentতাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) সাই ইং-ওয়েন। তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। শনিবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতাসীন কুয়োমিন্টাং পার্টির (কেএমটি) প্রার্থী এরিক চু পরাজয় মেনে নিয়ে বলেন, “এরিক চু সবাইকে হতাশ করেছে। আমরা হেরে গেছি।”
নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য তিনি সাই ইং-ওয়েনকে শুভেচ্ছা জানান। সেইসঙ্গে দলের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাও দেন।
তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী মাও চি-কুওও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাই ইং-ওয়েনের জয় দেশটিতে স্বাধীনতাপন্থিদের জয় এবং এতে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।যদিও জয়লাভ করার পর এক বক্তৃতায় সাই চীনের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বেইজিংকেও অবশ্যই তাইওয়ানের গণতন্ত্রকে সম্মান জানাতে হবে।
“উভয় দেশকেই কোনো ধরণের উস্কানিমূলক আচরণ না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।”
তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে চীন। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও তারা দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার হুমকি দিয়ে রেখেছে। তবে সাই ইং-ওয়েনের জয়ের খবরে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জায়নি চীন।
তাইওয়ানের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের কয়েক মাস আগে দুই দেশের দুই নেতা ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।
প্রতীকি হলেও কুয়োমিন্টাং প্রেসিডেন্ট মা ইং জেউ ও চীনা প্রেসিডেন্ট কমিউনিস্ট পার্টির শি জিনপিংয়ের বৈঠকটি ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নভেম্বরে সিঙ্গাপুরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
৬৬ বছর আগে চীনের গৃহযুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে ক্ষমতাসীন কুয়োমিন্টাং দলের লড়াইয়ে ক্ষমতাসীনরা পরাজিত হয়। কুয়োমিন্টাং দলীয় নেতৃবৃন্দ চীনের মূল ভূখণ্ড ছেড়ে তাইওয়ানে আশ্রয় নেন। সেখানে নিজেদের শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন তারা।কুয়োমিন্টাংরা এক চীন নীতির সমর্থক।
এর আগে ডিপিপি-র চেন শুই বিয়ান প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদকালে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্কে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।