USA tushar jhorভয়াবহ তুষার ঝড়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্টের নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবন যাপন। যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। পুর্ব উপকূলের এসব রাজ্যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সাড়ে আট কোটি বাসিন্দা, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ। শীতকালীন এ ঝড়ের গতিবেগ এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৫ কিলোমিটার থাকলেও তুষারপাতের মাত্রা অস্বাভাবিক।
রবিবার বিবিসির খবরে বলা হয়, দেশটির প্রায় আট কোটির বেশি মানুষ এ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। ‘স্নোজিলা’ নামের এ তুষার ঝড়ে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নর্থ ক্যারোলাইনা, আরকানসাস, টেনেসি, কেনটাকি, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও ভার্জিনিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২০ অঙ্গরাজ্যে ’স্নোজিলা’ বয়ে যাচ্ছে।
নিউইয়র্কের মেয়র অ্যান্ড্রো কুমো জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। এর আগেই আরও ১০টি রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। তবে অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন নয় বলে জানানো হয়।
ভয়াবহ তুষার ঝড়ে ঢেকে গেছে নিউইয়র্ক সিটি। স্থানীয় সময় রবিবার পর্যন্ত এখানে তুষারপাত চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এ শহরে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার বরফের স্তরে ঢেকে গেছে।
অনেক বাড়ির সামনে আড়াই ফুটের বেশি তুষার জমেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিমান, রেলসহ সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউজার আলজাজিরাকে বলেন, ‘জনগণের কাছে আমাদের বার্তা হচ্ছে তারা যেন আমাদের কথা শোনে। তারা যেন বাড়িতে অবস্থান করে এবং রাস্তায় বের না হয়।’
যদিও কিছু কিছু বাসিন্দা জানায়, তারা এ মুহূর্তটিকে দেখার ইচ্ছাকে খর্ব করতে পারেনি। তাই ঘর থেকে বের হয়ে এসেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসি ৮৬ সেন্টেমিটার বরফের স্তরে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। রবিবার পর্যন্ত সেখানেও যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
কয়েকটি রাজ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নেরও খবর পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দারা ঝড়ের কারণে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে।