রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জোকোভিচের


Djokovicতৃতীয় সেটের টাইব্রেকার চলছে। তাতে ৬-৩ এ এগিয়ে তিনি। সার্ভিসও তাঁর। আর একটা পয়েন্ট দরকার নোভাক জোকোভিচের। তাহলেই চ্যাম্পিয়ন! জিতলেন জোকোভিচ চ্যাম্পিয়নের মতোই। এইস মারলেন, যেটি ঠেকানোর সামর্থ্য ছিল না অ্যান্ডি মারের। কিন্তু কী নির্বিকার জোকোভিচ। শুধু হাতটা মুষ্টিবদ্ধ করলেন, ঠোঁটে আলতো হাসি। একটু সামনে গিয়ে পিচে চুমু খেলেন। কী শান্ত, কী সুস্থির! দেখে কে বলবে, এই মাত্র অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের রেকর্ড সংখ্যক ৬টি শিরোপা জিতে রয় এমারসনের পাশে বসলেন!
নাকি অভ্যাসের কারণেই এমন নির্লিপ্ত! এর আগে তিনবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে মারের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তিনবারই জিতেছিলেন। চতুর্থবারে এসেও ফলটা বদলাল না। র‍্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে থাকা মারেকে ৬-১, ৭-৫, ৭-৬ (৭-৩) গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের ১১তম গ্র্যান্ড স্লামটি জিতলেন জোকোভিচ, ছুঁয়ে ফেললেন বিয়ন বোর্গ, রড লেভারকে।
প্রথম সেটের শুরু আর শেষেই যা একটু উত্তেজনা ছিল। শুরু আর শেষের গেম দুটিতে জোকোভিচের সার্ভিস ব্রেক করার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন মারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারলেন না। দুবারই ব্রেক পয়েন্ট থেকে বেঁচে ফিরলেন জোকোভিচ। এই ‘কাছাকাছি যাওয়া’ আর ‘ব্রেক করার’ মধ্যে পার্থক্যটাই হয়ে রইল সেটের পার্থক্য। মারে যা পারলেন না, জোকোভিচ সেটিই করে দেখালেন। ব্রিটিশ তারকার প্রথম দুই সার্ভিসই ব্রেক করে দিলেন ‘জোকার’। সেটটাও জিতে নিলেন ৬-১ গেমে।
প্রথম সেট জিতেছেন, মারের সঙ্গে এমন ১৭ ম্যাচে সার্বিয়ান তারকার পক্ষে রেকর্ডটা ১৭-০। এবারও কী জোকোভিচ? দ্বিতীয় সেটে সেই পথে আরও একটু এগিয়ে গেলেন জোকার। জিতলেন ৭-৫ গেমে।
কত সহজে বলা হয়ে গেলে, ৭-৫! স্রেফ এই ব্যবধান দিয়ে কী বোঝা যায়, সেটটা কতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে? প্রথম সেটটি যদি জোকোভিচের জন্য ‘প্র্যাকটিস’ হয়, তবে দ্বিতীয় সেট হলো পুরো ফাইনালের মতো। এই সেটটিই হলো আসল ‘এক’-এর সঙ্গে ‘দুই’য়ের লড়াই। প্রতিটি গেমে, প্রতিটি পয়েন্টের জন্য শেষ অবধি লড়েছেন জোকোভিচ-মারে। একটা তথ্য এই সেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে—১২টি গেমের ছয়টিই গড়িয়েছে ডিউসে। জোকোভিচ ব্রেক করেছেন দুবার, মারে একবার।
পুরুষ ও নারী টেনিসে গত কদিনে এই মেলবোর্ন পার্কে বেশ কটি ধ্রুপদি ম্যাচ হয়ে গেছে—ফেদেরার-জোকোভিচ, রাওনিচ-মারে, সেরেনা-কারবার…। এই ম্যাচ মানের দিক দিয়ে সেরকম কিছু হয়তো হয়নি। তবে ৮০ মিনিটের দ্বিতীয় সেটটি সেই অভাব অনেকটাই ঘুচিয়ে দিয়েছে।
প্রতিটি গেমেই তীব্র লড়াই হয়েছে, তবে এর মধ্যেও আলাদা করে বলতে হচ্ছে ১১তম গেমের কথা। সেটের ভাগ্য যে ওই সেটেই বদলেছে। তা-ও কীভাবে! সার্ভিস করতে এসে একটা সময়ে ৪০-০ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন মারে। সেখান থেকেই অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে এসে উল্টো গেমটা জিতে নিলেন জোকোভিচ!
ম্যাচের শুরু থেকেই ফোরহ্যান্ড নিয়ে ভুগছিলেন। নেট পয়েন্টগুলোও জিততে পারছিলেন না। তার খেসারত দিয়েই ২-০ সেটে পিছিয়ে পড়েছিলেন। এখান থেকে ফিরে আসতে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো মারেকে। অবশ্য তাঁকে হাতছানি দিচ্ছিল যে অর্জন, সেটিই বা কম অবিশ্বাস্য কী! সেই ১৯৩৪ সালে ফ্রেড পেরির পর প্রায় ৮২ বছরেও যে কোনো ব্রিটিশ খেলোয়াড় জিততে পারেননি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন!
কিন্তু তৃতীয় সেটের শুরুতেই আবার ধাক্কা। মারের প্রথম সার্ভিসটাই জলে গেল। ব্রেক করে ফেললেন জোকোভিচ। তবে মারেও থেমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনিও ব্রেক করলেন জোকোভিচের তৃতীয় সার্ভিস গেম। কিন্তু ওইটুকুই। এরপর যে যার সার্ভিস জিতে নেওয়ায় ৬-৬ থাকা গেমটি গড়াল টাইব্রেকারে। তাতে পুরো দাপট ছিল জোকোভিচের। ৭-৩ পয়েন্টে জিতে সেটের সঙ্গে ম্যাচটাও জিতে নিলেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ট্রফিটাও ।
আরও একবার কাপ নিতে এসে প্লেট হাতেই বিদায় নিতে হলো মারেকে। তথ্যসূত্র: সনি-ইএসপিএন।

Advertisements

About Emani

I am a professional Graphic designers create visual concepts, by hand or using computer software, to communicate ideas that inspire, inform, or captivate consumers. I can develop overall layout and production design for advertisements, brochures, magazines, and corporate reports.
This entry was posted in Other Game. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s