টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত বার্সা


Barcelona+1রেকর্ড ছুঁয়েই জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা লেভান্তের বিপক্ষে দুর্দান্ত বার্সেলোনাকে দেখা গেল না। এবার তাই গোলবন্যা নয়, ২-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লুইস এনরিকের দলকে।
এনরিকের অধীনে বার্সেলোনার এটা ছিল শততম ম্যাচ। এই জয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করার পাশাপাশি স্পেনের ক্লাবগুলোর মধ্যে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নিজেদের রেকর্ড ছুঁয়েছে গত মৌসুমে ট্রেবল জেতা দলটি। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তখনকার কোচ পেপ গুয়ার্দিওলার অধীনে রেকর্ডটি গড়েছিল কাতালান ক্লাবটি।
গত বুধবার ভালেন্সিয়াকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করা বার্সেলোনা এদিন তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো। বল জালেও জড়ান মেসি, কিন্তু রেফারির অফসাইডের বাঁশিতে বেঁচে যায় লেভান্তে।
এরপর প্রত্যাশার বিপরীতে বার্সেলোনার রক্ষণে বেশ কিছুটা সময় চাপ বাড়ায় স্বাগতিকরা। তবে ভালো কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি তারা।
সপ্তদশ মিনিটে আবারও হতাশ হতে হয় বার্সেলোনা সমর্থকদের। ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেইমারের জোরালো কোনাকুনি শটটি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক দিয়েগো মারিনো।
তিন মিনিট বাদেই প্রতিপক্ষের ভুলে প্রথম গোল পেয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ছোট ডি বক্সে ঢুকে পড়া লুইস সুয়ারেসের দিকে বল বাড়িয়েছিলেন জর্দি আলবা, মাঝ পথে সেটা ঠেকাতে যান ডিফেন্ডার দাভিদ নাভারো। কিন্তু বল তার শরীরে লেগে জালে ঢুকে যায়।
২৪তম মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে নেইমার গোললাইনের কাছ থেকে সুয়ারেসকে পাস দেন। কিন্তু ছোট ডি বক্সে বল পেয়ে শটটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার।
পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকলেও ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে মাঝে মধ্যেই নিজেদের মেলে ধরছিল লেভান্তে। ৩১তম মিনিটে গোল পেতে পারতো তারা; কিন্তু কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার জেফারসন লের্মা গোলরক্ষককে একা পেয়েও ব্যর্থ হন।
পাঁচ মিনিট বাদে ভাগ্যের গোল পায়নি লেভান্তে; ক্ষিপ্র গতিতে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার লুইস মোরালেস বাঁদিক দিয়ে ছুটে গিয়ে দারুণ কোনাকুনি শট নেন। বল গোলরক্ষক ক্লাওদিও ব্রাভোকে পরাস্ত করলেও পোস্টে বাধা পায়।
তবে গোল না পেলেও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনার বিপক্ষে একটি মাত্র গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়াও কম স্বস্তির নয় লেভান্তের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও মেসির অফসাইড হতাশা; ইভান রাকিতিচের বাড়ানো বল ধরে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। কিন্তু অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। ৫৯তম মিনিটে রাকিতিচের হেড কর্নারে বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক।
অবশেষে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুইস সুয়ারেস। মেসির বাড়ানো পাস থেকে এবারের লিগে ২০তম গোলটি করেন সুয়ারেস।
এক গোল কম নিয়ে লিগের গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সুয়ারেসের ৩৪ ম্যাচে ৩৬ গোল পেলেন।
এই জয়ের পর ২২ ম্যাচে বার্সেলোনার পয়েন্ট হলো ৫৪। এক ম্যাচ বেশি খেলা আতলেতিকো মাদ্রিদ ৫১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s