Indai1455016262যুব ক্রিকেট বিশ্বকাপে এরআগে ভারত ফাইনালে উঠেছে চারবার। তিনবারই শিরোপার স্বাদ পায় তারা। মঙ্গলবার পঞ্চমবারের মত ফাইনালে উঠল ভারতীয় যুবারা। শ্রীলঙ্কাকে ৯৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ইশান কিশানের ভারত। ২০০০ সালে ভারত প্রথম যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল। এরপর ২০০৮ ও ২০১২ সালের ট্রফিও জয় করে তারা। ২০০৬ সালেও শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জেগেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের কাছে হেরে যাওয়ায় রানারআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ভারতীয়দের।
মিরপুরে ১৬ বছর পর লঙ্কান যুবাদের সামনে ছিল ফাইনালে উঠার হাতছানি। কিন্তু তা আর হলো কই। দুর্দমনীয় ভারতের সামনে এবারও অসহায় তারা। ভারতের কাছে ৯৭ রানে হেরে ফাইনালে উঠার স্বপ্নের সমাধি রচনা হলো লঙ্কান যুবাদের। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার যুব বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৯৭ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে তিনবারের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত।
এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আসল ভারত। সর্বশেষ ভারত ফাইনালে উঠেছিল ২০১২ সালে। সেবার স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছিল তারা। মিরপুরে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে নয় উইকেটে ২৬৭ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪২.৪ ওভারে ১৭০ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ৯৭ রানের দাপুটে জয় পায় চলতি টুর্নামেন্টে এক ম্যাচেও না হারা ভারত। ২০০০ সালে শ্রীলংকা প্রথম ফাইনাল খেলেছিল নিজ মাটিতে। তবে শিরোপা জিততে পারেনি তারা। সেবার ফাইনালে লঙ্কান যুবারা হেরেছিল এই ভারতের কাছেই। ৯২ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৭২ রান করার সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন ভারতের অমলপ্রীত সিং।
এদিকে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সূচনাটা মোটেই ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। দলের স্কোরশিটে ১৩ রান যোগ হতেই বিদায় নেন দুই ওপেনার কেভিন বান্দারা(২) ও ফার্নান্দো (৪)। তাদের তৃতীয় উইকেটের পতনটাও খুব একটা দেরিতে হয়নি। দলীয় ৪২ রানের মাথায় বাথামের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা (৬)।
অধিনায়ক বিদায় নিলেও মনোবল ভাঙেনি কামিন্দু মেন্ডিস ও সাম্মু আহসানের! চতুর্থ উইকেটে তারা জুটি গড়েন ৪৯ রানের। এই জুটিতে কিছুটা হলেও জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল লঙ্কানদের। কিন্তু না। ব্যক্তিগত ৩৯ রানে কামিন্দু ও ৩৮ রানে আহসান আউট হলে লঙ্কানদের খোলসবন্দী করে ফেলে ভারতীয় বোলাররা। শেষ পর্যন্ত লঙ্কানরা বের হতে পারেনি সেই খোলস থেকে। যার ফল অবধারিত পরাজয়। হলো ঠিক তা-ই। যুব বিশ্বকাপ থেকে কান্নার বিদায় হলো শ্রীলঙ্কার যুবাদের।
ভারতের পক্ষে সেরা বোলার মায়ানক ডাগর। ৫.৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন তিন উইকেট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ উইকেট পকেটে পুরেছেন আভিশ খান। একটি করে উইকেট দখলে নেন খলিল আহমেদ, রাহুল বাথাম ও ওয়াশিংটন সুন্দর।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ২৩ রান। মাত্র ১৪ রান করে আউট হয়ে যান আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান পান্ত। আসিথা ফার্নান্দোর বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে তুলে দেন তিনি। ১ম উইকেটের রেশ কাটতে না কাটতেই ভারত শিবিরে আঘাত হানেন লাহিরু কুমারা। অধিনায়ক ইশান কিশান ফিরে যান উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। মাত্র ৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর আনমলপ্রিত সিং ও সরফরাজ জুটি ৯৬ রান সংগ্রহ করে।
দলীয় ১২৩ রানের মাথায় সরফরাজ আউট হন ফার্নান্দোর বলে। যাবার আগে করেছিলেন ৫৯ রান। এরপর ছোট ছোট জুটিতে শেষ পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ দাড়ায় ২৬৭ রান ৯ উইকেট হারিয়ে। দলের পক্ষে আনমলপ্রিত সিং সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন। এছাড়াও সরফরাজ খান ৫৯, ওয়াসিংটন সুন্দর ৪৩ ও আরমান জাফর ২৯ রান করেন। শ্রীলঙ্কান বোলারদের মধ্যে আসিথা ফার্নান্দো একাই নেন ৪টি উইকেট। এ ছাড়া লাহিরু কুমারা ও থিলান নিমেষ নেন ২টি করে উইকেট।