bangladesh-india (asia cup)অনেক আশা-ভরসা নিয়েই ১৩তম এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাগতিকদের সেই আশা রূপ নেয় নিরাশায়। প্রথম ম্যাচেই ভারতের কাছে ধরাশায়ী টাইগাররা। বুধবার বৃষ্টির শঙ্কা পেছনে ফেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হেরে গেছে ৪৫ রানে। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ২০ ওভার খেললেও ৭ উইকেটে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১২১ রানে। আর তাতে হতাশার হার দিয়েই এশিয়া কাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ।
একটা ক্যাচ মিসের মূল্য কত? নানা জনের কাছে নানা উত্তর পেতে পারেন। সাকিব আল হাসান ও বুধবার রাতে শের-ই-বাংলার গ্যালারিতে উপড়ে জনস্রোতের কাছে প্রশ্নটা করে দেখেন, বিষাদে ঢাকা একটা ছায়ামূর্তিই হতে পারে তাদের উত্তর! ২১ রানে রোহিত শর্মার ক্যাচটা সাকিব না ফেললে কী কী হতে পারতো, সেই গল্প অজানাই থেকে গেল।
মিরপুরে বুধবার উদ্বোধনী ম্যাচে ভারত প্রথমে ব্যাট করে রোহিত শর্মার হাফ সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান করে ভারত। জবাবে ৭ উইকেটে ১২১ রান করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ।
মিরপুরের সবুজাভ উইকেটে ১৬৭ টার্গেটই বড়সড় চাপ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। ইনিংস জুড়েই সেই চাপ উতরে যাওয়ার চেষ্টায় সফল হয়নি টাইগাররা। ১৫ রানেই দুই ওপেনার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। মিঠুন (১) বোল্ড হন নেহেরার বলে, সৌম্য (১১) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। সাব্বির-ইমরুলের তৃতীয় উইকেট জুটি ৩৫ রান যোগ করে।  ২৪ বলে ১৪ রান করা অশ্বিনের শিকার হলে ভাঙে তাদের জুটি। একপ্রান্ত আগলে লড়াইটা চালিয়ে গিয়েছিলেন সাব্বির। দলীয় ৮২ রানে বিদায় নেন তিনি। ৩২ বলে ৪৪ রান (২ চার, ২ ছয়) করেন তিনি।
মাহমুদউল্লাহ (৭), মাশরাফিরাও (০) পারেননি প্রতিরোধ গড়তে। শেষ দিকে মুশফিক, তাসকিনের ব্যাটে একশো পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। মুশফিক অপরাজিত ১৬, তাসকিন অপরাজিত ১৫ রান করেন। ভারতের নেহেরা ৩টি উইকেট পান।
এর আগে রোহিত শর্মার ‘দুই-জীবনের’ অবদানে বড় স্কোর পায় ভারত। এক জীবনে করেছিলেন ২১ রান। সেখানেই থামতো পারতো তার ব্যাটের নাচন। তাসকিনের করা এগারতম ওভারের তৃতীয় বলে পয়েন্টে সহজ ক্যাচ ফেলেছেন সাকিব। আর ওই ক্যাচ মিসের ফলে দ্বিতীয় জীবনে রোহিতের ব্যাটিংই বদলে দিয়েছে ভারতের ইনিংসের গতিপথ। ক্যাচ ফেলার চড়া মাশুলও দিয়েছে বাংলাদেশ।
জীবন পেয়ে পরের ২৭ বলে ৬২ রান করেছেন রোহিত। আউট হয়েছেন ৫৫ বলে ৮৩ রানের (৭ চার, ৩ ছয়) ইনিংস খেলে। যদিও বাংলাদেশের পেসারদের তোপে কম্পমান অবস্থায় শুরু হয়েছিল ভারতের ইনিংস। প্রথম ৬ ওভারে ২ উইকেটে ৩১ রানের বেশি যেতে পারেনি তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শেখর ধাওয়ানের (২) অফ স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন আল-আমিন। পঞ্চম ওভারে এসে মাশরাফি ফেরত পাঠান কোহলিকে (৮)।
রানের জন্য হাঁসফাঁস করা রায়নাকে (১৩) বোল্ড করেন মাহমুদউল্লাহ। ৪র্থ উইকেটে ভারতের ইনিংস বিনির্মাণের কাজটা করে রোহিত ও যুবরাজের ৫৫ রানের জুটি। যুবরাজকে (১৫) ফেরান সাকিব। এই জুটির গড়া ভিত কাজে লাগিয়ে শেষ দিকে দ্রুত গতিতে রান তুলেছে ভারত। পাঁচ ওভারে ৬৯ রান তোলে তারা। রোহিত-পান্ডেয়ার ৫ম উইকেট জুটি ২৭ বলে ৬১ রান যোগ করে। ইনিংসের শেষ ওভারে আল-আমিনের শিকার হন রোহিত ও পান্ডেয়া। মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দেয়া পান্ডেয়া করেন ১৮ বলে ৩১ রান (৪ চার, ১ ছয়)। বাংলাদেশের পক্ষে আল-আমিন ৩টি, মাশরাফি-সাকিব ১টি করে উইকেট নেন।
রোহিত ম্যাচ সেরা হন।