formalinভেজাল রোধে সরকার কঠোর হলেও ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ নেই কোথায় কীভাবে ফরমালিন ব্যবহার হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সামনে ফরমালিন চেকিং বুথগুলোকে কর্মহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।  এ ছাড়াও রাজধানীর তিনটি বাজারে ফরমালিন শনাক্তকরণ বুথ বসানো হয়েছিল গত বছর রমজান মাসের আগে। রাজধানীর শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ বাজার ও মহাখালী কাঁচাবাজারে ফরমালিন শনাক্তকরণ বুথ বসানো হলেও শান্তিনগর বাজারের বুথে এখন পর্যন্ত কোনো লোক বসানো হয়নি। যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় মালিবাগ বাজারের সামনে থেকে ফরমালিন শনাক্তকরণ বুথ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহাখালী বাজারে বুথ কর্মহীন অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিনে শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের সামনে অনেক পরিপাটি একটি বুথ। কিন্তু ভেতরে চেয়ার-টেবিল থাকলেও এখনো পর্যন্ত এই চেয়ার-টেবিলে কেউ বসেনি। জানা গেছে, এই বুথটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৭ লাখ টাকা। অনেক সুন্দর ও পরিপাটি বুথটির ভেতরে আসবাবপত্রে ধুলা জমে আছে। দরজায় লাগানো আছে তালা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর যেসব বাজারে মেশিন বসানো হয়েছে সেসব বাজারে খাদ্যপণ্য আসার পর তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় না।
শান্তিনগর বাজারে ফরমালিন শনাক্তকরণ বুথের কাছেই এক সবজিবিক্রেতা বলেন, ‘চার বছর ধরে আমি বাজারের ভেতরে ব্যবসা করছি। গত দেড় বছর যাবৎ বাইরে রাস্তার পাশে ব্যবসা করছি। এই সময়ের মধ্যে আমার দোকানে কেউ ফরমালিন চেক করতে আসেনি। যে বুথটি দেখছেন এটিও ভুয়া। নামে মাত্র বসিয়েছে। এই বুথে এখন পর্যন্ত কোনো লোক বসতে দেখা যায়নি। বুথের ওপর ময়লার আস্তরণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, এটা দেখার কেউ নেই।’
শান্তিনগরের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি এই বাজারে প্রতিদিন বাজার করি। কিন্তু কোনো দিন কাউকে ফরমালিন চেক করতে দেখিনি। এই ফরমালিন শনাক্তকরণ বুথটি তৈরি করা হয়েছে লোক দেখানোর জন্য।’
বাজার কমিটি তদারকির দায়িত্বে থাকলেও তা ঠিকভাবে মনিটরিং করা হয় না। শান্তিনগর বাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ফল ও সবজির দোকানগুলোতে নিয়মিত ফরমালিন শনাক্ত করা না হলেও মাছের বাজারে আমরা প্রতিদিন চেক করি।’ শান্তিনগর বাজারে কোনো কিছুতেই ফরমালিন নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এক বছর আগে মালিবাগ বাজারে ফরমালিন শনাক্তকরণ বুথ থাকলেও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে বলে সেটি পুলিশ তুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মালিবাগ বাজার বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের অফিস সহকারী আতোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে ফরমালিন শনাক্তকরণ বুথ না থাকলেও আমরা ভোর ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজারের ভেতরে মাছ, সবজি, ফলমূল প্রবেশের আগে পরীক্ষা করি।’
এ সময় তার কাছে ফরমালিন শনাক্তকরণ মেশিনটি দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে ব্যর্থ হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, খাদ্যপণ্যকে ফরমালিনমুক্ত রাখতে পরীক্ষা করে পণ্য বিক্রি করার কথা থাকলেও তা বেশিরভাগ সময়ে মানা হচ্ছে না। ফরমালিনমুক্ত ঘোষণার খবর পেয়ে এসব বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও কাজের কাজ কতটুকু হচ্ছে তা নিয়ে শঙ্কিত ক্রেতারাও। মেশিন বাসানোর পর এ নিয়ে বাজার কমিটি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টদের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ছে না।
টিসিবির আমদানি বিভাগের অতিরিক্ত ইনচার্জ মো. হুমায়ন কবির বলেন, ‘টিসিবির মাধ্যমে ফরমালিন আমদানি করা হলে কোথায় কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, তার হিসাব থাকত। এখন এই রাসায়নিক বেসরকারিভাবে আমদানি হয় বলে যে যেভাবে পারছে তা ব্যবহার করছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিনের অপব্যবহার করছে।’
উল্লেখ্য, খাদ্যপণ্যে ভেজাল ঠেকাতে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ডেকে ফরমালিন ডি-হাইড্রেড মেশিন বসিয়েছিল এফবিসিসিআই। দেশের ২৭টি বাজারে ফরমালিন শনাক্তকরণ মেশিন দেওয়ার পর আর কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। রাজধানীর মগবাজার কাঁচাবাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার, গুলশান-২ কাঁচাবাজার, মহাখালী কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার, মালিবাগ বাজার, উত্তরার আজমপুর, বনানী কাঁচাবাজার, কাপ্তানবাজার, মিরপুর-১, নিউমার্কেট বনলতা, বাদামতলী, শাহ আলী সিটি করপোরেশন মার্কেটকে ফরমালিনমুক্ত ঘোষণা করে সেখানে ফরমালিন ধরার জন্য ফরমালিন ডি-হাইড্রেড মেশিন বসানো হয়েছিল।