India-vs-Sri-Lankaএশিয়া কাপের ১৩তম আসরের ফাইনালে প্রায় এক পা দিয়েই রেখেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে আসরের বড় দুই দল স্বাগতিক বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে তারা। সেই হিসেবে শ্রীলংকার বিপক্ষেও মঙ্গলবারের ম্যাচেও ফেভারিট ভারত। লংকানদের এদিন হারাতে পারলে ফাইনাল নিশ্চিত হযে যাবে ধোনি-কোহলিদের।
আর ফাইনালের পথ খোলা রাখতে হলে ভারতের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই লাসিথ মালিঙ্গার শ্রীলংকা দলের।
আর মাত্র একটি জয় তাহলেই ফাইনাল। এমন লক্ষ্য নিয়েই এশিয়া কাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্য সাড়ে ৭টায় দুর্বার ভারতের মুখোমুখি হবে অনেকটাই নড়বড়ে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা।
আর শ্রীলঙ্কা হেরে গেলে ফাইনালের দৌঁড় থেকে ছিটকে যাবে। জিতলে বেঁচে থাকবে ফাইনালে খেলার আশা।  এমন সমীকরণে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
এশিয়া কাপে এবারের আসরের শুরু থেকেই দুর্দান্ত দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে ৫ বারের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ৪৫ রানে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচেও চীরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের পথ অনেকটাই মসৃণ করেছে ভারত। তৃতীয় ম্যাচে দলটির প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।
আর এই ম্যাচে জয় পেলেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনালে উঠে যাবে ধোনি-কোহলিরা। লঙ্কানদের বিপক্ষে ফাইনালের মিশনের এই ম্যাচের আগে পরিসংখ্যান বলছে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসদের চাইতে এগিয়ে ভারত। দলটির বিপক্ষে এ পর্যন্ত ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ধোনিরা, যেখানে জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ভারী। কেননা, ৯ ম্যাচের ৫টিতেই ধোনিদের জয় আর ৪টিতে জিতেছে ম্যাথিউসরা।
এমন পরিসংখ্যান সামনে রেখেই নিজেদের জয়ের পাল্লা আরও ভারী করতে মঙ্গলবারের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে মোকাবেলা করবে ভারত। তবে একথাও সত্য যে ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। মুহুর্তেই ম্যাচের ভাগ্য ঘুরে যায়। আর টি-২০ তো আরও।
সীমিত সংস্করণের এই ম্যাচটিতে মাত্র ২ ওভারেই ম্যচের চেহারা পাল্টে দেয়া যায়। তাই হয়তো এই ‍মুহূর্তে উড়ন্ত ফর্মে থেকেও ভারত স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই কথা বললেন। ‘নি:সন্দেহে শ্রীলঙ্কা একটি বড় দল। আর বড় ম্যাচ গুলোতে তারা তাদের খেলার মান আরও বাড়াবে। একই সাথে একথা অনস্বীকার্য যে, ওরা ভাল দল।’
সোমবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচপূর্ব অনুশীলনে এসে এই ভারত স্পিনার কথা বললেন দলটির বোলার লাসিথ মালিঙ্গাকে নিয়েও। লাসিথ মালিঙ্গার মত বিশ্বসেরা বোলারকে সমীহ করেই অশ্বিন বললেন, ‘সন্দেহাতীত ভাবেই মালিঙ্গা একজন বিশ্বসেরা বোলার। তিনি লঙ্কান দলে না খেললে তা প্রতিপক্ষ যে কোন দলের জন্যই সুসংবাদ।’
এদিকে ২০১১ সালের পর গেল জানুয়ারি থেকে দলে ফিরে বেশ ভাল ছন্দেই আছেন ভারতের পেসার আশিস নেহেরা। তাই তার সম্পর্কে বলতে গিয়েই কিছুটা আপ্লতু হয়েই অশ্বিন বলেন, ‘আশিস নেহেরা আমাদের দলের একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। ডেথ ওভারে ও ভাল বল করে যা প্রতিটি দলের জন্যেই একটি বাড়তি পাওনা হতে পারে।’
উল্লেখ্য এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে বল হাতে নেহেরা তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট আর পরের ম্যাচে ভারতের বিপেক্ষে পেয়েছেন ১টি। নেহরার পর অশ্বিন মাতলেনে আরেক সতীর্থ পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ বন্দনায়ও। ‘বুমরার ইয়র্কার লেংথের বলগুলো সত্যিই প্রশংসার দাবীদার যা আমাদের দলে গত কয়েক বছর দেখা যায়নি এবং অবশ্যই তা আমাদের জন্য একটি বাড়তি পাওনা।’
অন্যদিকে, ভারতের সমর্থকদের মনে ইতোমধ্যেই কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে দলটির ওপেনার রোহিত শর্মার ইনজুরির খবর। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে মোহাম্মদ আমিরের বল খেলার সময় বাঁ পাঁয়ে আঘাত পান রোহিত। তবে, সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় টিম মেনেজমেন্ট জানিয়েছে, ‘রোহিতের চোট সামান্য এবং তিনি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে পারবেন।’
আর যাই হোক, এশিয়া কাপে এবারের আসরের শুরু থেকে দুর্দান্ত ভারত নিশ্চই এ ম্যাচেও তাদের দুর্দান্ত খেলা থেকে সরে দাঁড়াবেনা সেকথা বলা যায়।
এদিকে, কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনেহীন শ্রীলঙ্কা যেন শ্রী হারিয়েছে। কোন ভাবেই তাদের চীরচেনা সেই রুপে দেখা যাচ্ছেনা।
এশিয়া কাপে এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে আইসিসি’র সহযোগি দেশ আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় পেতেই  তাদের যেন প্রাণ যায় যায় অবস্থা। দলটির বিপক্ষে ১২৯ রানে অলআউট হওয়া লঙ্কানরা শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে ঠিকই তবে তা খুব সহজেই হয়নি। প্রত্যাশিত সেই জয়টি তুলে নিতেও তাদের বেশ কাঠখড়ি পোড়াতে হয়েছে।
আর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেতো বাংলাদেশর কাছে হেরেই বসলো ডিফেন্ডিং চ্যম্পিয়নরা। টাইগারদের দেয়া ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১২৪ রানে অলআউট হয়ে হেরে গেল ২৩ রানে। তাই এশিয়া কাপে ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে ভারতের বিপেক্ষে লঙ্কানদের জয়ের বিকল্প নেই।
কারণ, ভারতের বিপক্ষে লঙ্কানরা এই ম্যাচ হেরে গেলে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় ফাইনালের দৌড়ে তাদের চাইতে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ, কেননা দলটি এরই মধ্যে দুইটি জয় নিজেদের থলিতে পুড়েছে। শুধু জয়ই নয়, শ্রীলঙ্কার চাইতে এখনও তাদের রান রেট এখনও উপরে।