১৩শ’ অবৈধ সন্তানের পিতা তিনি


1300 (child fother)সন্তানের জনক হওয়া খুব একটা কঠিন কিছু না, বিশেষ করে পুরুষদের জন্য। কিন্তু সন্তানের দায়িত্ব নেয়াটা কঠিন। কারণ সন্তান জন্ম দিলে তার ভরণ পোষণের দায়িত্ব বাবার ঘাড়ে বর্তায়। কিন্তু যদি দায়িত্ব নেয়ার এই ঝামেলা না থাকে, তাহলে কি হবে? দায়িত্বের ব্যাপারটা বাদ দিলে অর্থাৎ অবৈধ সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ পুরুষই কি চিংড়ি মাছের মত উৎসাহী হবেন? যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নাশভিলের ৮৭ বছর বয়স্ক এক সাবেক পিয়ন এই প্রশ্নের হাঁ উত্তর দিয়েছেন এবং প্রমাণ করেছেন অবৈধ কামে পুরুষরা অতি উৎসাহী। টেনেসির একটি পরিবার সন্দেহবশত ঐ বৃদ্ধের পেছনে একজন প্রাইভেট গোয়েন্দা লাগিয়েছিলেন। গোয়েন্দা কায়দা করে বের নিয়ে এসেছে একটি বিস্ময়কর তথ্য। সাবেক ঐ পিয়ন নাকি ১৩শ’ অবৈধ সন্তানের জনক। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল তাই বলে।
গত ১৫ বছর ধরে চালানো এই গোয়েন্দা তদন্তে টেনেসির হাজার হাজার মানুষের ডিএনএ নমুনা এবং সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। শেষকালে প্রমাণিত হয়েছে, বাস্তবিক পক্ষেই ঐ লোক অত্র অঞ্চলে প্রায় হাজারেরও বেশি অবৈধ সন্তানের জনক।
এ ব্যাপারে জিজ্ঞাস করা হলে বৃদ্ধ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখুন, তখনকার সময়ে গর্ভ নিরোধক জিনিসটা অতটা জনপ্রিয় ছিল না। তাছাড়া আমি মনে করি এতে আমার লজ্জিত হওয়ার মত কিছু নেই। তাছাড়া ১৯৬০ সাল ছিল আমার জন্য সোনালি সব দিন এবং আমি এতো নিখুঁতভাবে জনি ক্যাশের (টেনেসিতে জন্ম গ্রহণ করা অত্যন্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও অভিনেতা ) ভাব নিতে পারতাম যে মেয়েরা হুমড়ি খেয়ে পড়তো।’
বৃদ্ধ হাসতে হাসতে আরও বলেন, ‘শুধু তাই না, এমনকি অনেক মেয়ে আমাকে সত্যি সত্যি জনি ক্যাশ ভেবে ভুল করতো। এটা তারা সত্যি সত্যি করতো, নাকি নিজেদের ফাঁকি দিয়ে জোর করে বিশ্বাস করাতো, তা আমি জানি না। কিন্তু আমি ‘না’ করবো কেন?’
প্রাইভেট গোয়েন্দা সিড রয় প্রথম যখন তদন্ত শুরু করেছিলেন তখন ব্যাপারটা মোটেও পাত্তা দেন নাই। তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবেন নি, সেই সামান্য জিনিস থেকে ১৫ বছরের দীর্ঘ অনুসন্ধান চলবে এবং শেষ কালে বেরিয়ে পড়বে এমন একটি থলের বিড়াল।
তিনি বলেন, ‘গোটা ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল ২০০১ সালে। দুইজন লোক আমাকে ভাড়া করলেন তাদের জৈবিক বাবাকে খুঁজে বের করার জন্য, কিন্তু তারা কেউ কাউকে চিনতেন না। আমি টাঁসকি খেয়ে গেলাম, যখন আবিষ্কার করলাম এদের দুজনের বাবা একজনই। তখন আমি ঠিক করলাম রহস্য উদ্ঘাটন করবো একা একাই। এরপর এটা নিয়ে ঘাঁটতে শুরু করলাম। একে একে খুঁজে বের করলাম অন্যদের। এখন যেহেতু ডিএনএ পরীক্ষা করা খুবই সহজ এবং সুলভ, সেহেতু সমস্ত তথ্য এক করে ফেলাটা খুব একটা কঠিন হয়নি।’
প্রাইভেট এই গোয়েন্দা সারা জীবন খেঁটে খুটে শেষপর্যন্ত একটা কাজের কাজ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, ঐ লোকের অবৈধ সন্তানরা তার বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না। মামলা করলেই এটা নিয়ে লোক জানাজানি হবে, কাদা ছোড়াছুড়ি হবে, কি দরকার?
সিড বলেন, ‘যারাই সত্যটা জানে তারাই ব্যাপারটা রাখঢাক করতে চায়। কারণ সত্য জানাজানি হলে শত শত সংসার ভেঙ্গে যেতে পারে। এতো বছর পরে যেটা করার কোনো প্রয়োজন নেই এবং আমার গবেষণার উদ্দেশ্যও এটা ছিল না। আমি শুধু জানি সত্যটা জানার পরে বেশিরভাগ মানুষ আনন্দিত হয় এবং তারা বৃদ্ধের প্রতি কোনো রাগ পুষে রাখে না। তখনকার দিনে হয়তো এটা একটা  স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল।’
তবে সিডের বিশ্বাস ডিএনএ পরীক্ষায় এখনো পর্যন্ত এই পিয়নের যে ১৩শ’ অবৈধ সন্তান বেরিয়ে এসেছে, আসল সংখ্যাটা তার চেয়ে অনেক বেশি হবে। তার গবেষণা মতে, সংখ্যাটা আরও কয়েক হাজার বেশি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s