BD_Asia_Cup_021456881390গত শনিবার সুসংবাদ পেয়ে দিন শুরু করেছিলেন টাইগাররা। সতীর্থ তামিম ইকবাল বাবা হয়েছেন, সে খবর ঘুম থেকে উঠেই পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। এরপর তামিমকে অভিনন্দন জানানো। বাকি গল্পটা তো সবারই জানা। রাতে বাঘের গর্জনে ধরাশায়ী সিংহ। টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম জয়। সেদিন সুসংবাদ নিয়ে দিন শুরু করলেও আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে মিশ্র অনুভূতি বাংলাদেশ শিবিরে। একদিকে মুস্তাফিজকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে তামিমকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। মুস্তাফিজের সঙ্গে তামিমের তুলনা চলে না, ঠিক তেমনই তামিমের সঙ্গে মুস্তাফিজেরও না। দলে দুজনের ভূমিকা ভিন্ন, কেউ কারো থেকে কম নন।
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে সে কথাটাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘মুস্তাফিজের না থাকা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। ও যেটা দলের জন্য দেয়, সেটা সবসময়ই দলের জন্য অসধারণ কিছু।’
ঘরের মাঠে ২০১২ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেবার পাকিস্তানের কাছে মাত্র দুই রানে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিলেন সাকিব-মুশফিকরা। যে দুঃখ আজও বয়ে বেড়ায় বাংলার ক্রিকেট প্রেমীরা। চার বছর পর আবারো বাংলাদেশের সামনে সেই পাকিস্তান। তবে এবার ফাইনাল নয়, ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ নিজেদের রাউন্ড রবিন লিগের চতুর্থ অর্থাৎ শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি, বিটিভি, মাছরাঙা টিভি এবং স্টার স্পোর্টস ১ ও ৩।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দু’দলই হার দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করেছিল। তাও আবার একই প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে। কাকতালীয়ভাবে এই দু’দল সেই হার ভুলে ছন্দে ফিরেছে একই দল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় দিয়ে। বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে। আমিরাতের পর শ্রীলঙ্কাকেও হারিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। যে জয় ফাইনালের সুবাস এনে দিয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের আগে স্বাগতিক অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা বলেন, ‘আমাদের সামনে আসলেই ফাইনাল খেলার ভালো সুযোগ আছে। সর্বশেষ দুটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেভাবে খেলতে পারলে অবশ্যই সুযোগ কাজে লাগানো যাবে। কিছু ভুলও অবশ্য ছিল। কিন্তু আমরা প্রয়োজনের সময় দরকারি কাজগুলো করতে পেরেছি বলেই ম্যাচ দুটি জিতেছি।’
বাংলাদেশের সামনে ‘সাইনবোর্ড’ ঝুলছে যে, জিতলেই ফাইনালের হাতছানি। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকার মঞ্চ। হারলেই পত্রপাঠ বিদায়ের কাছে চলে যাবে শহীদ আফ্রিদির দল। তবে বোলিংয়ের দিক থেকে দু’দলই দারুণ শক্তিশালী। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচ থেকে চার পেসার খেলিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানকে শেষবার ঘরের মাটিতে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে সেবারের পাকিস্তান দল আর এবারের দলটির পার্থক্য অনেক। দলটিতে রয়েছে সদ্য পিএসএল খেলে আসা বেশ কয়েকজন উদীয়মান ও প্রতিভাবান ক্রিকেটার। দলটিতে ফিরে এরই মধ্যে চমক দেখাচ্ছেন পেসার মোহাম্মদ আমির। ম্যাচ উইনার ও অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির কথা আলাদা করে বলার কিছু নেই। রয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিকের মতো অলরাউন্ডার। সব মিলিয়ে দলটিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। তবে নিজেদের দিনে বাংলাদেশ কতটা ভয়ঙ্কর, তা সবারই জানা। অন্তত সীমিত পরিসরের ক্রিকেটে। তার ওপর এশিয়া ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। তাই তো নিজেদের মাঠে বেশ নির্ভার হয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন মাশরাফি। আজকের ম্যাচটা জিতলেই নিশ্চিত হবে ফাইনালের টিকিট। তাই, আজ সেরা খেলা খেলতে কার্পণ্য করবেন না টাইগাররা।
‘জয়-পরাজয় দিয়েই সবসময় সবকিছুর বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। সবাই জয়ের জন্যই খেলে। জিততে পারলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে- এটাই স্বাভাবিক। আমাদেরও তাই। জেতা গুরুত্বপূর্ণ। আমরাও জিততে চাই। এদিকেই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে হারানোর বিকল্প নেই পাকিস্তানের। পাকিস্তানের বোলিং কোচ হিসেবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া আজহার মাহমুদ বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশকে হারাতে পারবে তার দল। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম ম্যাচে ভুল করেছিলাম। দ্বিতীয় ম্যাচে তা শুধরে ফেলেছি। হয়তো বা নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি। তবুও আমরা জয় পেয়েছি। আশা করছি, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভালো করেই ফাইনাল খেলব।’
এশিয়ার দুই জায়ান্টের লড়াই বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।