আয়কর এড়াতে দেশ ছাড়ছেন হাজারো মার্কিনি


usa woaman (aykor) 1আয়কর নিয়ে হয়রানি এড়াতে বিদেশে কর্মরত মার্কিনিদের মধ্যে স্বেচ্ছায় নাগরিকত্ব ছাড়ার সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৪ সালে নাগরিকত্ব ছেড়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মার্কিনি। নাগরিকত্ব ছাড়ার এ হার ২০১৩ সালের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। ওই বছর নাগরিকত্ব ছাড়েন ৩ হাজার মার্কিনি। ২০০৮ সালে ২৩১ মার্কিনি তাদের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছিলেন, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ১৫ ভাগ বেশি। গত ৫ বছরে আয়কর জটিলতায় নাগরিকত্ব ছাড়া মার্কিনিদের সংখ্যা সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি।
আয়কর জটিলতায় মার্কিনিদের নাগরিকত্ব ছাড়া নিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আয়কর নিয়ে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর বিদেশে কর্মরত মার্কিনিদের মধ্যে নাগরিকত্ব ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে। আয়কর নিয়ে জটিল অবস্থা দেখা দেয় ২০১০ সাল থেকে। ওই বছর নাগরিকদের কর ফাঁকি বন্ধে আয়কর আইনে নতুন ধারা সংযোজন করে যুক্ররাষ্ট্র সরকার। নতুন এ সংযোজনে বলা হয়েছে, বিদেশে কর্মরত কিংবা বসবাসরত সব মার্কিন নাগরিকদের  সম্পদ এবং সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা  দিতে হবে। আগে ব্যংকে ১০ হাজার ডলারের বেশি থাকলে সে হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক ছিল। সংশোধিত এ আইনে সব ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি সম্পদের হিসাবও প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে।
বিদেশে অর্থ লুকিয়ে রাখতে সুইস ব্যাংক আমেরিকানদের সহায়তা করার কথা স্বীকার করার পর আয়কর আইনে সংশোধনি আনে সরকার। ২০১০ সালে ‘ফরেন একাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাকাউন্ট কার্যকর করে মার্কিন প্রশাসন। আয়কর আইনে এ সংশোধনি কার্যকর হওয়ায় বিদেশে অবস্থানরত ৭৬ লাখ মার্কিনির নানামুখি সমস্যায় পড়ছেন। কর কাগজপত্র ঠিকঠাক করতে বড় অংকের টাকা ব্যয়ে একাউনটেন্ট কিংবা আইনজীবী নিয়োগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বিদেশে কর্মরত মার্কিন নাগরিকরা। এতে ন্যুনতম ব্যয় হাজার ডলারের বেশি বলে বিদেশে কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধৃত করে সিএনএন মানি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
usa woaman (aykor)
কর আইন বিশেষজ্ঞ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংশোধিত আইনটি ভালোভাবে জানার চেষ্টা এখনো করছেন। জটিলতা দেখে বিদেশে কর্মরত অনেক মার্কিন নাগরিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কেননা নতুন আইনে বলা হয়েছে, গ্রাহকের তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে জরিবানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরকারি তথ্য অনুয়ায়ী, ২০১৫ সালে জন্মসুত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং  সেখানে দীর্ঘ সময় বসবাসরতদের মধ্যে নাগরিকত্ব ছাড়ার হার আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। এ সংখ্যা তিন হাজার ৪১৫ জন। ২০০৮ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ১৮ গুণ বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে সিএনএন জানিয়েছে।
২০০৮ সালে ২৩১, ২০০৯ সালে ৭৪২, ২০১০ সালে ১৫৩৪, ২০১১ সালে ১৭৮১, ২০১২ সালে ৯৩৩, ২০১৩ সালে ৩০০০, ২০১৪ সালে ৩৪১৫ ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়েছেন। এদের অধিকাংশই বিদেশে কর্মরত আমেরিকান।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s