রেকর্ড গড়ে শিরোপার কাছে বার্সা


Barca_Recordএত গোল, এত রেকর্ড, এই দুর্দান্ত ফর্ম—দিন শেষে সবকিছুই তো শিরোপার জন্যই। কিন্তু সেই শিরোপা নিয়ে কথা বলতে গেলেই কেন জানি খুব সতর্ক হয়ে যেতেন বার্সেলোনা কোচ লুইস এনরিকে। লা লিগায় তাঁর দল শিরোপা-দৌড়ে বেশ এগিয়ে অনেক দিন ধরে। কিন্তু এত দিন এনরিকে একবারও বলেননি, বার্সাই এবার শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার। কে জানে, এমনটা বলা নিছকই তাঁর ভদ্রতা, না অন্য কোনো কৌশলগত কারণ রয়েছে!
বার্সেলোনা যে শিরোপা-স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি সেটা অবশেষে মুখ ফুটে বললেন এনরিকে। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে পরশু রাতে রায়ো ভায়েকানোকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বার্সা স্প্যানিশ ফুটবলে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ল, লিগে ২৭টি করে ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে পেছনে ফেলল ৮ পয়েন্টে। এবার গিয়ে এনরিকের মনে হলো, বার্সেলোনা শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার। ভায়েকাস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে তাই বার্সেলোনা কোচের কণ্ঠে শোনা গেল, ‘আমরা মৌসুমের শেষ তৃতীয়াংশে পৌঁছে গেছি। এখন সবচেয়ে মধুর সময়টার অপেক্ষা। আমাদের যা প্রাপ্য আশা করছি সেটা পাব।’
শুধু লিগেই দুর্দান্ত ফর্ম নয়, কোপা ডেল রেতেও ফাইনালে পৌঁছে গেছে বার্সেলোনা, যেখানে অপেক্ষা করছে সেভিয়া। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে আর্সেনালকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক পা দিয়ে রেখেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ‘আমাদের যা প্রাপ্য’ বলতে এনরিকে নিশ্চয়ই শুধু লা লিগার কথাই বলেননি!
রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে দাপুটে জয় দিয়েই রিয়াল ‍মাদ্রিদের ২৭ বছরের পুরনো স্প্যানিশ রেকর্ড ভাঙে বার্সেলোনা।  তবে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৫ ম্যাচে অপরাজিত থাকার ইতিহাস গড়লেও ইউরোপিয়ান ফুটবলের পরিসংখ্যানে কেবলই শীর্ষ পাঁচে নাম লিখিয়েছে কাতালানরা।
পরশুর ম্যাচটা যে প্রায় একতরফা হবে সেটাও একরকম অনুমিতই ছিল। সর্বশেষ ২০০২ সালে রায়ো ভায়েকানোর কাছে হারের পর বার্সেলোনা এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত ভায়েকানোকে হারিয়েছে ১০ ম্যাচের সবগুলোতেই। এই ১০ ম্যাচে করেছে ৪৫ গোল! ভায়েকানোর সঙ্গে পরাজয় দূরে থাক, ড্র করলেই সেটা অঘটন হতো।
মেসি-সুয়ারেজরা সেই অঘটনের বিন্দুমাত্র সুযোগই দিলেন না। ম্যাচটা ছিল মেসিময়, দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে বার্সাকে রেকর্ডের রাত উপহার দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। সেই ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছিল লিও বিনহ্যাকারের রিয়াল মাদ্রিদ। ২৭ বছর পর সেই রেকর্ডটা ভাঙল বার্সা।
এমনিতেই অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকা বার্সাকে ঠেকানো দুঃসাধ্য ছিল। তার ওপর ৪২ মিনিটেই ১০ জনের দল হয়ে পড়ে ভায়েকানো, রাকিটিচকে বিপজ্জনক এক ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ডিয়েগো লরেন্তে। ৬৭ মিনিটে মিডফিল্ডার ম্যানুয়েল ইতুরাও লাল কার্ড দেখলে ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে ভায়েকানো।
মেসির ২ গোল হয়ে গিয়েছিল ভায়েকানো ৯ জনের দল হয়ে যাওয়ার আগেই, ৭২ মিনিটে পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। অবশ্য হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারত আরেকটু আগেই। ইতুরা কার্ড দেখার পর পাওয়া পেনাল্টিটা নিজে না নিয়ে লুইস সুয়ারেজকে নিতে দেন মেসি। সেই শট ঠেকিয়ে দেন ভায়েকানো গোলরক্ষক কার্লোস।
লা লিগার এ মৌসুমে ১৯ গোল হয়ে গেছে মেসির। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখন তিনি করিম বেনজেমার সঙ্গে যৌথভাবে তিনে। সামনে শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (২৩) ও সতীর্থ সুয়ারেজ (২৫)। এ বছর সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১৬ ম্যাচে ১৮ গোল মেসির। দুর্দান্ত ফর্মটা ধরে রাখতে পারলে মনে হয় না রোনালদো-সুয়ারেজরা খুব বেশি দিন এগিয়ে থাকতে পারবেন। এএফপি, রয়টার্স।
ইউরোপে টানা অপরাজিত
সেল্টিক ১৯১৭ ৬২
জুভেন্টাস ২০১২ ৪৩
নটিংহাম ফরেস্ট ১৯৭৮ ৪০
এসি মিলান ১৯৯১ ৩৬
বার্সেলোনা ২০১৬ ৩৫

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s