Asia_Cup_sm_464327026

বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত

আরেকটি ফাইনাল। আরেকটি হার। আরেকবার কান্না। এবারও এশিয়া কাপের শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের। রবিবার রাতে ফাইনালে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে মাশরাফিরা। চার বছর আগের আফসোস ফিরে এলো গতকাল এশিয়া কাপের ফাইনালে। সেবার ছিল পাকিস্তান, এবার ভারত। ২০১২ সালের ফাইনালে পাকিস্তানের সঙ্গে দুই রানের হার, কাঁদিয়েছিল সাকিব-মুশফিকসহ গোটা দেশকে। তবে ভারতের কাছে বৃষ্টিবিঘিœত ফাইনালে ৮ উইকেটের হারের পর আফসোস ঠিকই ভেসে বেড়াল মিরপুরের আকাশে। টি২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপে দল ফাইনালে খেলছে, এমন তৃপ্তিই দেখা গেল টাইগার সমর্থকদের চোখে মুখে।
তবে বাস্তব অবস্থা ভিন্ন, বৃষ্টির কারণে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ভারত জিতেছে একক দাপট দেখিয়ে। ব্যাট হাতে বাংলাদেশ ১৫ ওভারে ১২০ রান করে প্রতিপক্ষের সমীহ আদায় করলেও বোলিংয়ে মাশরাফিরা ছিল নখদন্তহীন বাঘ। যেখানে কোহলি-ধাওয়ানের ব্যাটে চড়েই এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। এশিয়া কাপে ভারতের এটি সর্বোচ্চ ষষ্ঠ শিরোপা। পাঁচ শিরোপা জেতা শ্রীলঙ্কা নেমে গেল দ্বিতীয় স্থানে। বাংলাদেশের সান্ত¡না, দুইবার রানার্স আপ।
এশিয়া কাপ টি২০ ক্রিকেটের ফাইনালে বাংলাদেশের দেওয়া ১২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছিল ভারত। ১.৩ ওভারে পেসার আল আমিন হোসেন ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মাকে সৌম্যের ক্যাচে পরিণত করেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ভারতীয়দের প্রতিরোধ। বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান জুটি বেধে ম্যাচকে অনেকটাই নিজেদের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আর তখনই শিখর ধাওয়ানকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙ্গেন পেসার তাসকীন আহমেদ। তিনি ৪৪ বলে ৬০ রান করেছেন। ১৩.৫ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১২২ রান।
এর আগে মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১২০ রান করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ভারতের সামনে লক্ষ্য ১২১ রান। মাহমুদউল্লাহ মাত্র ১৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল। অশিষ নেহরার করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের টানা দুই বলে দুটি চার মেরে পরের বলে ফিরে যান সৌম্য (৯ বলে ১৪)। উদ্বোধনী জুটিতে ৪ ওভারে আসে ২৭ রান। তবে সৌম্যের বিদায়ের পরের ওভারে তামিমও (১৭ বলে ১৩) ফিরে যান।
তৃতীয় উইকেটে সাব্বির রহমানের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটি গড়ে ফেরেন সাকিব আল হাসান (১৬ বলে ২১)। এরপর মুশফিকুর রহিম (৪) ও মাশরাফি (০) দ্রæত ফিরে গেলেও সাব্বিরের সঙ্গে মাত্র ২০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ তিন ওভারেই ৪২ রান তোলেন এই জুটি। ১৪তম ওভারে পান্ডিয়াকে দুবার উড়িয়ে সীমানার বাইরে আছড়ে ফেলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। সাব্বির ২৯ বলে ২ চারে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চার পেসার নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিথুনের পরিবর্তে খেলছেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। এ ছাড়া স্পিনার আরাফাত সানীর পরিবর্তে এসেছেন পেসার আবু হায়দার রনি।
ভারতীয় দলে তিনটি পরিবর্তনে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকা আশিষ নেহরা, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন দলে ফিরেছেন। দলের বাইরে গেছেন ভুবনেশ্বর কুমার, হরভজন সিং ও পাওয়ান নেগি।
গতকাল দুপুর থেকেই মিরপুরের আকাশ ছিল মেঘলা। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় হঠাৎ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি শুরুর পরই মাঠকর্মীরা দ্রæত মিরপুরের সবুজ উইকেট ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেন। ১৫ মিনিট ত্রিপল দেওয়া ছিল। এর পরই সেগুলো উঠিয়ে নিতে শুরু করেন মাঠকর্মীরা।
কিন্তু খানিক বাদেই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎও চলে যায়, ফ্লাডলাইটগুলো হয়ে যায় বন্ধ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার কিছু আগে ফ্লাডলাইটের আলোতে আবার আলোকিত হয়ে যায় স্টেডিয়াম। সাতটা ৪০ মিনিটে বৃষ্টিও থেমে গেলে মাঠকর্মীরা মাঠ পরিচর্যার কাজে নেমে পড়েন। এরপর আম্পায়াররা মাঠ পর্যবেক্ষণ করে সাড়ে ৯টায় খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। খেলার সিদ্ধান্ত হয় প্রতি ইনিংস ১৫ ওভারের।