krittim sukranuসন্তান জন্মের জন্য কি সত্যিই এবার ফুরিয়ে যাচ্ছে পুরুষের প্রয়োজন? বিজ্ঞানের গতি কিন্তু সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এক দল চিনা গবেষক ইতিমধ্যেই ল্যাবরেটরিতেই বানিয়ে ফেলেছেন ইঁদুরের শুক্রাণু। শুধু তাই নয়, এই কৃত্রিম শুক্রাণু দিয়ে নাকি ডিম্বাণুর নিষেকের ফলে জন্ম নিয়েছে হৃষ্টপুষ্ট ছানা ইঁদুরও।
সেল স্টেম সেল জার্নালে এই গবেষণার পুর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই প্রক্রিয়া মানুষের ক্ষেত্রে সফল হলে বন্ধাত্ব্য দূরীকরণের গবেষণা কয়েকশো মাইল এগিয়ে যাবে।
‘‘যদি মানুষের মধ্যেও এই প্রক্রিয়া একই রকম সুরক্ষিত এ কার্যকরী প্রমাণিত হয়, তা হলে খুব দ্রুত কৃত্রিম প্রজনন ও ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের জন্য আমরা কৃত্রিম শুক্রাণুর জোগান দিতে পারবো।’’ জানাচ্ছেন, এই গবেষণার মুখ্য গবেষক জিয়াহাও শা।
বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই বায়োলজিস্টরা ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম শুক্রাণু তৈরির চেষ্টা করছেন। ২০১১ সালে জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কৃত্রিম শুক্রাণু তৈরির প্রাথমিক ধাপটা আবিষ্কার করে ফেলেন। গবেষণাগারে তৈরি প্রাইমোরডিয়াল জার্ম সেল (যে কোষ থেকে জনন কোষ তৈরি হয়।) পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ ইঁদুরের মধ্যে সফল ভাবে ইমপ্লান্ট করেন তাঁরা। সেখান থেকে ইঁদুরের দেহেই তৈরি হয় শুক্রাণু।
চিনের গবেষকদের দাবি তাঁরা একই প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। প্রাইমোরডিয়াল জার্ম সেল থেকে ল্যাবোরটরির ডিশেই তাঁরা তৈরি করেছেন সার্মাটিড (স্পার্মের প্রাথমিক দশা)। এই সার্মাটিডের সঙ্গে পরিণত স্মার্মের পার্থক্য থাকলেও, এরা নিষেকে সক্ষম।
যদিও এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে এখনও সন্দেহমুক্ত নন বহু গবেষক। কী করে মাত্র ১৪ দিনে প্রাইমোরডিয়াল জার্ম সেল থেকে সার্মাটিড তৈরি করা হল প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও। তবে তাঁরা প্রত্যেকেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।