বিশ্ব ‘পাই’ দিবস আজ


pai dibosh2বিশ্বের সব গণিতপ্রেমীর জন্য আজ একটি বিশেষ দিবস। গণিতকে যারা ভালবাসেন এবং গণিত নিয়ে যারা চর্চা করেন তাদের কাছে পৃথিবীর সুন্দরতম সংখ্যার একটি হচ্ছে ৩.১৪১৫৯২৬৫৩৫৯…………… এটি একটি অসীম অনাবৃত সংখ্যা। আর এই সংখ্যার প্রতীকটিই হলো ‘পাই’। আজ বিশ্ব পাই দিবস। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই দিনেই জন্ম নিয়েছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন।
গণিতপ্রেমীদের কাছে ‘পাই’ একটি সৌন্দর্যের নাম। পাই দিবস গাণিতিক ধ্রুবক পাই (π) এর সম্মানে উদযাপনের দিন। পাই এর মান প্রায় ৩.১৪ বলে প্রতি বছর ১৪ মার্চ (৩/১৪) পাই দিবস হিসেবে পালিত হয়। দিবসটি কখনো কখনো ১৪ মার্চ দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটে উদযাপন করা হয়। ঐ দিন দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটকে পাই মিনিট নামে আখ্যায়িত করা হয়। দুপুর ১টা ৫৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ডকে পাই সেকেন্ড বলা হয়। পাই সেকেন্ডে পাই দিবস পালনের মধ্য দিয়ে পাইয়ের মানের (৩.১৪১৫৯২৬) কাছাকাছি সময়ে দিবসটি উদযাপন করা সম্ভব হয়।
১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো পাই দিবস পালিত হয় সানফ্রানসিসকো’র একটি বিজ্ঞান জাদুঘরে। জাদুঘরের বৃত্তাকার স্থানে এর কর্মচারি ও দর্শনার্থীরা মিলে পাই আকারের কেক খেয়ে দিনটি উদযাপন করেন। ঐ জাদুঘরের কর্মকর্তা ল্যারি শ এই দিবস উদযাপনের উদ্যোক্তা বলে তাকে ‘পাই‌‌-এর রাজপুত্র’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) অনেক সময় তাদের নতুন শিক্ষার্থীদের গ্রহণপত্র পাই দিবসে ডাকে দিয় থাকে।
২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশেও পাই দিবস উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির উদ্যোগে দেশে এই দিবসটি উদযাপন শুরু হয়। দেশের বেশ কিছু গণিত ক্লাব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। আয়োজনের মধ্যে রয়েছে পাই শোভাযাত্রা, পাই-এর মান বলা এবং পাই নিয়ে আলোচনাসহ নান অনুষ্ঠান।
শুরুতেই বলেছি পাই একটি অসীম অনাবৃত সংখ্যা। এই সংখ্যার শুরু আছে কিন্তু কোনো শেষ নেই । প্রশ্ন হল, পাই আমরা কি করে পাই? উত্তরটা আপনারা সবাই জানেন যে, কোন বৃত্তের পরিধিকে তার ব্যাস দিয়ে ভাগ করলে আমরা ‘পাই’ পাই। পাই গণিতবিদদের নিকট প্রিয় হওয়ার কারণ এই পাইয়ের মান দিয়ে অনেক কিছুই বের করা যায়।
ধরুন, আপনি গোলকের আয়তন বের করতে চান। প্রথমে গোলকের ব্যাস বের করুন। আপনার কাজ শেষ। এবার শুধু এর ঘন নিয়ে এর এক ষষ্ঠমাংশের মান বের করে ফেলুন। এবার একে গুণ করে দিন পাই এর মান দিয়ে। আপনি নিশ্চিতভাবেই আপনার গোলকটির আয়তন জেনে যাবেন।
এছাড়াও সিলিন্ডারের ক্ষেত্রফল ও আয়তন, বৃত্তের ক্ষেত্রফল, কোনকের আয়তন ও ক্ষেত্রফল ইত্যাদি জানতে হলে আপনাকে পাইয়ের সাহায্য নিতেই হবে। তাছাড়া ত্রিকোণমিতি, মহাকাশবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, তাপগতিবিদ্যা, বলবিদ্যা, তড়িচ্চুম্বকত্ব ইত্যাদির বিভিন্ন সূত্রের প্রয়োগে পাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য।

Advertisements
This entry was posted in Since (বিজ্ঞান). Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s