biometrik sim
ফাইল ছবি

তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নাগরিকদের আঙুলের ছাপ নিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধন কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। বিটিআরসি চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের ডিজি, মোবাইফোন অপারেটরগুলোসহ ১৩ বিবাদীদের এক সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলেছে আদালত।
এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগির হোসেন ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই রুল জারি করেন। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৪ মার্চ দিন ঠিক রেখেছে আদালত।
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এস এম এনামুল হক নামের এক আইনজীবী গত ৯ মার্চ হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন, যা সোমবার শুনানির জন্য ওঠে।
রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন এ ওয়াই মশিউজ্জামান ও ব্যারিস্টার মুক্তাদির রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় ও জেসমিন সুলতানা।
গত ১৬ ডিসেম্বর সিম নিবন্ধনে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হওয়ায় আঙুলের ছাপ না দিয়ে এখন আর নতুন সিম কেনা যাচ্ছে না। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুরনো সিমের পুনঃনিবন্ধন চলছে, যা এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী।
ভুয়া পরিচয়ে অথবা নিবন্ধন ছাড়া সিম কিনে নানা অপরাধে ব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় সম্প্রতি গ্রাহকদের তথ্য যাচাই ও সিম পুনঃনিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর মোবাইল গ্রাহকদের সিমের তথ্য যাচাইয়ে শুরু হয় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহারের প্রক্রিয়া।
আদেশের পর রিটকারীর আইনজীবী মুক্তাদির রহমান বলেন, “গত ১৩ ডিসেম্বর বিটিআরসি জানায়, সব সিম নিবন্ধন, অ্যাক্টিভেশন ও ভেরিফিকেশনের জন্য আঙুলের ছাপ দিতে হবে। দেশের ছয়টি মোবাইফোন অপারেটরের মধ্যে পাঁচটির মালিকানাই বিদেশিদের হাতে। দেশের ৯৭ শতাংশ গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে।  আমরা জানি না, এসব তথ্য নিয়ে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হতে পারে- এই আঙ্কা থেকে এই রিট আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তৃতীয় পক্ষের বদলে যদি সরকার ওই তথ্য নেয়, তাহলে আমাদের আপত্তি নেই।”