Marxixtsকার্ল মার্ক্সের বিখ্যাত উক্তি- ‘সুখের পূর্বশর্ত ধর্মের বিলোপ’। মার্ক্স অনুসারীরা অন্তত এ শর্ত মেনে চলেন বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু মার্ক্সবাদীরাই কখনো কখনো তাদের বিশ্বাস নিয়ে প্রহসন করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। বিশেষ করে ভোটের মৌসুম এলে বামপন্থিদের বিশ্বাস মসজিদ-মন্দির-গির্জা-মাজারে গড়াগড়ি খায়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে মঙ্গলবার বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালার জাদরেল বামপন্থি কমরেডরা নির্বাচন এলে ভোটের আশায় ধর্মশালায় ঘোরাঘুরি করেন। ধর্মশালা অর্থাৎ বিভিন্ন ধর্মানুসারীদের প্রার্থনা ঘর ও প্রাঙ্গণে ভোটের প্রচারে নামের তারা। ধার্মিকদের সমর্থন আদায়ে মরিয়া হয়ে প্রচার চালাতে কোনো দ্বিধা করেন না তারা।
ভারতের বিদগ্ধ মার্ক্সবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত বিমান বসু, গৌতম দেব, সূর্য কান্ত মিশ্র, আবদুস সাত্তার। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এই মুহূর্তে তাদের বিভিন্ন ধর্মগৃহে দেখা যাচ্ছে।
হুগলির ফুরফুরা শরিফ উপমহাদেশের একাংশের মুসলিমদের কাছে পবিত্র স্থান। ফুরফুরা পীরের মাজারে সম্প্রতি বিমান বসুর নেতৃত্বে এক ঝাঁক কমরেডকে দেখা যায়। ১৪ শতকের এ মাজারে অনেক ভক্ত-অনুরাগীর আনাগোনা হয়। তাদের মধ্যে অনেকে ভোটার। তা ছাড়া ফুরফুরা শরিফ সফর করা মানে কমরেডরাও ভক্তদের বিরুদ্ধে নয়- এ অর্থই তো বোঝায়? এর প্রভাব নিশ্চয়ই ভোটের ময়দানে পড়ে।
বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে ১২৫টি বামপন্থিদের দখলে। নির্বাচনের সময় আসায় বামজোট মমতাকে হারাতে মরিয়া হয়ে প্রচার চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও কম যাচ্ছেন না। পশ্চিমবঙ্গে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা বিজেপিকে রুখতে তিনি বদ্ধপরিকর। তাই তাকেও আজকাল ধর্মসভায় দেখা যাচ্ছে। কেরালার বামপন্থি নেতারাও ধর্ম-অধর্মের ভেদাভেদ করছেন না। পাগালের মতো ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তারা। তবে এক্ষেত্রে বামনেতাদের দাবি, তারা সেক্যুলার। সবার বিশ্বাসের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আছে। এ থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে ধর্মহীন সুখের সন্ধান করবেন কারা?