bangobondhu+oldনানা আয়োজনে আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হচ্ছে।বঙ্গবন্ধুর ৯৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সেখানে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের ও মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা দেন টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে। সেখানে তিনি জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী চলে গেলে বঙ্গবন্ধু ভবন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও অঙ্গ সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। জাতির জনকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভোরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক দল সেনা কর্মকর্তার হাতে নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন তিনি। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা, বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করছে। সরকারিভাবেও নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ এসব কর্মসূচি শেষে আগামীকাল ১৮ মার্চ বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয়। এ ছাড়া দিনটি পালনে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা সদরে শিশু সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এসব অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা সদরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ডিএফপি ও গণযোগাযোগ অধিদফতরের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সপ্তাহব্যাপী পুস্তক ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিনটি পালনে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে সারা দেশে বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।