পুঁজিবাজারে মূলধন কমেছে ১৫ হাজার কোটি টাকা


dse cseলেনদেনে গতি ফিরছে না পুঁজিবাজারে। চলতি বছরের আড়াই মাসে পুঁজিবাজারে মূলধন কমেছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনিয়ম, দুর্নীতিতে বাজারে আস্থার যে সংকট তৈরি হয়েছে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। বিনিয়োগবান্ধব হওয়ার পরিবর্তে দিনে দিনে আকর্ষণ হারাচ্ছে পুঁজিবাজার।
আলোচিত সময়ে নিম্নমুখী অবস্থা ছিল লেনদেনেও। আড়াইমাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দুই কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৭’শ কোটি টাকার ওপরে। এর মধ্যে ১৩ জানুয়ারি ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন দাঁড়িয়েছিল ৭৪৩ কোটি টাকায়। তা ছাড়া সর্বনিম্ন লেনদেন হয় ৬ মার্চ। এ দিন লেনদেন নেমে আসে ৩’শ কোটি টাকায়।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আড়াই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন সিএসই লেনদেন পরিমাণ ছিল ৫২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তা ছাড়া সর্বনিম্ন লেনদেন হয় ৩ মার্চ। এ দিন লেনদেন কমে দাঁড়ায় ২০ কোটি টাকায়।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বুধবার (১৬ মার্চ) তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আড়াই মাসে বাজার মূলধন কমেছে ১৫ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা।
এর মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা, যা গত বুধবার দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ আড়াই মাসে ডিএসইতে বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে ডিএসইতে অধিকাংশ কার্যদিবসে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকা থেকে ৪০০ কোটির মধ্যেই আটকে ছিল।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে চলতি বছরের শুরুতে বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। গত বুধবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আড়াই মাসে সিএসইতে বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬১৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৮ টাকার।চলতি সপ্তাহে যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫১০ কোটি ৩৯ লাখ ২ হাজার ৯২৪ টাকা।  সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১০৪ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বা ৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
বাজারের গতি বাড়াতে মোবাইলে শেয়ার লেনদেনের কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। নতুন এ উদ্যোগের প্রতিফলন নেই বাজারে লেনদেনে। যদিও ৩২ লাখের মধ্যে ১ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট হোল্ডার এ সুবিধা পাবেন। বাকি ৩১ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে পর্যায়ক্রমে এ সুবিধা দেয়ার কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ।
লেনদেনে মন্দা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসইর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আহম্মেদ রশিদ লালী বাংলামেইলকে বলেন, ‘বছরের শুরুতে বেশ কয়েকটি কোম্পানি আইপিও অনুমোদন পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা সেকেন্ডারি মার্কেটের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। সে কারণে আইপিওতে আসা কোম্পানিতে বিনিয়োগ হচ্ছে। এসব কোম্পানিতে আটকে আছে বিনিয়োগের প্রায় ৫০০ টাকা।’ মূল মার্কেটে এসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে লেনদেনে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তিনি।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেছেন, ‘পুঁজিবাজার উন্নয়নে স্টেকহোল্ডাররা কাজ করছে। বাজারকে আরও গতিশীল করতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে বাজার গতিশীল হতে পারে।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s