antibiotics ২০১৫ সা‌লে সারা পৃ‌থিবী‌তে ৬৩ হাজার ২শ টন অ্যান্টিবা‌য়ো‌টিক প্রাণি‌দে‌হে ব্যবহৃত হ‌য়ে‌ছে। এ হা‌রে অ্যান্টিবা‌য়ো‌টিকের ব্যবহার বাড়তে থাকলে ২০৩০ সা‌ল নাগাদ তা ১ লাখ ৫ হাজার ৬শ’ ট‌নে গি‌য়ে দাঁড়া‌বে। এ ছাড়া প্র‌তি বছ‌র যুক্তরাষ্ট্রে ২০ লাখ মানুষ অ্যান্টিবা‌য়ো‌টিক রেসিজি‌স্ট্যান্স সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এদের ম‌ধ্যে প্রায় ২৩ হাজার মানুষ অ্যান্টিবা‌য়ো‌টিক রে‌সি‌স্ট্যান্স জীবাণুর সংক্রাম‌ণে মারা যায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপল‌ক্ষে রাজধানীর টি‌সি‌বি মিলনায়ত‌নে মঙ্গলবার এক সেমিনা‌রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ জ‌রি‌পটি তুলে ধরা হয়। সে‌মিনা‌রে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক।
রাজধানীর টি‌সি‌বি মিলনায়ত‌নে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) যৌথ উদ্যোগে এ সে‌মিনা‌রের আ‌য়োজন ক‌রা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অ্যান্টিবা‌য়ো‌টিকযুক্ত খাদ্যকে না বলুন’।
খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের কুফল সম্পর্কে তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক কখনই কোনো রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না, রোগ হয়ে গেলে সেই জীবাণুকে মারতে পারে। অথচ আমাদের দেশে ও বিদেশে ক্যাটল ফিড, পোল্ট্রি ফিড ও ফিস ফিডের অনেক কোম্পানি তাদের উৎপাদিত ফিডগুলোতে অনাবশ্যকভাবে প্রাণিদেহ ও মানবদেহে ব্যবহার্য উভয় ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক মেশাচ্ছে। তারা বলে এর ফলে নাকি গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, মাছের অসুখ হওয়ার হার কমে যায়। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলা হলেও এসব দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং কোনো অসুখ ছাড়া সামান্য পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রাণি খাবারে মিশিয়ে দেওয়ার ফলে এসব প্রাণির শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স জীবাণু জন্মাচ্ছে। এগুলো খেয়ে কিংবা এসব প্রাণির সংস্পর্শে, রক্তে ও বিষ্ঠার মাধ্যমে রেসিস্ট্যান্ট জীবাণু মাটি ও পানিকে দূষিত করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। আর মানুষের শরীরেতো বটেই। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে, রেসিস্ট্যান্স করে দিচ্ছে। এভাবে কোম্পানিগুলো নিজেরা মোটা অঙ্কের মুনাফা করছে ঠিকই, কিন্তু মানবদেহে বিপজ্জনক অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স সৃষ্টি করে জনস্বাস্থ্যের বিপুল ক্ষতি করছে।
তিনি আরও বলেন, এই সংকট এখনই থামানো না গেলে পৃথিবীময় সমগ্র মানব-সভ্যতা অদূর ভবিষ্যতে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কোনো জটিল সংক্রামণ নয়, অতি সাধারণ সংক্রমণেই মানুষ মারা যেতে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বা‌ণিজ্যমন্ত্রী তোফা‌য়েল আহ‌মেদ ব‌লেন, বর্তমান সরকার ফরমা‌লিন প্র‌তি‌রো‌ধে আইন করে‌ছে। এখন আর কেউ ফরমা‌লিন নি‌য়ে কথা ব‌লেন না। সারা‌দে‌শে বাজার ম‌নিট‌রিং হয়। রমজা‌নে বাজার নিয়ন্ত্রণে থা‌কে। মানু‌ষের জীব‌নযাত্রার মানও বে‌ড়ে‌ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখন সবকিছুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা সবকিছুতে এগিয়ে যাচ্ছি। ২০২১ সালে শুধু তৈরি পোশাকের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি বছরে আমাদের রফতানি হবে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমাদের রিজার্ভ হয়েছে ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমরা ক্রিকেট খেলায়ও এগিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনালের (সিআই) উদ্যোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২০ দেশে ২৪০টিরও বেশি সংস্থা এ দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করে থাকে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অ্যান্টিবা‌য়ো‌টিকযুক্ত খাদ্যকে না বলুন’।
সেমিনারে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে আরও ছিলেন জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ভারতের কনজুমারস অ্যাক্টিভিটিজ অমৃতলাল সাহা প্রমুখ।