nyika diti+কোনো আশাই ছিলো না। তবুও মিরাকেল যদি কিছু হয়! কিন্তু হলো না। ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে চলে গেলেন দেশিয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা নায়িকা দিতি। আজ রবিবার বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন(ইন্না…..রাজিউন)। বাংলামেইলেকে খবরটি নিশ্চিত করেন ইউনাইটেড হাসপাতালের মিডিয়া মুখপাত্র ডা. সাগুফতা।
হাসপাতালটির চিফ কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট শাগুফা আনোয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। দিতি বেশ কিছুদিন ধরে এখানে কোমায় ছিলেন। তার মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইইউ)তে অবস্থান করছিলেন দিতি। মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন দিতির দুই সন্তান।
ডা. সাগুফতা বাংলামেইলকে বলেন, মৃত্যুর আগমূহুর্তে দিতির শারিরিক অবস্থার অবণতি ঘটে। কৃত্রিম পর্যায়েও শ্বাস নিতে পারছিলেন না।একপর্যায়ে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
দিতির মৃতদেহ এখনো আইসিইউতেই রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. সাগুফতা। স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মস্তিস্কে ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে মাদ্রাজের ইন্সটিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু সেখানকার ডাক্তাররা আশানুরূপ ফলাফল জানাতে পারেননি। তাই চলতি বছরের শুরুতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে জন্মছিলেন দিতি। ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন তিনি। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু এটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিলো আজমল হুদা মিঠু পরিচালিত ‘আমিই ওস্তাদ’।
জীবদ্দশায় প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন দিতি। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রী’ ছবিতে আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে দারুণ অভিনয় নৈপুণ্যের জন্য প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
ছোট পর্দায়ও দিতি ছিলেন নিয়মিত। অনেক একক নাটক, টেলিছবি ও ধারাবাহিক নাটকে দেখা গেছে তাকে। এ ছাড়া রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেছেন। গায়িকা হিসেবেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন দিতি। বেরিয়েছে তার একক অ্যালবামও।