andre felecar‘উই ওয়ান্ট গেইল’ – ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের শুরু থেকেই চিন্নাস্বামীর গ্যালারিতে গর্জন। কিন্তু হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ফিল্ডিংয়ের সময় মাঠ ছাড়া গেইলের শেষ পর্যন্ত মাঠে নামা হলো না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় তাতে আটকানো যায়নি। গেইলের জায়গায় ওপেন করতে নেমে প্রায় একই রকম বিনোদন জোগালেন আন্দ্রে ফ্লেচার!
শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২২ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেটি টপকে যায় ১০ বল বাকি রেখে।
জেরম টেলরের বদলে এই ম্যাচে একাদশে ফিরে নায়ক বনে গেলেন ফ্লেচার। ১২৭ রানের মধ্যে একাই করলেন অপরাজিত ৮৪!
স্কোরকার্ড যেমন বলছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসটাও ছিল তেমনই। রান যা করার, ওই ফ্লেচারই করেছেন। উদ্বোধনী জুটিতে জনসন চার্লসের (১০) সঙ্গে গড়েছিলেন ৩৯ রানের জুটি।
জেফ্রি ভ্যান্ডারসে ও মিলিন্দা সিরিবর্ধনার স্পিনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ফ্লেচারের সঙ্গে পেরে ওঠেনি তারা। আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে ৩৩ বলে ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ম্যাচের ইতি। ৮ বলে ২০ করে অপরাজিত রাসেল। ৬৪ বলে ৫ ছক্কায় ৮৪ ফ্লেচার।
ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় আসলে প্রথম ইনিংসেই। ব্যাটিং স্বর্গের ২২ গজ, ছোট মাঠ, দ্রুতগতির আউটফিল্ড। রান তাড়ার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আদর্শ মাঠগুলোর একটি। ব্যাটিং গভীরতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজে তলানি পর্যন্ত ঝড় তোলার মতো ব্যাটসম্যান। কিন্তু ক্যারিবিয়ানদের চ্যালেঞ্জ জানানোর মত স্কোরই তো গড়তে পারেনি লঙ্কানরা!
স্যামুয়েল বদ্রি ও সুলিমান বেনের আটঁসাঁট স্পিনে লঙ্কানরা হাসফাঁস করল শুরু থেকেই। পেসাররাও সঙ্গ দিলেন ভালোই। আর ফিল্ডিংটা হলো দুর্দান্ত। ইনিংস জুড়ে ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কা এই রানটাও করতে পারল শেষ দিকে থিসারা পেরেরার কার্যকর এক ইনিংসে।
শুরুটা লঙ্কানদের জন্য ছিল আশা জাগানিয়া। ইনিংসের দ্বিতীয় আর নিজের প্রথম বলেই আন্দ্রে রাসেলকে ডিপ স্কয়ার লেগের ওপারে ফেললেন তিলকরত্নে দিলশান। পরের বলেই চার। কিন্তু দ্বিতীয় ওভার থেকেই আক্রমণে স্পিন এনে লঙ্কান ওপেনারদের বেধে ফেলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।
প্রথম উইকেট যদিও নেন একজন পেসারই। কার্লোস ব্র্যাথওয়েটেরে বলে আম্পায়ারের বাজে এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের শিকার হন দিলশান (১২)।
বারবার বোলার বদলে লঙ্কান ব্যাটসমানদের থিতুই হচ্ছে দিচ্ছিলেন না স্যামি। উইকেটও ধরা দিয়েছে টপাটপ। দিলশান-চান্দিমালের পর টিকতে পারেনি অভিজ্ঞ চামারা কাপুগেদেরা ও লাহিরু থিরিমান্নে। এক ওভারে বদ্রি নেন ২ উইকেট। শ্রীলঙ্কা তখন ৫ উইকেটে ৪৭।
সেখান থেকে শ্রীলঙ্কাকে উদ্ধার করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও থিসারা পেরেরা। স্কুল জীবনের দুই বন্ধু অবশ্য সহজাত ঝড় তুলতে পারেননি। তবে সতর্ক ব্যাটিংয়ে টেনে নেন দলের ইনিংস।
৪৫ বলে ৪৪ রানের জুটি ভেঙেছে ম্যাথিউসের (৩২ বলে ২০) অদ্ভুত আউটে। ডোয়াইন ব্রাভোর মন্থর এক ফুলটস উড়িয়ে মারতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় হবে দেখে শেষ মুহূর্তে থমকে যান লঙ্কান অধিনায়ক। বল ব্যাটে চুমু দিয়ে যায় কিপারের গ্লাভসে। বেশ কয়েকবার রিপ্লে দেখে আউট দেন টিভি আম্পায়ার।
বাকি সময়টা দলকে একটাই টেনেছেন পেরেরা। কুলাসেকেরা-হেরাথরা পারেননি তেমন কিছু করতে। ৪ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন বদ্রি। উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়েছেন বেন। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ২৯ বলে ৪০ করেন পেরেরা।
তাতে শ্রীলঙ্কার স্কোরটা একটু ভদ্রস্থ হলো বটে। কিন্তু ম্যাচ জেতার লড়াইটাও করা গেল না সেভাবে। গেইলের অনুপস্থিতিতে ঝড় তুললেন ফ্লেচার।
ম্যাচ শেষে অবশ্য দেখা মিলল গেইলের। আইপিএলে দীর্ঘদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলে একরকম ঘরের ছেলেই হয়ে গেছেন এই জ্যামাইকান। ম্যাচ শেষে মাঠে নেমে চারপাশ ঘুরে ভক্তদের উদ্দেশ্যে দুহাত নাড়লেন গেইল। আবারও গর্জনে বেঙ্গালুরুর দর্শকেরা বুঝিয়ে দিল এই ব্যাটিং দানবের প্রতি তাদের ভালোবাসা।
ভালোবাসার সংস্করণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ওয়েস্ট ইন্ডিজও!
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ১২২/৯ (চান্দিমাল ১৬, দিলশান ১২, থিরিমান্নে ৫, কাপুগেদেরা ৬, ম্যাখিউম ২০, সিরিবর্ধনা ০, পেরেরা ৪০, কুলাসেকারা ৭, হেরাথ ৩, ভ্যান্ডারসে ০*, চামিরা ০*; বদ্রি ৩/১২, ব্রাভো ২/২০, রাসেল ১/৩৪, ব্র্যাথওয়েট ১/৩৬)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.২ ওভারে ১২৭/৩ (ফ্লেচার ৮৪, চার্লস ১০, স্যামুয়েলস ৩, রামদিন ৫, রাসেল ২০*; সিরিবর্ধনা ২/৩৩, ভ্যান্ডারসে ১/১১)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: আন্দ্রে ফ্লেচার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)