action-bowlar‘গতিদানব’ তাসকিন আহমেদ ও ‘ঘূর্ণি জাদুকর’ আরাফাত সানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারিতে আবারও বিতর্কে উঠলো ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির ‘বোলিং অ্যাকশন’ ইস্যু। প্রায় শত বছরের পুরনো এই বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে সংস্থাটির এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান, পরীক্ষা পদ্ধতি ও তৎপরবর্তী পদক্ষেপ। বিশেষত তাসকিন আহমেদের পরীক্ষা ও তারপর দেওয়া সিদ্ধান্ত সমালোচনার শূলে বসাচ্ছে আইসিসিকে। গত শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ‘অ্যাকশনে ত্রæটি’র কারণে তাসকিন ও সানিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। এই নিষেধাজ্ঞায় হতভম্ব হয়ে যান বোলিং অ্যাকশন ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আইনজীবী হিসেবে কাজ করা সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি তাসকিনের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ‘প্রহসন’ ও ‘অবিচার’ বলে আখ্যা দিয়ে উল্টো আইসিসিরই পরীক্ষা ও পদক্ষেপ প্রশ্নবিদ্ধ বলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তার এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে।
এই বিতর্কের মধ্যে খোঁজা হয় আইসিসির ‘বোলিং অ্যাকশন আপত্তি’র ফিরিস্তি। খোঁজা হয় নিষেধাজ্ঞার ‘বলি’ হওয়া ক্রিকেটারদের তালিকা এবং আইসিসির ‘সতর্কতার কোপে’ ‘আহত’ হয়ে ‘জাত হারানো’ বোলারদের নামও।
ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের ‘দায়ে’ এখন পর্যন্ত আইসিসির সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন ১৬ জন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বোলার। এই ১৬ জনের মধ্যে চারজনই টাইগার। বাকি ১২ জনের মধ্যে চারজন পাকিস্তানের, তিনজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এবং একজন করে আছেন জিম্বাবুয়ের, শ্রীলঙ্কার, দক্ষিণ আফ্রিকার, ইংল্যান্ডের ও নিউজিল্যান্ডের। বিস্ময়করভাবে বোলিং অ্যাকশনের কারণে কোনো সময়েই আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়নি কোনো ভারতীয় কিংবা অস্ট্রেলীয় বোলারকে।
নিষেধাজ্ঞায় পড়া এই বোলাররা হলেন- বাংলাদেশের আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী এবং একসঙ্গে আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ; পাকিস্তানের শোয়েব আখতার, সাব্বির আহমেদ, সাঈদ আজমল ও মোহাম্মদ হাফিজ; ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেন শিলিংফোর্ড, মারলন স্যামুয়েলস ও সুনীল নারিন; জিম্বাবুয়ের প্রসপার উৎসেয়া; শ্রীলঙ্কার সচিত্রা সেনানায়েকে; দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান বোথা; ইংল্যান্ডের জেমস কার্টলি এবং নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন।
এছাড়া, ক্রিকেট ম্যাচ (ওয়ানডে ও টেস্ট) চলাকালে অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে অভিযুক্ত হন শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন; জিম্বাবুয়ের হেনরি অলঙ্গা ও গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার; পাকিস্তানের হাসিব আহসান; ওয়েস্ট ইন্ডিজের শার্লি গ্রিফিথ; দক্ষিণ আফ্রিকার কুয়ান ম্যাককার্থি ও জিওফ্রে গ্রিফিন; ইংল্যান্ডের সি বি ফ্রাই, আর্থার মোল্ড, দোগ ইনসোল, টনি লক, ডেভিড গওয়ার, হ্যারল্ড রোডস, বাচ হোয়াইট ও রেগ সিম্পসন; অস্ট্রেলিয়ার আরনি জোনস, কেইথ ¯ø্যাটার, ইয়ান মেকিফ, ইয়ান রেডপাথ, জিম হিগস ও ব্রæস ইয়ার্ডলি; ভারতের মধুসূদন রেজে, আবিদ আলী ও সৈয়দ কিরমানি।
এর বাইরে আইসিসির পক্ষ থেকে সন্দেহজনক অ্যাকশনের জন্য তলব করা হয় পাঁচজনকে। তবে, তাদের ম্যাচ চলাকালে সন্দেহভাজন বলে চিহ্নিত করা হয়নি। এ পাঁচজন হলেন শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনা ও অজন্তা মেন্ডিস; ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্মেইন লসন; অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি; পাকিস্তানের শোয়েব মালিক এবং ভারতের হরভজন সিং।
এ পর্যায়ে জানা যাক বোলিং অ্যাকশন ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া কিছু ক্রিকেটারের খবরাখবর। উল্লেখ করতে হয়, সাধারণত বল ছোঁড়ার ক্ষেত্রে কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বেঁকে গেলে সেটিকে আইসিসির আইনে অবৈধ বলা হয়। এই কনুই বেঁকে যাওয়াটা লক্ষ্য করেন ম্যাচের আম্পারসহ অফিসিয়ালরা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার বায়োমেকানিক্যাল ল্যাবে পরীক্ষা হয়। এরপর ফলে নির্ধারিত হয় বোলারদের ভাগ্য।

শোয়েব আখতার : বোলিং অ্যাকশন বিতর্ক ১৮৫৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার আরনি জোনসকে দিয়ে উঠলেও নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে ১৯৯৯ সাল থেকে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রথম চোখ রাঙানি হজম করতে হয় পাকিস্তানের স্পিডস্টার শোয়েব আখতারকে। ওই বছর অস্ট্রেলিয়া সফরকালে পাকিস্তানি এ পেসারের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে প্রথম অভিযোগ তোলা হয়। সেই প্রেক্ষিতে আখতারকে পাঠানো হয় নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে। অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে প্রমাণ হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় শোয়েবের ওপর। পরে আইসিসির নিয়মে অনুশীলন ও অ্যাকশন সংশোধন করে ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। তবু বিতর্ক পিছু ছাড়েনি শোয়েবের।

শাব্বির আহমেদ : পাকিস্তানের আরেক পেসার শাব্বির আহমেদও পড়েছিলেন বোলিং অ্যাকশনে সন্দেহভাজন হয়ে নিষেধাজ্ঞার কবলে। কয়েক দফায় বোলিং অ্যাকশনে ত্রæটির অভিযোগ ওঠার পর ২০০৫ সালে তাকে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সে বছর ডিসেম্বরে প্রমাণ হয় শাব্বিরের অ্যাকশন অবৈধ। এই প্রেক্ষিতে শাব্বিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। প্রায় একবছর নিষিদ্ধ থেকে অনেক অনুশীলন-পরীক্ষার পর ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। কিন্তু অ্যাকশন বদলের ফলে ফর্ম পড়ে যাওয়ায় শাব্বির এখন দলেই জায়গা পান না।

আব্দুর রাজ্জাক : বাংলাদেশ দলের সেরা স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক অভিষেকের পর কয়েক বছর খেললে ২০০৮ সালে তার অ্যাকশনে সন্দেহের অভিযোগ তোলা হয়। পরীক্ষায় প্রমাণের ভিত্তিতে ওই বছরের ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় রাজ্জাকের ওপর। অ্যাকশন শোধরানোয় পরের বছরের মার্চে রাজ্জাকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু অ্যাকশন শুধরে সেই বোলিংয়ের ‘ধার’ রাখতে পারেননি রাজ্জাক। সে কারণে জাতীয় দলেও জায়গা নিতে পারছেন না একসময়ের বোলিং অ্যাটাকের এ কাÐারী।

জোহান বোথা : পেস আক্রমণের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় জোহান বোথা প্রধান সারির স্পিনার বলে পরিচিত। ২০০৬ সালের ফেব্রæয়ারিতে এই বোথার অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এরপর পরীক্ষা করে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অ্যাকশন শোধরালে ওই বছরের নভেম্বরে আবার খেলার সুযোগ পান বোথা। কিন্তু ২০০৯ সালের এপ্রিলে আবার অভিযুক্ত হন তিনি। এরপর তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র দুসরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইসিসি। এই দুসরা হারিয়ে দল থেকেই প্রায় হারিয়ে গেছেন বোথা।

শেন শিলিংফোর্ড : সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে দু’বার অভিযুক্ত হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চমকে দেওয়া বালক স্পিনার শেন শিলিংফোর্ড। তিনি প্রথম অভিযুক্ত হন ২০১০ সালের নভেম্বরে। পরের মাসেই তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। অনুশীলনের পর অ্যাকশন শোধরালে তিনি ২০১১ সালের জুনে আবারও খেলার অনুমোদন পান। কিন্তু ২০১৩ সালের নভেম্বরে ভারত সফরকালে আবারও অভিযুক্ত হন শিলিং ফোর্ড। এরপর নিষিদ্ধ করা হয় তাকে। পরে সংশোধিত হয়ে ফিরলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় শিলিংফোর্ডের দুসরায়। এই দুসরা ছাড়া তিনি কতোটা দুর্বল, তা তার জাতীয় দলের অনুপস্থিতিই বলে দিচ্ছে।

মারলন স্যামুয়েলস : শিলিংফোর্ডের সঙ্গে অভিযুক্ত হন তার স্বদেশি অগ্রজ স্পিনার মারলন স্যামুয়েলসও। পরীক্ষার পর স্যামুয়েলসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর সংশোধিত হয়ে এলে কেবল নর্মাল অফ-ব্রেক বল ছোঁড়ার অনুমতি দেওয়া হয় স্যামুয়েলসকে। এর ফলে তিনি ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করতে যে ‘প্রায় পেস’ বলটি ছুঁড়তেন সেটি নিষিদ্ধ হয়ে যায়। স্যামুয়েলস আগে নিয়মিত বল করলেও এখন তাকে একেবারেই অনিয়মিত দেখা যাচ্ছে বোলার হিসেবে।

সচিত্রা সেনানায়েকে : কিংবদন্তি মুরালিধরনের দেশে সচিত্রা সেনানায়েকে নামে আরেক ‘রহস্যময়’ অফ-স্পিনারের আগমন ঘটে। কিন্তু ২০১৪ সালের জুলাইয়ে সেনানায়েকের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে তিনি বোলিং অ্যাকশন বদলাতে বাধ্য হন। এর প্রেক্ষিতে ওই বছরের ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হন সেনানায়েকে। কিন্তু এই অ্যাকশন বদলে ‘ধার’ হারিয়ে গেছে লঙ্কান এ স্পিনারের।

সাঈদ আজমল : এই সময়ের সবচেয়ে ক্ষুরধার বোলার ‘ছিলেন’ পাকিস্তানের সাঈদ আজমল। ‘ছিলেন’ বলা হচ্ছে, তিনি এখন আগের মতো ‘ক্ষুরধার’ নেই বলে। তার ধার পড়ে গেছে বোলিং অ্যাকশন বদলের কারণে এবং সবচেয়ে ‘বড় অস্ত্র’ দুসরায় নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে। ২০১৪ সালের আগস্টে বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত হন আজমল এবং নিষিদ্ধ হন। পরে তাকে অ্যাকশন বদলের জন্য অনুশীলন ও পরীক্ষা করতে হয়। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে আজমল আবারও খেলার অনুমতি পান। কিন্তু ফিরেও সেই ‘আজমল’ হয়ে ফিরতে পারছেন না তিনি। তার প্রমাণ এখন দলে তার অনিয়মিত উপস্থিতি।

সোহাগ গাজী : স্পিন অ্যাটাকের বাংলাদেশে অফ-স্পিনার এমনিতেই কম। এরমধ্যে চমক নিয়ে আবির্ভূত হন অফ-স্পিনার সোহাগ গাজী। কিন্তু তার এই চমক বেশি দিন থাকলো না। ২০১৪ সালের আগস্টে বোলিংয়ে সন্দেহজনক বলে অভিযুক্ত হয়ে নিষিদ্ধ হন গাজী। এরপর অ্যাকশন বদল করে ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে আবারও খেলার অনুমতি পান তিনি। কিন্তু অ্যাকশন বদল করে ‘বদলে’ গেছেন গাজীও, নেই সেই আগের দুরন্ত রূপে।

মোহাম্মদ হাফিজ : ২০১৪ সালে ভারতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি চলাকালে প্রথম অভিযুক্ত হন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ। সেসময় অবশ্য তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। ওই বছরের নভেম্বরে তার অ্যাকশনে আবারও সন্দেহের তীর ছোঁড়া হয়। এরপর পরীক্ষায়ও ধরা পড়ে তার কনুই সীমা লঙ্ঘন করছে। এই প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের এপ্রিলে নিষিদ্ধ হন হাফিজ। পরে সংশোধিত হয়ে হাফিজ ক্রিকেটে ফিরেছেন। কিন্তু ব্যাটের পাশাপাশি বলে সেই ‘মিস্টার প্রফেসর’কে খুঁজে পাচ্ছে না পাকিস্তান জাতীয় দল।

সুনীল নারিন : এসময়ের সবচেয়ে ‘রহস্যময়’ স্পিনার বলে ‘খ্যাতি’ আছে সুনীল নারিনের। নানা ধরনের অফ-ব্রেক বল ছুঁড়ে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করে আসা নারিন ২০১৪ সালে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি চলাকালে প্রথম বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত হন। ল্যাবে পরীক্ষায় অ্যাকশন ত্রæটিপূর্ণ প্রমাণ হওয়ায় ২০১৫ সালের নভেম্বরে তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয়। অনুশীলনে বারবার চেষ্টা করেও নারিন ১৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে পারছেন না তার কনুই। এ কারণে তার দেশের সাবেক গ্রেট স্যার অ্যান্ডি রবার্টস মন্তব্য করেন, নারিনের ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া বিবেচনা করা উচিত বলে বিশ্বাস করি।

তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি : আইসিসির বোলিং অ্যাকশন বিতর্কে সবশেষ নিষেধাজ্ঞার খাদে পড়েছেন বাংলাদেশ দলের তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের মাঝপথে টাইগারদের প্রধান দুই বোলিং ভরসার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো আইসিসি। সানির ব্যাপারে বলা হয়েছে, বল ছোঁড়ার সময় তার কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু তাসকিনের ব্যাপারে কেবল বলা হয়েছে, তার সব ডেলিভারি বৈধ নয়।
এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার কবলে না পড়লেও কনুইয়ের সীমা ভাঙার অভিযোগে বেশ ক’বার মাঠেই ‘নো’ বলের কল পান লঙ্কান ‘ঘূর্ণি রাজা’ মুরালিধরন। শেষবার ১৯৯৯ সালে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার একটি ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ার মুরালির বলে ‘নো’ ডাকলে প্রতিবাদে দল নিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। পরে অবশ্য ম্যাচ অফিসিয়ালরা সমঝোতা করতে বাধ্য হন এবং ১৪ মিনিট পর মাঠে ফেরেন ‘বীর’ রানাতুঙ্গা।
কনুই এর আগে সর্বোচ্চ ৫ ডিগ্রি বাঁকানো যেত, মুরালিধরনের অ্যাকশন পরীক্ষা করতে গিয়েই সেসময় দেখা যায় অনেক বোলারের হাতই এতো অল্প ডিগ্রিতে থাকছে না। তখন আইন পরিবর্তন করে ১৫ ডিগ্রি বাঁকানোর সুযোগ রাখা হয়।
এই সুযোগেই বেঁচে গেছেন মুরালির দেশের স্পিনার অজন্তা মেন্ডিস। বিতর্কিতভাবে বেঁচে গেছেন হরভজন সিং-ব্রেট লিরা। মেন্ডিসকে অবশ্য অ্যাকশনে কিছু গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করে দেওয়ার ফলে হারিয়ে গেছে তারও সেই ‘ক্ষুরধার’।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, মেন্ডিস-সোহাগ-রাজ্জাক-আজমলদের এই ধার কেবল তাদের বল ছোঁড়ার গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ কিংবা অ্যাকশন বদলের কারণেই কমে যায় না, বল ছোঁড়ার ক্ষেত্রে কনুই বাঁকানোর ক্ষেত্রে বিশেষ মনোসংযোগ দেওয়ার কারণেও হয়। আগে যদি বোলাররা কেবল তার বল ছোঁড়ার বৈচিত্র্যে নজর দিতেন, এই ধরনের পরীক্ষা-সতর্কতার পর তাদের নজর চলে যায় কনুইয়ের দিকে, যেটা মানসিক চাপেরও সৃষ্টি করে।
ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের হিসাব বলছে, মাঠের আম্পায়াররা কেবল বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বোলারদের অ্যাকশনেই ঘন ঘন ‘সন্দেহজনক’ কিছু দেখতে পান। হিসাব মতে, বিস্ময়করভাবে এই সন্দেহের ঊর্ধ্বে থেকে যাচ্ছেন অনিল কুম্বলে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজা, আশিস নেহরা এবং জাসপ্রিত বুমরাহরা।