সেই চিলিকেই হারাল আর্জেন্টিনা


argentina-mনয় মাসের কথা ওই রাতটা অনেক দিনই আর্জেন্টিনার হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাবে। সান্তিয়াগোর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সেদিন দেখতে হয়েছিল চিলির কোপা আমেরিকা জয়ের উল্লাস। টাইব্রেকারে হেরে আর্জেন্টিনার হয়ে বড় কোনো শিরোপা সেবারও অধরা থেকে যায় মেসির। সেই মাঠে আবার ফিরে কি মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলেন, পরাজয়টা ফিরিয়ে দেবেন ? চিলিকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা কোপার ওই ফাইনালের একরকম ‘প্রতিশোধ’ নিল।
আর্জেন্টিনা কোচ জেরার্ডো মার্টিনো অবশ্য এসব ‘বদলা-টদলা’ নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জয়টা আর্জেন্টিনার জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আপাতত হাঁপ ছেড়ে বাঁচার স্বস্তিই অন্য সবকিছুকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রথম চার ম্যাচে মেসিদের ছিল মাত্র একটি জয়, গোল করেছিল মাত্র দুইটি। পরশু চিলির সঙ্গে জয়টা তাই আর্জেন্টিনার জন্য পথ খুঁজে ফেরার উপলক্ষও বটে। বিশ্বকাপের খেলার সম্ভাবনার পালে এবার একটু হাওয়া লাগল।
অথচ ম্যাচের শুরুতে মনে হয়েছিল, আরেকটি পরাজয়ের অগৌরব নিয়ে দেশে ফিরতে হবে আর্জেন্টিনাকে। ১০ মিনিটে কর্নার থেকে ফেলিপে গুতিয়েরেজের করা গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। সমতা ফেরানোর জন্য আর্জেন্টিনা মাত্র ১৯ মিনিট সময় নিয়েছে। বল নিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন এভার বানেগা। তক্কে তক্কে থাকা অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া ডান পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।
পাঁচ মিনিট পরেই আবার আনন্দের উপলক্ষ আর্জেন্টিনার। এবার সেটির কারিগর মেসি। কর্নার থেকে নিকোলাস ওটামেন্ডির হেড থেকে বল পেয়ে মেসি বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। আলতো করে বাড়িয়ে দেওয়া বলটা ডান পায়ের দারুণ এক ভলিতে জালে জড়িয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্সেদো। রিভারপ্লেটের এই রাইটব্যাকের আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক হয়েছিল সেই ছয় বছর আগে। এরপর কালই প্রথম মাঠে নামলেন। কে জানত, পুনর্জন্ম পাওয়া ম্যাচটা এ রকম একটা উপলক্ষ এনে দেবে!
তবে ২৫ মিনিটের ওই দুই গোলের পর বাকি সময়ে আর কোনো গোলই হয়নি। আর্জেন্টিনাও দ্বিতীয়ার্ধে একটু ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল। মেসি পরে নিজেই স্বীকার করেছেন, ‘প্রথমার্ধে ভালোই খেলেছি, তবে দ্বিতীয়ার্ধে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।’ চিলি কয়েকটা সুযোগ পেয়েও পরে কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা।
এ ম্যাচ দিয়েই দলে ফেরেন লিওনেল মেসি ও সার্জিও আগুয়েরো। ইনজুরির কারণে বাছাইপর্বের প্রথম চার ম্যাচেই মাঠের বাইরে ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আগের দুই ম্যাচে আগুয়েরোও ছিলেন স্কোয়াডের বাইরে। দলের অন্যতম দুই তারকার ফেরার ম্যাচে সমর্থকদের হতাশ করেনি দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এদিকে, অন্যান্য ম্যাচের মধ্যে বলিভিয়াকে ৩-২ গোলে কলম্বিয়া ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ইকুয়েডর।
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পয়েন্ট টেবিলে ছয় থেকে চারে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। পাঁচ ম্যাচ শেষে দুই জয়, দুই ড্র ও এক হারে তাদের সংগ্রহ ৮। সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্টে পাঁচ থেকে ছয়ে নেমে গেছে চিলি। পয়েন্ট খোঁয়ালেও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই ইকুয়েডর।
আগামী বুধবার (৩০ মার্চ) ঘরের মাঠে বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s