pakistan austটি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চলমান আসর থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পাকিস্তানকে। অন্যদিকে, শুক্রবার পাকিস্তানকে ২১ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে রইল অস্ট্রেলিয়া। এদিন দুপুরে মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ শুরু হয়েছিল বেলা সাড়ে ৩টায়। জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ১৯৪ রানের বিশাল টার্গেট। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান তুলেছে পাকিস্তানিরা।
শুরুটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় দিয়ে। এরপর ব্যর্থতার চক্রে আবর্তিত গোটা দল। জেতা হলো না পরের একটি ম্যাচও। গ্রুপ ‍টুয়ে নিজেদের শেষ ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জিততে পারলে সেমির স্বপ্ন বেঁচে থাকত পাকিস্তানের। কিন্তু পারেনি আফ্রিদি শিবির। শুক্রবার মোহালিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২১ রানে হেরে টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে তিন ম্যাচে দুই জয়ে সেমিতে খেলার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করল অস্ট্রেলিয়া। শেষ ম্যাচে ভারতকে হারাতে পারলেই শেষ চারে খেলবে অসি শিবির।
টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেটে ১৯৩ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৭২ রান। সুপার টেনের গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হারল পাকিস্তান।
১৯৪ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। দলীয় ২০ রানের মাথায় বিদায় নেন ওপেনার আহমেদ শেহজাদ। ৬ বলে মাত্র ১ রান করে হ্যাজলউডের শিকার তিনি। দলীয় ৪০ রানের মাথায় বিদায় নেন আরেক ওপেনার শারজিল খান। যদিও তিনি ঝড়ের আভাস দিয়েছিলেন। তবে তাকে বোল্ড করেন ফকনার। সাজঘরে ফেরার আগে শারজিল করে যান ১৯ বলে ৩০ রানের ইনিংস। যেখানে ছক্কা না থাকলেও হাঁকিয়েছেন ছয়টি চার।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে পাকিস্তানের হাল ধরার চেষ্টা করেন উমর আকমল ও খালিদ লতিফ। এই জুটি থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪৫ রান। তবে দলীয় ৮৫ রানের মাথায় জাম্পার স্লোয়ারে বিভ্রান্ত উমর আকমল, হয়ে যান বোল্ড। ২০ বলে তিনি করেন ৩২ রান। যার মধ্যে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কার মার।
দলের জরুরি সময়ে উল্টো পথে হেটেছেন অফ ফর্মে থাকা পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। সাত বলে ১৪ রান করে তিনি জাম্পার বলে নেভিলের স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার। পাকিস্তানের রান তখন ১১০। এরপর পাকিস্তানের হয়ে লড়েছেন দুজন। তারা হলেন খালিদ লতিফ ও শোয়েব মালিক। বাকিরা তেমন জ্বলে উঠতে পারেননি। লতিফ ৪১ বলে ৪৬ রান করে ফকনারের বলে বোল্ড। তবে ২০ বলে দুই ছয় ও দুই চারে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন শোয়েব মালিক। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৭২ রান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৫টি উইকেট নেন ফকনার। এছাড়া জাম্পা দুটি, হ্যাজলউড নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সাবলিল ঢঙে রান তুলতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের কোন বোলারই চাপ তৈরি করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ৪৩ বলে তার এই ইনিংসে ছিল সাতটি চারের মার, তবে ছিল না কোন ছক্কা।
ক্রিকেটকে বিদায় জানানো শেন ওয়াটসন করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ বলে ৪৪ রান। তার অপরাজিত ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কার মার। এছাড়া ম্যাক্সওয়েল ১৮ বলে ৩০, খাজা ১৬ বলে ২১, ফিঞ্চ ১৬ বলে ১৫ রান করেন। তবে জ্বলে উঠতে পারেননি হার্ড হিটার ডেভিড ওয়ার্নার। ৬ বলে ৯ রান করেন তিনি।
পাকিস্তানের হয়ে ওয়াহাব রিয়াজ ও ইমাদ ওয়াসিম দুটি করে উইকেট পান। ৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়েও কোন উইকেটের দেখা পাননি মোহাম্মদ আমির। তবে সবচেয়ে বেশী মার খেয়েছেন আরেক পেসার মোহাম্মদ সামি। ৪ ওভারে তিনি দিয়েছেন ৫৩ রান, পাননি একটি উইকেটও। ৪ উইকেটে ১৯৩ রান, টি২০ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অসিদের সর্বোচ্চ রান সাত উইকেটে ১৯৭। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়া করেছিল এই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ঐ ম্যাচে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫৫ রানের জয় পায়। এর পরের দুটি ম্যাচ তারা হেরে যায়। ইডেন গার্ডেনে ভারতের কাছে পরাস্ত হয় ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে। উড়তে থাকা নিউজিল্যান্ড আফ্রিদি-হাফিজদের হারায় ২২ রানে।
অপরদিকে অস্ট্রেলিয়া প্রথমটিতে প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ রানে হেরে যায় তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গে অবশ্য হারতে হারতে ৩ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।