england t20টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ ওয়ানে এক ম্যাচ থাকতেই টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হল গতবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে। অপরদিকে শ্রীলঙ্কাকে ১০ রানে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফা‌ইনাল নিশ্চিত করলো ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের করা ১৭১ রানের পর নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান করে লঙ্কানরা। আর এ ম্যাচ হারের ফলে আসর থেকে বাদ পড়লো অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস বাহিনী।
শনিবার ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ১০ রানে পরাজিত করে গ্রুপ ওয়ানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর দ্বিতীয় দল হিসাবে সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের জয়ে টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। চার ম্যাচে তিন জয়ে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ছয়। সেখানে তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই হারে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট মাত্র দুই। আগামী ২৮ মার্চ দিল্লিতে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি তাই দাঁড়ালো নিতান্তই নিয়মরক্ষার।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে ইংল্যান্ড। জবাবে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬১ রান। শ্রীলঙ্কার হয়ে বলতে গেলে একাই লড়েছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। ৫৪ বলে ৭৩ রান করেন তিনি। যেখানে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও তিনটি চারের মার।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মহা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ১৫ রানের মধ্যে তারা হারায় টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে। দুই অংকের রান স্পর্শ করার আগেই একে একে বিদায় নেন দিলশান (২), চান্দিমাল (১), শ্রীবর্ধনে (৭) ও থিরিমান্নে (৩)।
তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে দলের বিপর্যয় রোধ করার চেষ্টা করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও কাপুগেদারা। এই জুটিতে রান আসে ৮০। ২৭ বলে ৩০ রান করা কাপুগেদারাকে আউট করে এই জুটি বিচ্ছিন্ন করেন ইংলিশ বোলার প্লাংকেট। তারপরও শেষ পর্যন্ত একাই লড়েছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তার সঙ্গে খণ্ড খণ্ড জুটি বেধে শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন থিসারা পেরেরা ও দাসুন সানাকা।
কিন্তু শেষটা মধুর হয়নি। শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮  উইকেটে ১৬১ রান। ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাথুস। এর আগে পেরেরা ১১ বলে ২০ ও সানাকা ৯ বলে ১৫ রান করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন জরদান। এছাড়া উইলে দুটি ও প্লাংকেট নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুটা বাজেই ছিল ইংল্যান্ডের। দলের স্কোরশিটে ৪ রান যোগ হতেই তারা খুইয়ে ফেলে অ্যালেক্স হেলসের উইকেটটি। রানের খাতাই না খুলতেই হেলসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন লঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। এই ধকল ইংলিশরা সামলে ওঠে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে।
জেসন রয় ও জো রুট মধ্যকার এই জুটির বদৌলতে ইংল্যান্ড পায় ৬১ রান। এরপর দলীয় ৬৫ রানের মাথায় ৩৯ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪২ রান করা জেসনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শ্রীলঙ্কার আরেক স্পিনার জেফরি ভেন্ডারসে। জো রুটের ব্যাক্তিগত ইনিংসটি থামে ২৪ বলে চারটি চারের মারে ২৫ রানে। তাকেও প্যাভিলিয়নের পথ ধরিয়ে দেন ভেন্ডারসে। তখন ৮৮ রানে তিন উইকেট নেই ইংলিশদের।
এরপর চতুর্থ উইকেটে আরেকটি বড় জুটি গড়েন অধিনায়ক ইয়ান মরগান ও জস বাটলার। ৩৯ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ৭৪ রানের জুটি। ১৬ বলে একটি করে চার ছক্কায় ২২ রান করে মরগান কাটা পড়েন রানআউটে। বাটলার খেলেন হার না মানা ৬৬ রানের ইনিংস। তার টর্নোডো এই ইনিংসটি ছিল ৩৭ বলে আটটি চার ও দুটি ছক্কায় সমৃদ্ধ। ৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন বেন স্টোকস।  শ্রীলঙ্কার পক্ষে সেরা বোলার জেফরি ভেন্ডারসে। ৪ ওভারে ২৬ রান খরচায় পকেটে পুরেন দুই উইকেট। রঙ্গনা হেরাথ নিয়েছেন একটি উইকেট। ৪ ওভারে তিনি খরচ করেছেন ২৭ রান।