IND-WI-02টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেও জিততে পারল না ভারত। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে বিরাট কোহলির অপরাজিত ৮৯ রানের সুবাদে ২ উইকেটে ১৯২ রান করে ভারত। জবাবে লেন্ডল সিমন্সের অপরাজিত ৮২ রানের কল্যাণে ২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আন্দ্রে রাসেল কোহলির পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিবীয়দের কলকাতার ইডেন গার্ডেনের ফাইনালে পৌঁছে দেন। যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড।
কে লিখেছে এমন রূপকথার চিত্রনাট্য! ম্যাচটি লেন্ডল সিমন্সের দেখার কথা ছিল টিভি পর্দায়। কিন্তু ভাগ্য তাকে ক্যারিবিয়ান থেকে উড়িয়ে আনল ভারতে। প্রথমবার মাঠে নামলেন বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনালে। দুবার ক্যাচ দিয়েও টিকে রইলেন দুবারই নো-বল হওয়ায়। আরেকবার ক্যাচ দিয়ে ছক্কা পেলেন ফিল্ডারের পা সীমানা স্পর্শ করায়। এবং শেষ পর্যন্ত অসাধারণ এক ইনিংসে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে তুললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ওপেনিংয়ে ক্রিস গেইল না পারলেও জ্বলে উঠলেন জনসন চার্লস। সময়ের দাবি মিটিয়ে ঝড় তুললেন আন্দ্রে রাসেল। ভারতের বিশাল স্কোর তাড়া করে ৭ উইকেটে জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
১৯৩ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই অবশ্য হোঁচট খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহর প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান ক্যারিবীয় ব্যাটিং-দানব ক্রিস গেইল (৫)। বুমরাহর লো ফুল টস বল বুঝতেই পারেননি গেইল। পরের ওভারে সাজঘরের পথে ধরেন মারলন স্যামুয়েলসও (৪)। আশিস নেহরার বলে অজিঙ্কা রাহানেকে ক্যাচ দেন এই ডানহাতি।
১৯ রানেই ২ উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেটে জনসন চার্লস ও লেন্ডল সিমন্সের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চার্লস তুলে নেন ফিফটি। বারবার বোলার পরিবর্তন করেও জুটি ভাঙতে না পারায় ১৪তম ওভারে কোহলিকে আক্রমণে আনেন ধোনি। আর নিজের প্রথম বলেই ব্রেক থ্রু এনে দেন ব্যাট হাতে ৮৯ রান করা কোহলি। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে রোহিত শর্মার হাতে ধরা পড়েন চার্লস (৩৬ বলে ৫২)। চার্লস-সিমন্স জুটিতে আসে ৯৭ রান।
চার্লস ফিরে গেলেও অশ্বিনের ‘নো’ বলে জীবন পাওয়া সিমন্স আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। সিমন্স ফিফটিও তুলে নেন। ফিফটির পরই অবশ্য ফিরে যেতে পারতেন তিনি। তবে আবারও জীবন পান ‘নো’ বলের কল্যাণে! এবার ‘হতভাগা’ বোলার হার্দিক পান্ডিয়া।
শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। ১৮তম ওভারে বুমরাহ প্রথম তিন বলে ‘ডট’ দিলেও চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকান সিমন্স। পরের বলে ২ রান নিয়ে শেষ বলে মারেন চার। অর্থাৎ শেষ দুই ওভারে দরকার পড়ে ২০ রান।
১৯তম ওভারে রবীন্দ জাদেজা প্রথম চার বল থেকে মাত্র ৩ রান দিলেও পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকান রাসেল। পরের বলে মারেন চার। শেষ ওভারে দরকার পড়ে ৮ রান। কোহলির করা শেষ ওভারে প্রথম দুই বল থেকে ১ রান এলেও পরের দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকান রাসেল। সেই সঙ্গে ভারতকে কাঁদিয়ে ক্যারিবীয়দের পৌঁছে দেন কলকাতার ইডেন গার্ডেনের ফাইনালে।
৫১ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন সিমন্স। মাত্র ২০ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন রাসেল।
এর আগে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শিখর ধাওয়ানকে বাদ দিয়ে ওপেনিংয়ে অজিঙ্কা রাহানেকে নিয়ে আসা ভারতের ব্যাটিংয়ের শুরুটা হয় দারুণ।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন মূলত রোহিত শর্মা। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভারত পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে তোলে ৫৫ রান। টুর্নামেন্টে ভারতের পঞ্চাশোর্ধ রানের ওপেনিং জুটি এটাই প্রথম। তবে জুটিটা আর বেশি বড় হয়নি। বিধ্বংসী হয়ে ওঠা রোহিতকে এলবিডব্লিউ করে ৬২ রানের জুটি ভাঙেন স্পিনার স্যামুয়েল বদ্রি। ৩১ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৪৩ রান করেন রোহিত।
পরের ওভারেই ইনিংসের সবচেয়ে ‘বড় সফলতা’টা পেতে পারতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যক্তিগত ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যেতে পারতেন ভারতের ব্যাটিং কাণ্ডারি বিরাট কোহলি। কিন্তু কোহলিকে রান আউট করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন দিনেশ রামদিন ও ডোয়াইন ব্রাভো।
ব্রাভোর স্লোয়ার বল ক্রিজ ছেড়ে উঠে এসে মারতে গিয়েছিলেন কোহলি, তবে বলে-ব্যাটে এক করতে পারেননি। কোহলি তখন ক্রিজের বাইরেই। কিন্তু উইকেটরক্ষক রামদিনের থ্রো স্টাম্প মিস করার পর খুব কাছে থেকে ব্রাভোও বল স্টাম্পে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফল, রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া।
ব্যক্তিগত ১ রানে জীবন পাওয়া কোহলিকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি রাহানে। দলীয় ১২৮ রানে রাহানেকে ফিরিয়ে (৪০) ৬৬ রানের জুটি ভাঙেন আন্দ্রে রাসেল। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিডউইকেট বাউন্ডারির কাছে ব্রাভোর হাতে ধরা পড়েন রাহানে।
রাহানে ফিরলেও অধিনায়ক ধোনির সঙ্গে ২৭ বলে ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ভারতকে ১৯২ রানের বড় পুঁজি এনে দেন কোহলি। মাত্র ৪৭ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ৮৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৯ বলে ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন ধোনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৯২/২ (কোহলি ৮৯*, রোহিত ৪৩, রাহানে ৪০, ধোনি ১৫*; বদ্রি ১/২৬, রাসেল ১/৪৭)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯.৪ ওভারে ১৯৬/৩ (সিমন্স ৮২*, চার্লস ৫২, রাসেল ৪৩; কোহলি ১/১৫, নেহরা  ১/২৪, বুমরাহ ১/৪২)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: লেন্ডল সিমন্স।