অ্যাপল: চার দশকে চার ধাপ


apple_logo.jpgপ্রতিষ্ঠার চল্লিশ বছর পূর্ণ করলো বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। চার দশকের এ যাত্রায় নানা উত্থান-পতন, খানাখন্দ পেরিয়ে আজও একের পর এক চমকপ্রদ প্রযুক্তি বিশ্বকে উপহার দিয়ে যাচ্ছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির এ অগ্রগতিতে আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করার সুবাদে সংবাদ প্রযুক্তিসাংবাদিক ও প্রয়াত স্টিভ জবসের বন্ধু ওয়াল্ট মসবার্গ-এর একটি সাক্ষাতকার ইউটিউবে প্রকাশিত হয়। ওই সাক্ষাতকারে উঠে আসে অ্যাপল পণ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এবং প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস-এর কিছু স্মৃতি।
মসবার্গ কাজ করেন ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে। পাশাপাশি তিনি প্রযুক্তি সম্মেলন ‘অল থিংস ডি’-এর প্রধান উদ্যোক্তা।
মসবার্গ-এর মতে, এ চার দশকে অ্যাপল শুধু তাদের নিজেদের অবস্থানকেই সংহত করেনি, একইসঙ্গে বদলে দিয়েছে সমাজকে, প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে দিয়েছে নতুন এক মাত্রা। প্রযুক্তি বিশ্বে যুগান্তকারী আলোড়ন ফেলে দিতে এবং গত বিশ বছরে চালকের আসনে অ্যাপল-এর অবস্থান সুসংহত করতে অ্যাপল টু, ম্যাকবুক, আইপড ও আইফোন – এ চারটি পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।

অ্যাপল টু
apple-iiপ্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাপলকে দৃঢ় অবস্থান দিতে প্রথম সফল হয় আট বিটের এই কম্পিউটারটি। ১৯৭৭ সালের ১০ জুন বাজারে আসা এই কম্পিউটার এ ধরনের প্রযুক্তিতে মাইক্রোসফট-এর একচ্ছত্র আধিপত্য ছাড়িয়ে অ্যাপলকে অগ্রদূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এর কর্মক্ষমতা আধুনিক কম্পিউটারের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য হলেও ব্যক্তিগত কম্পিউটারের ধারণাকে জনপ্রিয়তা অর্জন করে তুলতে অ্যাপল টু-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এতে প্রথমবারের মতো স্লটের বদলে পোর্ট ব্যবহার করা হয়, যা কম্পিউটার প্রযুক্তির ধারণাকেই পাল্টে দেয় অনেকখানি।

ম্যাক
apple-mac-supportনানা অসাধারণ সংযোজনের মধ্য দিয়ে কম্পিউটার প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ নতুন এক যুগের সূচনা করে ১৯৮৪ সালের ২২ জানুয়ারি বাজারে আসা অ্যাপলের ম্যাকিনটশ বা ম্যাক কম্পিউটার। এতে প্রথমবারের মতো ম্যাকিনটশ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় যাতে ছিলো গ্রাফিকাল ড্রপডাউন মেনু ও আইকনের মতো অসাধারণ সব ফিচার। কিবোর্ড-এর ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীলতার বদলে এতে ছিলো মাউস ট্র‍্যাকপ্যাড। ম্যাক বাজারে আসার দেড় বছর পর প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাপলের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট একই ধরনের ফিচার নিয়ে একটি অপারেটিং সিস্টেম বাজারে ছাড়ে, যার মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলো ম্যাক ওএস।
মসবার্গ ২০০৮ সালে বাজারে আসা অ্যাপলের ম্যাকবুক এয়ার-কে ‘এযাবতকালের সেরা ল্যাপটপ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

আইপড:
ipod-touchঅ্যাপলের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি বাজারে আসে ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর। মসবার্গের ভাষায় ‘অত্যন্ত উদ্ভাবনী ও রোমাঞ্চকর’ আইপড তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিলো ব্যবহারকারীদের কাছে পকেটে বহনযোগ্য একটি মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস ও মাল্টিপারপাস কম্পিউটার উপস্থাপন করা। মিডিয়া প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি এতে গেইম খেলা এবং একে এক্সটার্নাল ডেটা স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহারের সুবিধা ছিলো। এর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা প্রযুক্তিবিশ্বের চালকের আসনে অ্যাপলের অবস্থানকে আরও পাকাপোক্ত করে। পরবর্তীতে এর পথ ধরেই আইফোন বাজারে আনে অ্যাপল।

আইফোন
apple-iphoneআইপডের জনপ্রিয়তা যখন আকাশছোঁয়া, তখনও যেনো এতে কিছু একটা ঘাটতি ছিলো। ২০০৭ সালের ২৯ জুন সর্বপ্রথম আইফোন বাজারে ছাড়ে অ্যাপল। এর বড় আকারের স্ক্রিন, মাল্টিটাচ জেশ্চারে দ্রুত ও সঠিকভাবে সাড়া দেওয়া ইত্যাদি অসাধারণ সব ফিচারের কারণে খুব কম সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাড়া ফেলে দেয় আইফোন।
আর এর সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির বাজারে মোবাইল ফোনের জগতে ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড়িয়ে অ্যাপল শীর্ষে উঠে আসে বলে মন্তব্য করেন মসবার্গ।
উল্লিখিত এসব অ্যাপল পণ্যের আসন্ন সর্বশেষ সংস্করণ ছাড়াও আইওয়াচ ও আইপ্যাডের মতো অন্যান্য পণ্যের জন্য অ্যাপলভক্তরা ছাড়াও মুখিয়ে আছে সারা প্রযুক্তিবিশ্ব।
অ্যাপলের দুর্দান্ত সব উদ্ভাবন, এদের সুবিধাজনক ডিজাইন ও ইন্টারফেইস, এবং সর্বোপরি প্রযুক্তিক্ষেত্রে অভাবনীয় অবদান রাখায় গত বিশ বছরে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় অবস্থান ধরে রেখেছে অ্যাপল।

Advertisements
This entry was posted in Computer (কম্পিউটার). Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s