Torres+is+shown+a+red+card vs barcaফের্নান্দো তরেসের লাল কার্ড পাওয়ার বিষয়টি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ায় বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সেলোনার জয়ের নায়ক লুইস সুয়ারেস। উরুগুয়ের স্ট্রাইকার সুয়ারেসের জোড়া গোলে নিজেদের মাঠ কাম্প নউতে গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম পর্বের ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জেতে বার্সেলোনা।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মুখোমুখি হয় বার্সেলোনা ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ম্যাচের ২৫ মিনিটেই ফার্নান্দো তোরেসের গোলে পিছিয়ে পড়ে বার্সা। কিন্তু ৩৫ মিনিটে তোরেস লাল কার্ড খাওয়ার পরে ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি অ্যাটলেটিকো। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে লুইস সুয়ারেজ জোড়া গোল করে বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেন। অবশ্য সুয়ারেজও লাল কার্ড খেতে পারতেন। রেফারির কারণে বেঁচে যান তিনি। প্রথমার্ধে অ্যাটলেটিকোর জুয়ানফ্রানকে লাথি মারেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ফিলিপে লুইসের মুখে হাত তোলেন। রেফারি কেবল উরুগুইয়ান তারকাকে হলুদ কার্ড দিয়ে সতর্ক করেন।
ম্যাচ শেষে সুয়ারেস বলেন, “আমরা শুরু থেকেই জানতাম, ম্যাচটি কঠিন হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমরা জিতেছি।”
ন্যু ক্যাম্পে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বার্সেলোনার সঙ্গে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে দিয়েগো সিমিওনির শিষ্যরা। ঘরের মাঠে খেলা হলেও জালের নাগাল পেতে দেয় না মেসি-নেইমারদের। অবশ্য ১৯ মিনিটেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারত বার্সা। দানি আলভেসের তৈরি করে দেওয়া দারুণ একটি সুযোগ বারের ওপর দিয়ে বল মেরে নষ্ট করেন নেইমার।
তবে ম্যাচের ২৫ মিনিটে ফার্নান্দো তোরেস যে সুযোগটি পান সেটি আর মিস করেননি। বার্সেলোনার গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে জালে বল জড়ান (১-০) তোরেস। কিন্তু এর ১০ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তোরেসকে। বাদবাকি সময় ১০ জনের দল নিয়েই খেলতে হয় মাদ্রিদের ক্লাবটিকে। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই ন্যু ক্যাম্পে বিশ্রামে যায় বার্সা।
বিরতির পর ১০ জনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৬৩ মিনিটেই তার ফল পেয়ে যায়। গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান লুইস সুয়ারেজ। তাকে গোলে সহায়তা করেন জর্দি আলবা।
৭৪ মিনিটে দানি আলভেসের সহায়তায় দারুণ এক হেডে গোল করেন সুয়ারেজ। নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি বার্সেলোনাকে এগিয়ে নেন ২-১ ব্যবধানে। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেই শেষ হয় ম্যাচ। ১০ জনের দল নিয়ে হারলেও অ্যাটলেটিকো অ্যাওয়ে ম্যাচে একটি গোল দেওয়ায় কিছুটা হলেও খুশি থাকতে পারে। ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে বার্সেলোনাকে হারাতে পারলে অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে সেমিফাইনালে উঠে যাবে তারা। তবে লিওনেল মেসি তার ৫০০ গোলের মাইলফলক আজও ছুঁতে পারেননি। বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও সেগুলো গোলে পরিণত করতে পারেননি ধরণির সেরা এই ফুটবলার।