jatioshongho prarthy.jpgজাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো নতুন জাতিসংঘ মহাসচিব নিয়োগের সময় সাম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন। এমনিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া গোপনীয়, কিন্তু এবার এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদটিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়।
মহাসচিব পদের জন্য লড়াই করবেন ৮ জন প্রার্থী। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাথে তাদের টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। মিটিং চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এ সময় তারা প্রত্যেকে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরবেন সবার সামনে এবং এরপর দুই ঘণ্টা যাবত চলবে প্রশ্নোত্তর পর্ব।
গত বছর  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল যে, বর্তমান মহাসচিব বান কি মুনের উত্তরসূরী নির্বাচনের প্রক্রিয়া যেন প্রকাশ্যে করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় যাতে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রার্থীদের বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন এবং প্রকাশ্যে শুনানির ব্যবস্থা থাকে। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে এই পরিবর্তন করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব বান কি মুন এক সময় ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী। চলতি বছরের শেষে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রশ্নে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অনেকেই একজন নারী মহাসচিব নিয়োগের ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু করেছেন। ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন নারী মনোনয়ন প্রত্যাশীও রয়েছেন।
জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা কাউন্সিল থেকে একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করা হবে ১৯৩ সদস্য বিশিষ্ট সাধারণ পরিষদে। তবে যে সদস্য দেশগুলোর ভেটো (নামঞ্জুর করার ক্ষমতা) দেয়ার অধিকার রয়েছে-যেমন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, চীন এবং ফ্রান্স- তাদেরকে অবশ্যই একমত হতে হবে প্রার্থী নির্বাচনে।
গত বছর নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার পর এবারই প্রথম নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রকাশ্য করা হয়েছে। প্রার্থীদের প্রার্থিতা পাওয়ার চিঠি এবং সিভি পর্যন্ত অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে।