home1460531858
হোমের ঘটনা ব্রিফ করছেন ইউনিট কো-অর্ডিনেটর তাপস কর্মকার

যাকে নিঃসন্দেহে সিনেমাটিক বলা যায়।সিনেমার গল্পের মতোই ঘটলো ঘটনাটা। তারপর শিলিগুড়ির একটি হোম থেকে পালিয়ে গেল ১৯ টি শিশু। হোমের পাহারাদার সমীর চৌধুরি এখন মারাত্মক জখম নিয়ে শিলিগুড়ি হাসপাতালে।তার মাথায় ৩টি সেলাই করা হয়েছে। হয়তোবা জেল থেকে পালানোর মতোই থ্রিল ছিল তাতে!
ঘটনাটা ঘটে এই সোমবার রাতের অন্ধকারে।আসলে তখন অতোটা রাত ছিল না। পাহারাদার সমীর জানান, ‌রাত ৯টা নাগাদ হোমের সমস্ত কর্মীরা বাড়ি চলে যান। আমি গেটে তালা দিয়ে বাইরে বসে থাকি। হঠাৎ শিশুরা গন্ডগোল বাধিয়ে ফেলে। ওদের গন্ডগোল থামাতেই ভেতরে ঢুকি। গেটের তালাও বন্ধ করে দিই। ভিতরে ঢুকতেই গন্ডগোল থেমে যায়। এরপরই ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা।
সমীর বলেন, ‘নিকোলাসের নেতৃত্বে ৪–৫ জন আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হোমের আলো নিভিয়ে দেয়। আমার কাছে চাবি চায় ওরা। চাবি না দিলে ওরা টিভির কেবল গলায় পেঁচিয়ে মারধর শুরু করে। জলের ফিল্টারের ক্যান্ডেল দিয়ে পিটিয়ে আমার মাথা ফাটিয়ে দেয়। এরপর চাবি কেড়ে নিয়ে তালা খুলে ১৯ জন ফিল্মি কায়দায় পালিয়ে যায়।’ অবশ্য ৯ জন শিশু থেকে গিয়েছিল। তারা চিৎকার জুড়ে দিলে আশেপাশের মানুষ চলে আসে। খবর যায় হোম কর্তৃপক্ষের কাছে।
এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেইসঙ্গে পুলিশকেও দাঁড় করানো হয়েছে কাঠগড়ায়। কারণ যার নেতৃত্বে এতগুলি শিশু একসঙ্গে পালিয়ে গেল  সেই নিকোলাসকে পুলিস নাবালক সাজিয়ে হোমে পাঠিয়েছিল পুলিশই। হোমের নিয়ম হচ্ছে, ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের এখানে রাখা হয়। ঘর পালানো, হারিয়ে যাওয়া, উদ্ধার হওয়া শিশুরা এখানে থাকে। অথচ ১৯ বছর বয়সি নিকোলাসকে এখানে ১৬ বছর লিখে গছিয়ে দিয়ে যায় শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার পুলিশ। আর নিকোলাসই অন্য কজন শিশুকে সংগঠিত করে পালানোর ছক কষে। নিকোলাসের এই ছক দুদিন আগে ধরা পড়ে গিয়েছিল। তারপর সমস্ত শিশুদের কাউন্সেলিং করা হয়। কিন্তু সোমবার আবার নতুন ছক কষে এই ঘটনা ঘটায় সে।
মাত্র দু’মাস হল এ হোমে  রাত পাহারাদারের দায়িত্বে এসেছেন সমীর চৌধুরি। আসতে না আসতেই বিপদে পড়তে হলো তাকে। তাও আবার হোমের ছেলেদের হাতেই।
হোমের ইউনিট কো–অর্ডিনেটর তাপস কর্মকার জানান, এ জেলায় সরকারি হোম নেই। তাই এখানেই সব শিশুকে রাখা হয়। নিরাপত্তা থাকলেও এখানে কিছু স্বাধীনতাও দেওয়া আছে। ছক কষে পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে নেপালের ৭ জন শিশু রয়েছে। একজন শিশু ফিরে এসেছে।
তথ্যসূত্র : আজকাল, কলকাতা