Cat-afp.jpgযুক্তরাজ্যের বড় বড় সব কূটনীতিক ও মন্ত্রীদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা হলো লন্ডনের কিংস চার্লস স্ট্রিট ভবন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান এই কার্যালয়ে সব রথী মহারথীরা সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকেন গুরুত্বপূর্ণ কাজে। আর এই কার্যালয়েই কিনা ইঁদুরের উৎপাত! এমনকি এসব ইঁদুরের উৎপাত ঠেকাতে সেখানে নিযুক্ত কর্মচারীরাও রীতিমতো গলদঘর্ম হয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একটি বিড়ালকে। বিড়ালটির কাজ হবে পররাষ্ট্র কার্যালয়ের ভেতরে থাকা ইঁদুর তাড়ানো। তার পদের নাম ‘প্রধান ইঁদুর শিকারি’। খবর এনডিটিভি অনলাইনের।
দুই বছর বয়সী ওই বিড়ালের নাম পালমারস্টোন। এখন থেকে বিড়ালটি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ওই ভবনেই থাকবে। পররাষ্ট্র কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিড়ালটি দেশটির কর দাতাদের জন্য মোটেও বোঝা হবে না। বিড়ালটি নিয়োগ দেওয়া হলেও এর খরচের জন্য জনগণের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হবে না।
পররাষ্ট্র কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পালমারস্টোন এই কার্যালয়ের এক নতুন অতিথি। ‘প্রধান ইঁদুর শিকারি’ হিসেবে তার দায়িত্ব হবে কিং চার্লস স্ট্রিটে অবস্থিত এই কার্যালয়ে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণকারীদের কাজে সহায়তা করা ও ইঁদুরের সংখ্যা কমানো।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিড়ালটিকে লন্ডনের একটি রাস্তায় পাওয়া গিয়েছিল। সে ছিল খুবই ক্ষুধার্ত ও কম ওজনের। খুব সম্ভবত সে তার মালিককে খুঁজে পাচ্ছিল না। যুক্তরাজ্যের অনেক সরকারি ভবনে ইঁদুরের উৎপাত আছে। তাই এসব ভবনে ইঁদুর মোকাবিলায় বিড়ালও বাস করছে।
২০১১ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ইঁদুর মারতে ল্যারি নামের একটি বিড়ালকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ওই সময় বলেছিলেন, ল্যারি ইঁদুর ধরতে খুবই পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ল্যারি নামের ওই বিড়ালটির টুইটার অ্যাকাউন্টও আছে। টুইটারে তার ফলোয়ার সংখ্যা ৪৭ হাজার ৫০০ জন।
এ ছাড়া ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের হাডার্সফিল্ড রেলস্টেশনের একটি বিড়ালও পদোন্নতি পেয়েছিল। স্টেশনের সব ইঁদুর তাড়ানোর কৃতিত্বের জন্য কর্তৃপক্ষ তাকে জ্যেষ্ঠ পেস্ট কন্ট্রোলার হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছিল।