earthquake+struck+off+the+Pacificপ্রকৃতি যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে এত অগ্রগতির পরও তার কাছে কতটা অসহায় জাপানবাসীর জীবন। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো জেলায় বৃহস্পতিবার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর যখন উদ্ধার তৎপরতা চালাতে কর্তৃপক্ষ দিশেহারা; তার মধ্যেই শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প একই এলাকায় আঘাত হেনেছে।
জাপানের আবহাওয়া এজেন্সি বলছে, রিখটার স্কেলে সর্বশেষ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। এই আঘাতে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তৃতি অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার আঘাত হানে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প। সব মিলিয়ে দুই দিনের ভূমিকম্পে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তরের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায়, (বাংলাদেশ সময় ভোর ৫ টা ৫৮) এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৮।
এ ঘটনায় আহতের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয়শ’তে। ভূমিকম্পের পর দেশটির ছয়টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আসছে।
প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেরা ছয়টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে ন্যাশনাল গার্ডকে উদ্ধার কাজে পাঠিয়েছেন।
এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় শহর মুইসেন থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৯ কিলোমিটার গভীরে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবল ঝাঁকুনিতে রাজধানী কিটোর বাসিন্দারা আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। গুয়ায়াকিল শহরে একটি ওভারপাস ধসে পড়ে।
কিটোর বাসিন্দা জোলিয়া ভিলেনাকে উদ্ধৃত করে বিবিসি লিখেছে, “আমার বাড়ি নড়ছিল, জিনিসপত্র ছিটকে পড়ছিল আর বাচ্চারা কাঁদছিল। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।”
ভূমিকম্পের পর প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার ও প্রতিবেশী দেশ পেরু সুনামি সতর্কতা জারি করে।
সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কিটোর একটি অংশ বিদ্যুৎহীন সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।মান্তা শহরে বিমানবন্দরের একটি টাওয়ারও ভেঙে পড়েছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।
স্থানীয় দৈনিক এল টেলেগ্রাফো জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ৫৮৮ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। দুর্গতদের জন্য খোলা হয়েছে পাঁচটি আশ্রয় কেন্দ্র।
সন্ধ্যার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দফায় দফায় মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে সেখানে। বহু মানুষকে রাত কাটাতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে।
দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হোর্হে গাস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জানমাল রক্ষায় জরুরি বিভাগ, পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
পাঁচ বছর আগে প্রচণ্ড শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি জাপানের প্রায় ২০ হাজার প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। মাত্র এক মাস আগে জাপান পালন করেছে সেই ধ্বংসযজ্ঞের বার্ষিকী। পাঁচ বছর আগে প্রকৃতি তার খামখেয়ালিপনার খেলা দেখিয়েছিল উত্তর-পশ্চিম জাপানের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে। আর ঠিক পাঁচ বছর পর প্রকৃতি বেছে নিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে।
কুমামোতোর পর্যায়ক্রমিক ভূমিকম্প থেকে সুনামি দেখা না দেওয়াকে অনেকেই আংশিক সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। কেননা, সে রকম কিছু হলে পরিণতি হয়তো হতে পারত আরও ভয়াবহ।
দ্বিতীয় ভূমিকম্পের পর কুমামোতো এবং আশপাশের অন্যান্য শহর ও বসতির অনেক লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। অটোমোবাইল এবং ইলেকট্রনিকস কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ বাড়িঘরে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং প্রায় সমপরিমাণ আবাসন পানি সরবরাহ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া দূরবর্তী অনেক জায়গায় ধসে পড়া বাড়িঘরের নিচে আটকা পড়ে যাওয়া লোকজন সম্পর্কেও খবরাখবর সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় একুয়েডরের অবস্থান। ১৯৭৯ সালের পর সেখানে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা।