Brihonnola-ferdos.jpgপরিচালক মুরাদ পারভেজের ভাগ্যে করুণ পরিণতি ঘটলো। তার পরিচালিত ‘বৃহন্নলা’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৪ বিজয়ী তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নকলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সেরা চলচ্চিত্র, সেরা কাহিনিকার এবং সেরা সংলাপ রচয়িতা বিভাগে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত কোনোটিই আর জুটছে না ছবিটির ভাগ্যে।
মুরাদ পারভেজের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় সরকারি অনুদানের ছবি ‘বৃহন্নলা’র মূল কাহিনি পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ছোটগল্প ‘গাছটি বলেছিল’ থেকে নেওয়া। কিন্তু মুরাদ পারভেজ কাহিনিকার হিসেবে নিজের নাম ব্যবহার করেছেন। দুই মাস ধরে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ‘অ্যাকশন’ নেওয়া হয় ‘বৃহন্নলা’র বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, চুরির অভিযোগ ওঠায় ও এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিক রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা সভা হয় জুরি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে জুরি বোর্ডের এক সভায় ফেরদৌস ও সোহানা সাবা অভিনীত আলোচিত ছবিটির তিনটি পুরস্কারই বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালক মুরাদ পারভেজের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জুরি বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কেবল মৌলিক গল্পের ছবিকেই দেওয়া হয়। মুরাদ পারভেজ অন্যের গল্প নিজের বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন। সচেতন দর্শকদের তৎপরতায় পুরস্কার প্রদানের আগেই তিনি ধরা পড়েছেন। তাই তার ছবির তিনটি পুরস্কারই বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে সৃষ্টিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় মুরাদ পারভেজের কাছ থেকে ‘বৃহন্নলা’ নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদানের ২৪ লাখ টাকা সুদে-আসলে জরিমানা করা হবে। তবে নির্মাতা আবেদন করলে হয়তো জরিমানার অর্থে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে ‘বৃহন্নলা’র পুরস্কার বাতিল হওয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মাসুদ পথিকের ‘নেক্কাবরের মহাপ্রয়াণ’ হতে যাচ্ছে ২০১৪ সালের সেরা চলচ্চিত্র। আর সেরা কাহিনীকার হচ্ছেন ‘মেঘমল্লা’র ছবির জন্য আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও একই ছবির জন্য জাহিদুর রহিম অঞ্জন পাচ্ছেন সেরা সংলাপ রচয়িতা পুরস্কার। আর বাকি সব ঘোষিত পুরস্কার ঠিকই থাকছে।