মেসির ৫০০, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বার্সা


messiঅবশেষে ৫০০ স্কোর ছুঁলেন লিওনেল মেসি। পাঁচ ম্যাচের গোল খরা থাকার পর অবশেষে সেই চ‚ড়ায় উঠতে পেরেছেন তিনি। কিন্তু সেটা উদযাপনের কোন উপলক্ষ্যই যে পেলেন না মেসি। ভালেন্সিয়ার কাছে দুই গোল খেয়ে বসায় তারা দল বার্সেলোনা কাম্প নউতে ভালেন্সিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে বসে। আর এ পরাজয়ে লা লিগায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তারা। লা লিগায় এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে হারল লুইস এনরিকের দল। এর আগের ম্যাচটি তারা করেছিল ড্র। ৪ ম্যাচে মেসিদের মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়ায় আতলেতিকো মাদ্রিদও তাদের ছুঁয়ে ফেলেছে। লিগের আর মাত্র পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতে দুই দলেরই পয়েন্ট ৭৬। আর এক সময় বার্সেলোনার চেয়ে ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ এখন মাত্র ১ পয়েন্ট পেছনে।
গত রোববার ম্যাচের শুরু থেকে বার্সেলেনা প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে আঘাত হানে। আর এ আঘাতটি করেন মেসি নিজে। ষষ্ট মিনিটের সেই আক্রমনের পরএকাদশ মিনিটে বাঁ দিক থেকে জরদি আলবার নীচু ক্রসে পা লাগাতে পারলেই গোল পেতেন সুয়ারেস। পরের মিনিটেই নেইমারের দর্শনীয় প্রচেষ্টা লাফিয়ে উঠে ঠেকিয়ে দেন আলভেস। অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে লাফিয়ে উঠে নেওয়া শটে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে বল জালে পাঠাতে চেয়েছিলেন ব্রাজিল অধিনায়ক। এসব ছোট খাটো আক্রমনের পরও গোল পাচ্ছিলনা বার্সেলোনা। কিন্তু হঠাৎ করে বার্সেলোনাকে হতবাক করে দিয়ে ২৬তম মিনিটে এগিয়ে যায় ভালেন্সিয়া। বাঁ দিক থেকে ডি বক্সে ঢুকে পড়ে সীমানার কাছাকাছি থেকে গিলের্মে সিকেইরার শট রাকিতিচের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে ঢুকে যায়। বলে কোনোমতে হাত লাগাতে পারলেও কিছু করার ছিল না গোলরক্ষক ক্লাওদিও ব্রাভোর। প্রথামার্ধের ইনজুরির সময় ফের আঘাতা হাতে ভ্যালেন্সিয়া । স্বাগতিকদের ডি-বক্সের বাইরে দুর্দান্ত কিছু পাসের পর দানি পাহেরোর বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শটে ব্রাভোকে পরাস্ত করেন তরুণ ফরোয়ার্ড সান্তি মিনা।
দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। তবে ভালেন্সিয়া পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ায় ডি-বক্সে ঢুকেও গোলের ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করা যাচ্ছিল না। অবশেষে ৬৩তম মিনিটে কাঙ্খিত গোলটি আসে মেসির ডান পা থেকে। বাঁ দিক থেকে জরদি আলবার নীচু ক্রসে বল জালে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারের ৫০০তম গোলের মাইলফলকে পৌঁছে যান পাঁচবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার। গত পাঁচ ম্যাচ গোলশূন্য থাকার পর এল বার্সেলোনার হয়ে ৪৫০তম গোলটি। ক্যারিয়ারের অন্য ৫০টি গোল মেসি করেছেন আর্জেন্টিনার হয়ে। সেই গোলের পর বার্সেলোনা আর কোন গোল করতে পারেনি। ১৩ বছর পর লা লিগায় টানা তিনটি ম্যাচ হারলো বার্সেলোনা। এর আগে ২০০৩ সালের ফেব্রæয়ারিতে টানা তিনটি ম্যাচ হেরেছিল তারা। এই হারের পরও কোচ লুইস এনরিক চিন্তিত নন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের পাঁচটি জয় লাগবে। আর এটা করার সামর্থ্য যদি কোনো দলের থাকে, তাহলে সেটা বার্সেলোনারই আছে। আমরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কিন্তু বাকি পাঁচ ম্যাচ জিতলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হব।’ তবে এই হারে অনেকে খেলোয়াড়দের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। কিন্তু বার্সার কোচ তা মনে করেন না, ‘আমি শুধু আমার খেলোয়াড়দের প্রশংসাই করতে পারি। তাদের সমালোচনা করার কোনো কারণ নেই। সা¤প্রতিক হতাশার পরও আমরা ভালো সাড়া দিয়েছি বলে মনে করি আমি। শুধু ভাগ্যের সহায়তা পাইনি আমরা। আমাদের দরকার ছিল খালি একটি গোলের। আমরা তা পেয়েছি, কিন্তু ভুল জালে।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s