look+at+a+screen+all+dayদৈনন্দিন জীবনে, জীবিকার তাগিদে অফিসে ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার কুফল সম্পর্কে নতুন করে বলার হয়ত দেমন কিছু নেই, তবে সাম্প্রতিককালে এ সংক্রান্ত ভীতিকর আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কম্পিউটার, স্মার্টফোন ও ট্যাবের মতো ডিভাইসগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যেমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে, তেমন এসব ডিভাইস ছাড়া আমাদের অনেকেরই কর্মক্ষেত্র অচল। তবে সারাদিন স্ক্রিনে চোখ বসিয়ে রাখার ফলে অনেক অফিসকর্মীই চোখের ভয়াবহ কিছু জটিলতায় ভুগছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে চোখের যন্ত্রণা ও লাল হয়ে যাওয়া থেকে ভুগছেন এমন বিপুল সংখ্যক রোগীর কথা জানিয়েছে মুরফিল্ড আই হসপিটাল।
ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বহু রোগীই চোখের শুষ্কতা, ক্লান্তি, ফোলাভাব ও রুক্ষতাকে লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুরফিল্ডস-এর চিকিৎসক ড্যানিয়েল এজরা বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে মানুষ তাদের চোখ লাল হয়ে থাকা এবং অস্বস্তি হওয়া সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন।”
এ ছাড়াও চোখকে যথেষ্ট পরিমাণ বিশ্রাম না দেওয়ার ক্ষতিকারক দিকগুলো এখানেই শেষ নয়, এবং সুস্থ দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে এসব দিক অবহেলা করারও কোনো উপায় নেই।
ড. এজরা জানান, স্ক্রিন ব্যবহারকারী লন্ডন নাগরিকদের মধ্যে শতকরা আনুমানিক প্রায় ১৫ শতাংশই ব্লেফ্যারাইটিস রোগে আক্রান্ত। এ রোগে চোখের পাতার ধারগুলো লাল হয়ে ফুলে যায়।

কারণ:
চোখের পাতা ফেলার ব্যাপারটি আমাদের চোখের কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চোখের পাতা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখের অকুলার সার্ফেস-এর ওপর জলীয় অশ্রু ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ট্যাবের মতো বেশি উজ্জ্বলতার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখের পাতা ফেলার হার শতকরা ষাট শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।
চোখের পাতা ফেলা থেমে গেলে অক্ষিগোলকের পৃষ্ঠের পাতলা অশ্রু আবরণ শুকিয়ে যায়, ফলে কর্ণিয়ার আশপাশের কোষে টান পড়ে। এতে অস্বস্তিবোধ এবং চোখে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেমের কারণেও চোখের অশ্রু আবরণ শুকিয়ে যেতে পারে।

সমাধান:
শহুরে নাগরিক জীবনের ইঁদুর দৌঁড় ছেঁড়েছুঁড়ে গ্রামাঞ্চলে চলে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না হলেও চোখের সুস্থতার কথা চিন্তা করে ছোটখাটো কিছু সতর্কতা তো অবলম্বন করতেই পারি আমরা।
১। কম্পিউটারের সামনে বসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সংখ্যায় চোখের পাতা ফেলার অভ্যাস করার চেষ্টা করুন।
২। নির্দিষ্ট সময় পর পর স্ক্রিনের সামনে থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে চোখের বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।
৩। ই-বুক পড়ার অভ্যাস থাকলে স্মার্টফোন, ট্যাব বা কম্পিউটারের পরিবর্তে কম উজ্জ্বল স্ক্রিনের কিন্ডল বা অন্যান্য ই-বুক রিডার ব্যবহার করুন।
৪। চোখের অসুস্থতার লক্ষণগুলো কাটাতে আই ড্রপ সহায়ক হতে পারে।
৫। তারপরও যদি এ লক্ষণগুলো রয়ে যায় তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।